মো: রাজ হাওলাদার
মোংলা প্রতিনিধি:
মোংলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও পৌর মৎস্যজীবী দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহে আলম হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে মোংলা। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় মোংলা পোর্ট পৌরসভা চত্বরে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ ও নিহতের স্বজনদের আয়োজনে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল মাহে আলমকে অপহরণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী এক নেতার হস্তক্ষেপে এবং পুলিশি যোগসাজশে বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে ৬৬ বছর বয়সী মুসলিম মাহে আলমের লাশকে ২২ বছরের খ্রিস্টান যুবক ‘হিলটন নাথ’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ভুয়া সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত রিপোর্টের মাধ্যমে দাকোপ থানা থেকে তড়িঘড়ি করে লাশটি বনদস্যু বিল্লাল সর্দার ও তার সহযোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), মোংলার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. নূর আলম শেখ। প্রধান বক্তা হিসেবে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক বলেন, “ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে পিবিআই মামলার তদন্ত করলেও প্রতিবেদন জমা দিতে গড়িমশি করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
নিহত মাহে আলমের ছেলে এবং মামলার বাদী সুমন রানা তার বক্তব্যে বলেন, “আমার বাবাকে অপহরণ ও লাশ গুমের মূল হোতা চিলার বনদস্যু বিল্লাল সর্দার ও তার ভাইপো বেলায়েত সর্দারকে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। তারাই প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বাবার লাশকে হিলটন নাথ সাজিয়ে দাফন করেছিল। আমরা অবিলম্বে পিবিআই-এর স্বচ্ছ তদন্ত ও খুনিদের ফাঁসি চাই।”
: উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার ৩ দিন পর সুন্দরবনের করমজল এলাকা থেকে মাহে আলমের লাশ উদ্ধার করা হয়। তৎকালীন প্রশাসনের সহায়তায় পরিচয় গোপন করে অন্য ধর্মের নামে লাশ দাফন করা হলেও পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ৭ মাস পর ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে সত্য বেরিয়ে আসে। এরপর লাশ উত্তোলন করে পুনরায় ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক মোংলা কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল।
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নিহতের ছোট ভাই মো. জসিম উদ্দিন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর খোরশেদ আলম, বিএনপি নেতা শাহজাহান ফকির, বাবুল হোসেন রনি, মো. নাসির তালুকদার, গোলাম নূর জনি, বাবলু ভূঁইয়া এবং শ্রমিক নেতা আব্দুস সালাম ব্যাপারীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা নবনির্বাচিত সরকারের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জোর দাবি জানান।