স্টাফ রিপোর্টার:
মানবিক সেবা, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে আসা জাতীয় ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী ও মানবাধিকার সংস্থা Victory For Aid Rights & Development Society (VARDS) সরকারি ভাবে নিবন্ধন লাভ করেছে।
২০২৩ সাল থেকে মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংস্থা সমাজের প্রান্তিক, অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী, খাবার ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অসহায় ও দুস্থ রোগীদের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিও পরিচালনা করে আসছে সংস্থাটি।
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ফিউচার মডেল স্কুল
সংস্থার- উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে সমাজের প্রান্তিক, ঝরে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য “ফিউচার মডেল স্কুল” নামে একটি ফ্রি স্কুল পরিচালনা।
বিদ্যালয়টিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে পাঠদানের পাশাপাশি তাদের সামগ্রিক বিকাশের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মাসিক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, পুষ্টিকর খাবার বিতরণ, বই, খাতা, কলম ও পোশাক বিতরণ, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক শিক্ষার চর্চা।
এছাড়া সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরি এবং অমনোযোগী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থাও রয়েছে।
সংস্থার চেয়ারম্যান এম,এস,এ রেজা বলেন, “মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ২০২৩ সালে যে মানবিক যাত্রা শুরু হয়েছিল, সরকারি নিবন্ধন লাভের মাধ্যমে সেই পথচলা আরও সুসংগঠিত ও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা চাই, সমাজের কোনো মানুষ যেন শুধু অর্থের অভাবে শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা মৌলিক মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন।”
তিনি আরও বলেন, “ফিউচার মডেল স্কুল- এর মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি সমাজ গঠনে সংস্থা- ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে।
সংস্থার মহাসচিব শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের সংস্থা- কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের জন্য নয়, বরং সমাজের অসহায়, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি মানবিক প্ল্যাটফর্ম। সরকারি ভাবে নিবন্ধন লাভ আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন আরও পরিকল্পিত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।”
তিনি বলেন, “শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে “ফিউচার মডেল স্কুল- এর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষের সহযোগিতা পেলে এই মানবিক কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।”
সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুমি বেগম বলেন, “একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো শিক্ষা। কিন্তু সমাজের অনেক ঝরে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত শিশু অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের কথা বিবেচনা করেই “ফিউচার মডেল স্কুল-এ বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু বই-পুস্তকের শিক্ষা নয়, আমরা শিশুদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার মাধ্যমে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্প, পুষ্টিকর খাবার এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।”
তিনি বলেন, “সরকারি ভাবে সংস্থা- নিবন্ধন লাভ আমাদের কার্যক্রমকে আরও উৎসাহিত করেছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে শিক্ষার আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের জন্য একটি নিরাপদ, আনন্দময় ও মানবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
সংস্থার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছে, সরকারি নিবন্ধনের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
মানবতার সেবায়, মানুষের অধিকারের পক্ষে এবং সামাজিক উন্নয়নের প্রত্যয়ে সংস্থার এই পথচলা অব্যাহত থাকবে।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 



















