ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘আনলকিং ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনস ফর ইয়ুথ এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট’প্রকল্পের সমাপনী সভা বিআরটিসির মহিলা বাস সার্ভিস আরও সম্প্রসারণ করা হবে: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ভিত্তিক ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ উদ্বোধন উলিপুরে ইয়া/বা, গা/জা ও মা/দক বিক্রয়ের নগদ টাকা সহ মা/দ/ক ব্যবসায়ী গ্রে/প্তার পিরোজপুরে খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় রিলিজ স্লিপের আবেদন শুরু আজ বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়া দলে পরিবর্তন ইরান চুক্তিতে ‘বাধা হলে’ মার্কিন মিত্র ওমানে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের কালীগঞ্জে দলীয় পরিচয় দিয়ে প্রবাসীর জমি জবরদখলের অভিযোগ ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশে এখন আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী

কালিয়াকৈরে ক্যারাম ও মোবাইল অনলাইন জুয়া ক্যাসিনো গেইম খেলে নিস্ব নানা সাধারণ পরিবার

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর(গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ

 

কালিয়াকৈর উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় জুড়ে বিনোদনের আড়ালে গড়ে উঠেছে রমরমা অনলাইন মোবাইল জুয়া খেলে নিস্ব হচ্ছে সাধারণ পরিবার। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকানে এখন প্রকাশ্যে চলছে ক্যারাম খেলা। তবে এটি কেবল খেলা নয়, এর আড়ালে চলছে রমরমা জুয়ার আসর। এতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ আসক্ত হয়ে পড়ছে। আমাদের প্রতিনিধির ক্যামেরায় ধরা পড়েছে কালিয়াকৈরের একটি চায়ের দোকানে ক্যারাম বোর্ড ঘিরে তরুণদের ভিড়। সকাল-সন্ধ্যা এভাবেই চলে জুয়ার আসর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক, কালিয়াকৈর সদর, রামচন্দ্রপুরসহ প্রায় ৮০ এরও বেশি চায়ের দোকানে ক্যারাম বোর্ড বসানো হয়েছে। চন্দ্রা বাজার, সফিপুর বাজার, কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড ও তেলিপাড়া এলাকায় সকাল ১০টা থেকে গভীর রাত ২টা পর্যন্ত চলে এই আসর। প্রতি গেমে ৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাজি ধরা হচ্ছে। হার-জিতের নেশায় সর্বস্ব হারাচ্ছে কিশোর ও যুবকরা।

স্থানীয়রা জানান, অনেক দোকানে ক্যারামের পাশাপাশি মোবাইলে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো গেমও খেলা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা টিফিন ও বাসা থেকে চুরি করা টাকা এনে জুয়ায় হারাচ্ছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, মাদকের পাশাপাশি এই জুয়ার আসরগুলো যুবসমাজকে পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। স্কুল ফাঁকি দিয়ে, টিউশনির টাকা মেরে অনেক ছাত্র এখন জুয়ার আসরে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সামাজিক অস্থিরতা ও চুরি-ছিনতাই আরও বাড়বে।

কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের এক শিক্ষক বলেন, আমাদের অনেক মেধাবী ছাত্র এখন ক্লাসে আসে না। খোঁজ নিয়ে দেখি তারা চন্দ্রা-সফিপুরের ক্যারাম বোর্ডে বসে থাকে। এটা জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম ভাষায় বলেন, ক্যারাম খেলার নামে জুয়ার আসর বসার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। আমি স্পষ্ট করে বলছি, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে উপজেলার প্রতিটি পয়েন্টে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। যেখানেই কেরাম বোর্ডের আড়ালে জুয়া পাওয়া যাবে সেখানেই বোর্ড জব্দ, জুয়াড়িদের গ্রেফতার করে জেল-জরিমানা করা হবে। অপরাধী যেই হোক, সে নেতা হোক আর জনপ্রতিনিধি হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, এ ধরনের কর্মকা- সমাজ ও পরিবেশ নষ্ট করছে। জুয়াড়ি ও তাদের মত দাতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কালিয়াকৈরকে অপরাধমুক্ত রাখতে আমরা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘আনলকিং ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনস ফর ইয়ুথ এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট’প্রকল্পের সমাপনী সভা

কালিয়াকৈরে ক্যারাম ও মোবাইল অনলাইন জুয়া ক্যাসিনো গেইম খেলে নিস্ব নানা সাধারণ পরিবার

আপডেট টাইম : ১২:২৮:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর(গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ

 

কালিয়াকৈর উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় জুড়ে বিনোদনের আড়ালে গড়ে উঠেছে রমরমা অনলাইন মোবাইল জুয়া খেলে নিস্ব হচ্ছে সাধারণ পরিবার। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকানে এখন প্রকাশ্যে চলছে ক্যারাম খেলা। তবে এটি কেবল খেলা নয়, এর আড়ালে চলছে রমরমা জুয়ার আসর। এতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ আসক্ত হয়ে পড়ছে। আমাদের প্রতিনিধির ক্যামেরায় ধরা পড়েছে কালিয়াকৈরের একটি চায়ের দোকানে ক্যারাম বোর্ড ঘিরে তরুণদের ভিড়। সকাল-সন্ধ্যা এভাবেই চলে জুয়ার আসর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক, কালিয়াকৈর সদর, রামচন্দ্রপুরসহ প্রায় ৮০ এরও বেশি চায়ের দোকানে ক্যারাম বোর্ড বসানো হয়েছে। চন্দ্রা বাজার, সফিপুর বাজার, কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড ও তেলিপাড়া এলাকায় সকাল ১০টা থেকে গভীর রাত ২টা পর্যন্ত চলে এই আসর। প্রতি গেমে ৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাজি ধরা হচ্ছে। হার-জিতের নেশায় সর্বস্ব হারাচ্ছে কিশোর ও যুবকরা।

স্থানীয়রা জানান, অনেক দোকানে ক্যারামের পাশাপাশি মোবাইলে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো গেমও খেলা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা টিফিন ও বাসা থেকে চুরি করা টাকা এনে জুয়ায় হারাচ্ছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, মাদকের পাশাপাশি এই জুয়ার আসরগুলো যুবসমাজকে পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। স্কুল ফাঁকি দিয়ে, টিউশনির টাকা মেরে অনেক ছাত্র এখন জুয়ার আসরে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সামাজিক অস্থিরতা ও চুরি-ছিনতাই আরও বাড়বে।

কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের এক শিক্ষক বলেন, আমাদের অনেক মেধাবী ছাত্র এখন ক্লাসে আসে না। খোঁজ নিয়ে দেখি তারা চন্দ্রা-সফিপুরের ক্যারাম বোর্ডে বসে থাকে। এটা জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম ভাষায় বলেন, ক্যারাম খেলার নামে জুয়ার আসর বসার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। আমি স্পষ্ট করে বলছি, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে উপজেলার প্রতিটি পয়েন্টে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। যেখানেই কেরাম বোর্ডের আড়ালে জুয়া পাওয়া যাবে সেখানেই বোর্ড জব্দ, জুয়াড়িদের গ্রেফতার করে জেল-জরিমানা করা হবে। অপরাধী যেই হোক, সে নেতা হোক আর জনপ্রতিনিধি হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, এ ধরনের কর্মকা- সমাজ ও পরিবেশ নষ্ট করছে। জুয়াড়ি ও তাদের মত দাতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কালিয়াকৈরকে অপরাধমুক্ত রাখতে আমরা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।


প্রিন্ট