ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই আন্দোলনে বিএনপির ৭৩৪ নেতাকর্মীর স্মরণে পিরোজপুরে ৭৩৪টি গাছের চারা রোপণ নির্মল অম্বিকায় আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে মাদক, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাই প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মোজাম্মেল হোসেন মৃধার দোয়া ও সমর্থন কামনা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী কালীগঞ্জে বিধবার সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে : উনো ইয়োশিমাসা বান্দরবানে ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ বিদুৎ খরচ না করেও বেশি বিল দিতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে হিলি সাব-জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে রানা ছিটকে যাওয়ায় হতাশ বিশপ তাহিরপুরে জমি বিরোধে মা/মলা করায় নারীসহ ৬ জনকে কু/পিয়ে জখম

নজরুলবর্ষ উদযাপনে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানবিনিময় ও গবেষণা সেমিনার

মোঃ আব্দুল কাদেরঃ
স্টাফ রিপোর্টার ময়মনসিংহঃ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে নজরুলবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একক বক্তৃতা ও গবেষণা প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কবি, নজরুল গবেষক ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি জুলাই আন্দোলনের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে নানা সময় বিভিন্ন ভুল তথ্য ও কল্পকাহিনি প্রচার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নজরুল কখনো রুটির দোকানে বেলনা দিয়ে রুটি তৈরি করেননি; বরং একটি বেকারিতে বনরুটি ও পাউরুটি তৈরির কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, কবি নজরুল ছিলেন অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। সাহিত্য, সংগীত, খেলাধুলাসহ নানা ক্ষেত্রে তাঁর ছিল অসামান্য প্রতিভা। দারোগা রফিজউল্লাহর উদ্যোগেই নজরুল ত্রিশালের মাটিতে এসেছিলেন। তাই তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো স্থাপনার নাম রফিজউল্লাহর নামে নামকরণের দাবি জানান তিনি।

আবদুল হাই শিকদার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে নজরুলের সম্পর্ক আত্মার সঙ্গে দেহের সম্পর্কের মতোই গভীর। নজরুলের প্রতিটি শব্দ অন্যায়, শোষণ ও ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের আহ্বান বহন করে। তিনি ছিলেন গণমুখী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম প্রতীক। নজরুলচর্চা বিস্তারের মাধ্যমে একটি মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে নজরুলচেতনা বিশেষভাবে স্থান করে নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন, স্থাপনা ও যানবাহনের নামকরণেও নজরুলের সৃষ্টিকর্মের প্রতিফলন রয়েছে। তবে কেবল নাম জানাই যথেষ্ট নয়; তাঁর সাহিত্য ও দর্শনের গভীরে প্রবেশ করে সেই চেতনা ধারণ করতে হবে। তিনি বলেন, নজরুলের প্রতিটি সৃষ্টির শিরোনামই যেন শক্তিশালী প্রতিবাদের প্রতীক। তাঁর রচনাগুলো বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আরও ব্যাপক স্বীকৃতি অর্জন করতেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. বখতিয়ার উদ্দিন, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ (রাশেদ-সুখন) এবং আইন অনুষদের ডিন মুহাম্মদ ইরফান আজিজ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের অতিরিক্ত পরিচালক রাশেদুল আনাম।পরে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর অর্থায়নে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের গবেষণা প্রকল্পের অগ্রগতি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের ৩৮টি গবেষণা প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। গবেষণা প্রকল্প মূল্যায়ন করেন নজরুল গবেষক প্রফেসর ড. রশিদুন নবী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও নজরুল গবেষক প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা প্রিন্স)।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই আন্দোলনে বিএনপির ৭৩৪ নেতাকর্মীর স্মরণে পিরোজপুরে ৭৩৪টি গাছের চারা রোপণ

নজরুলবর্ষ উদযাপনে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানবিনিময় ও গবেষণা সেমিনার

আপডেট টাইম : ০৬:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

মোঃ আব্দুল কাদেরঃ
স্টাফ রিপোর্টার ময়মনসিংহঃ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে নজরুলবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একক বক্তৃতা ও গবেষণা প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কবি, নজরুল গবেষক ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি জুলাই আন্দোলনের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে নানা সময় বিভিন্ন ভুল তথ্য ও কল্পকাহিনি প্রচার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নজরুল কখনো রুটির দোকানে বেলনা দিয়ে রুটি তৈরি করেননি; বরং একটি বেকারিতে বনরুটি ও পাউরুটি তৈরির কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, কবি নজরুল ছিলেন অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। সাহিত্য, সংগীত, খেলাধুলাসহ নানা ক্ষেত্রে তাঁর ছিল অসামান্য প্রতিভা। দারোগা রফিজউল্লাহর উদ্যোগেই নজরুল ত্রিশালের মাটিতে এসেছিলেন। তাই তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো স্থাপনার নাম রফিজউল্লাহর নামে নামকরণের দাবি জানান তিনি।

আবদুল হাই শিকদার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে নজরুলের সম্পর্ক আত্মার সঙ্গে দেহের সম্পর্কের মতোই গভীর। নজরুলের প্রতিটি শব্দ অন্যায়, শোষণ ও ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের আহ্বান বহন করে। তিনি ছিলেন গণমুখী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম প্রতীক। নজরুলচর্চা বিস্তারের মাধ্যমে একটি মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে নজরুলচেতনা বিশেষভাবে স্থান করে নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন, স্থাপনা ও যানবাহনের নামকরণেও নজরুলের সৃষ্টিকর্মের প্রতিফলন রয়েছে। তবে কেবল নাম জানাই যথেষ্ট নয়; তাঁর সাহিত্য ও দর্শনের গভীরে প্রবেশ করে সেই চেতনা ধারণ করতে হবে। তিনি বলেন, নজরুলের প্রতিটি সৃষ্টির শিরোনামই যেন শক্তিশালী প্রতিবাদের প্রতীক। তাঁর রচনাগুলো বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আরও ব্যাপক স্বীকৃতি অর্জন করতেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. বখতিয়ার উদ্দিন, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ (রাশেদ-সুখন) এবং আইন অনুষদের ডিন মুহাম্মদ ইরফান আজিজ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের অতিরিক্ত পরিচালক রাশেদুল আনাম।পরে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর অর্থায়নে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের গবেষণা প্রকল্পের অগ্রগতি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের ৩৮টি গবেষণা প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। গবেষণা প্রকল্প মূল্যায়ন করেন নজরুল গবেষক প্রফেসর ড. রশিদুন নবী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও নজরুল গবেষক প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা প্রিন্স)।


প্রিন্ট