ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ধনবাড়ীতে সাবেক মেয়রের সম্পত্তিতে নজর ভূমিদস্যুদের, দোকানঘর জবর দখলের চেষ্টা চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী যশোরে ৭ টন নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর মাছ জব্দ ভক্তদের দুঃশ্চিন্তা দূর করলেন শাহরুখ খান হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে : রিজভী প্রথম ৬ মাসে কমার পর আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৬% খালেদ সত্যিই চমৎকার বোলিং করেছে : মিলনেস মক্কায় ড্রোন হামলা চেষ্টার তীব্র নিন্দা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর খালেদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথম দিন অলআউট ল্যাঙ্কাশায়ার র‌্যাব বিলুপ্ত, নতুন বিশেষায়িত ইউনিট ‘এসআরবি’

ধনবাড়ীতে সাবেক মেয়রের সম্পত্তিতে নজর ভূমিদস্যুদের, দোকানঘর জবর দখলের চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল):

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী বাজারে পৌরসভার সাবেক মেয়র মরহুম বদিউল আলম মঞ্জুর বৈধভাবে ক্রয়কৃত সম্পত্তি ও দোকানঘর জবরদখলের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় রাজমিস্ত্রি শ্রমিক অফিসের নাম ভাঙিয়ে কতিপয় অসাধু চক্র রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই দখলযজ্ঞ চালানোর পাঁয়তারা করছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। সম্পত্তির নামজারি (খারিজ) কার্যক্রমে বাধা দেওয়াসহ নানাভাবে হয়রানির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক মেয়রের স্বজনরা।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৮ জুলাই (দলিল নং- ১৯৫৮) মোহন পাল রাজভর ও তার স্ত্রী বেহলী রাজভর ওয়ারিশসূত্রে মালিক হয়ে ওই জমির কিছু অংশ আ. জব্বার ডাক্তার নিকট বিক্রি করেন। পরবর্তীতে উক্ত সম্পত্তির ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হয়ে মো. তোফাজ্জল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম এবং আ. রহিম ২০০৫ সালের ২৩ জুন (সাব-কাবলা দলিল নং- ৪৮২৭ মূলে) ধনবাড়ী বাজারের ভেতরের ৩ শতাংশ জমি ধনবাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র মরহুম বদিউল আলম মঞ্জুর কাছে বিক্রি করেন।

জমি ক্রয়ের পর সাবেক মেয়র বদিউল আলম মঞ্জু বৈধভাবে মালিকানা লাভ করে ২০০৫ সালের ২৩ জুন (সাব-কাবলা দলিল নং- ৪৮২৭ মূলে) মালিক হইয়া তিনি ঐ দিন শ্রমিক অফিস ১.৫০ শতাংশ জমি নিজ নামে দলিল করে দেন। পরে বিআরএস রেকর্ডে (চূড়ান্ত খতিয়ান নং- ৩৪৫৬, হাল দাগ নং- ৪৮০১) নিজ নামে অন্তর্ভুক্ত করেন। ক্রয়কৃত ৩ শতাংশ নিজ নামে রেকড করান। স্থানীয় নিমাণমিস্ত্রি শ্রমিক অফিসের উক্ত জমি নামজারি করে তিনতলা ভবন নির্মাণপূর্বক ভোগদখলে রয়েছে। অন্যদিকে, অবশিষ্ট ১.৫০ শতাংশ জমিতে সাবেক মেয়র বদিউল আলম মঞ্জু দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেন, যা এখনো তার পরিবারের ভোগদখলে রয়েছে।

সাবেক মেয়র বদিউল আলম মঞ্জুর অকাল মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশরা তাদের ভোগদখলীয় ১.৫০ শতাংশ সম্পত্তির নামজারির (খারিজ) জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে আবেদন করেন। ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার (নায়েব) কার্যালয় থেকে সরেজমিন তদন্ত শেষে ধনবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর ইতিবাচক প্রতিবেদনও পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারি প্রক্রিয়ার এই পর্যায়ে এসে নির্মান শ্রমিক অফিসের কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের দাবি করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তারা ভূমি অফিসে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে নামজারি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করছে এবং নানা অপকৌশল ব্যবহার করে ভাড়া দেওয়া দোকানগুলো জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এ বিষয়ে মরহুম বদিউল আলম মঞ্জুর ছেলে শাহারিয়ার আলম শিবলু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার বাবার বৈধভাবে ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে আমাদের দোকান রয়েছে, যা বর্তমানে ভাড়া দেওয়া আছে। বাবার মৃত্যুর পর আমরা ওয়ারিশরা ওই সম্পত্তির নামজারির আবেদন করলে একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন অপকৌশল ব্যবহার করে আমাদের দোকান বেদখল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।”


