রিমন হোসেন, সৌদি আরবঃ
ভালো বেতনের ভালো কাজের প্রলোভনে পড়ে সৌদি আরবে গিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন মৌলভীবাজারের এক নারী প্রবাসী। দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টা হাড়ভাঙা খাটুনি, ওভারটাইমের অস্বীকৃতি, শারীরিক নির্যাতন এবং অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা না দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে কফিলের (মালিক) ঘরে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটছে তার। দ্রুত দেশে ফিরে আসার আকুতি জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী। ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্থায়ী ঠিকানা মৌলভীবাজার বুদ্ধিমন্তপুর।
পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে এবং উন্নত জীবনের আশায় প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে পাড়ি জমান রোজিনা আক্তার। স্থানীয় ‘রতন এয়ার সার্ভিস’-এর মালিক রতন দেব তাকে খাদ্দামা (গৃহকর্মী) ভিসায় সৌদি আরব পাঠান। কিন্তু দেশটিতে পৌঁছানোর পর থেকেই পাল্টে যেতে শুরু করে পরিস্থিতি। দালাল ও কফিলের দেওয়া আশ্বাসের সাথে বাস্তবের কোনো মিল পায়নি ভুক্তভোগী।
১৫ ঘণ্টার শ্রম ও অমানবিক নির্যাতন রোজিনা আক্তারের অভিযোগ অনুযায়ী, সৌদি আরব পৌঁছানোর পর থেকেই তাকে দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১৫ ঘণ্টা কাজ করানো হচ্ছে। কিন্তু নিয়মানুযায়ী অতিরিক্ত কাজের জন্য কোনো ওভারটাইমের ব্যবস্থা করা হয়নি। টানা এই ধকল ও অনিয়মের কারণে তিনি শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
অসুস্থ হওয়ার পর কফিলের কাছে চিকিৎসার দাবি জানালে উল্টো ক্ষিপ্ত হন কফিল। চিকিৎসার খরচ ভুক্তভোগী রোজিনার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় এবং অসুস্থ অবস্থাতেই তাকে জোরপূর্বক কাজে বাধ্য করা হয়। কাজে সামান্য বিরতি দিলেই শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ দেশে ফিরে আসার আকুতি জানালে কফিল ও সংশ্লিষ্টরা তাকে কোনো ব্যবস্থা না করে উল্টো একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরিবারের সাথে তার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ইন্টারনেট সংযোগও মাঝে মাঝে ইচ্ছাকৃতভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়, যাতে তিনি দেশের কারো সাথে যোগাযোগ করতে না পারেন।
পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে ভুক্তভোগী রোজিনা আক্তার তাকে সৌদি পাঠানো দালাল রতন দেবের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযুক্ত রতন দেব পুরো ঘটনার দায়ভার সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং একপর্যায়ে রোজিনার সাথে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এই বিষয়ে অভিযুক্ত দালাল রতন দেব-এর সাথে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোনে চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সরকারের প্রতি আকুতি পরিবার ও নিজ দেশে ফিরে আসার জন্য আকুল হয়ে উঠেছেন ভুক্তভোগী রোজিনা আক্তার। এমতাবস্থায়, তাকে কফিলের বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করে দ্রুত নিরাপদ উপায়ে দেশে ফিরিয়ে আনতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 



