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ধনবাড়ীতে সাবেক মেয়রের সম্পত্তিতে নজর ভূমিদস্যুদের, দোকানঘর জবর দখলের চেষ্টা

ধনবাড়ীতে সাবেক মেয়রের সম্পত্তিতে নজর ভূমিদস্যুদের, দোকানঘর জবর দখলের চেষ্টা

আপডেট টাইম : ০৯:০২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল):

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী বাজারে পৌরসভার সাবেক মেয়র মরহুম বদিউল আলম মঞ্জুর বৈধভাবে ক্রয়কৃত সম্পত্তি ও দোকানঘর জবরদখলের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় রাজমিস্ত্রি শ্রমিক অফিসের নাম ভাঙিয়ে কতিপয় অসাধু চক্র রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই দখলযজ্ঞ চালানোর পাঁয়তারা করছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। সম্পত্তির নামজারি (খারিজ) কার্যক্রমে বাধা দেওয়াসহ নানাভাবে হয়রানির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক মেয়রের স্বজনরা।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৮ জুলাই (দলিল নং- ১৯৫৮) মোহন পাল রাজভর ও তার স্ত্রী বেহলী রাজভর ওয়ারিশসূত্রে মালিক হয়ে ওই জমির কিছু অংশ আ. জব্বার ডাক্তার নিকট বিক্রি করেন। পরবর্তীতে উক্ত সম্পত্তির ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হয়ে মো. তোফাজ্জল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম এবং আ. রহিম ২০০৫ সালের ২৩ জুন (সাব-কাবলা দলিল নং- ৪৮২৭ মূলে) ধনবাড়ী বাজারের ভেতরের ৩ শতাংশ জমি ধনবাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র মরহুম বদিউল আলম মঞ্জুর কাছে বিক্রি করেন।

জমি ক্রয়ের পর সাবেক মেয়র বদিউল আলম মঞ্জু বৈধভাবে মালিকানা লাভ করে ২০০৫ সালের ২৩ জুন (সাব-কাবলা দলিল নং- ৪৮২৭ মূলে) মালিক হইয়া তিনি ঐ দিন শ্রমিক অফিস ১.৫০ শতাংশ জমি নিজ নামে দলিল করে দেন। পরে বিআরএস রেকর্ডে (চূড়ান্ত খতিয়ান নং- ৩৪৫৬, হাল দাগ নং- ৪৮০১) নিজ নামে অন্তর্ভুক্ত করেন। ক্রয়কৃত ৩ শতাংশ নিজ নামে রেকড করান। স্থানীয় নিমাণমিস্ত্রি শ্রমিক অফিসের উক্ত জমি নামজারি করে তিনতলা ভবন নির্মাণপূর্বক ভোগদখলে রয়েছে। অন্যদিকে, অবশিষ্ট ১.৫০ শতাংশ জমিতে সাবেক মেয়র বদিউল আলম মঞ্জু দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেন, যা এখনো তার পরিবারের ভোগদখলে রয়েছে।

সাবেক মেয়র বদিউল আলম মঞ্জুর অকাল মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশরা তাদের ভোগদখলীয় ১.৫০ শতাংশ সম্পত্তির নামজারির (খারিজ) জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে আবেদন করেন। ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার (নায়েব) কার্যালয় থেকে সরেজমিন তদন্ত শেষে ধনবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর ইতিবাচক প্রতিবেদনও পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারি প্রক্রিয়ার এই পর্যায়ে এসে নির্মান শ্রমিক অফিসের কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের দাবি করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তারা ভূমি অফিসে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে নামজারি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করছে এবং নানা অপকৌশল ব্যবহার করে ভাড়া দেওয়া দোকানগুলো জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এ বিষয়ে মরহুম বদিউল আলম মঞ্জুর ছেলে শাহারিয়ার আলম শিবলু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার বাবার বৈধভাবে ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে আমাদের দোকান রয়েছে, যা বর্তমানে ভাড়া দেওয়া আছে। বাবার মৃত্যুর পর আমরা ওয়ারিশরা ওই সম্পত্তির নামজারির আবেদন করলে একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন অপকৌশল ব্যবহার করে আমাদের দোকান বেদখল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।”


প্রিন্ট