মঙ্গলবার, ০১ এপ্রিল ২০২৫, ০১:২৫ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
মালয়েশিয়ায় গ্যাস পাইপলাইনে লিক থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে : খালেদা জিয়া ঈদুল ফিতরে ড. ইউনূসকে মোদির বার্তা জাতীয় ঈদগাহে নামাজ পড়েন প্রধান উপদেষ্টা, বিকালে শুভেচ্ছা বিনিময় জাতীয় মসজিদে ঈদের জামাতে মুসল্লিদের ঢল চব্বিশের শহিদ ও আহত পরিবারকে ঈদ উপহার দিলেন বিএনপি নেতা আমিনুল হক ঠাকুরগাঁওয়ে শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে শ্যালকের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে ফুপা গ্রেফতার । ঠাকুরগাঁওয়ে এসএসসি-২০০০ কিংবদন্তী বন্ধুবৃত্ত’র ঈদ উপহার চাল বিতরণ । মোহাম্মদপুরে গরীব ও অসহায় মানুষের মাঝে শ্রমিকদলের ঈদ সামগ্রী বিতরণ জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে পরিপূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে- আমিনুল হক

নুসরাতের স্বামীর কললিস্ট’ই এখন এই মামলার গতিধারায় ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ মে, ২০২১
  • ২৪৫ বার পঠিত

শারুন-নুসরাত সম্পর্কের সূত্র ধরেই বের হয়ে আসছে মুনিয়ার মৃত্যু রহস্য। নুসরাতের স্বামীর কললিস্ট’ই এখন এই মামলার গতিধারায় ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’। এতেই বের হতে পারে গভীর সত্যাসত্য।

কৈশোরেই মুনিয়ার বিলাস জীবনাচরনের নেপথ্যে বোন নুসরাতের সম্পৃক্ততা ও উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে মুনিয়া এবং পিয়াসা সংযোগের বিস্তারিতও।

মুনিয়ার বোন নুসরাত তানিয়ার বিরুদ্ধে ভাইয়ের অভিযোগ সহ এই যাবত উত্থাপিত নানা আঙ্গিক এর তথ্যে এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, শারুনের ব্লু প্রিন্ট’ই বাস্তবায়ন করেছেন নুসরাত ?

মুনিয়াকে দিয়ে তার বোন নুসরাত কীভাবে কী লাভবান হয়েছেন, সেই নিয়েও চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য এসেছে পুলিশি তদন্তে । একইসাথে উঠে এসেছে হুইপ পুত্র শারুন চৌধুরীর বিরুদ্ধেও নতুন তথ্য।

শারুন-নুসরাত-মুনিয়ার সম্পর্কের সূত্র ধরে মুনিয়ার মৃত্যুতে শারুন নিজের বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা আড়াল করার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের এমডিকে ফাঁসাতেই নুসরাতকে ব্যবহার করেছেন- এমন ছককেও আমলে রেখেছে পুলিশ।

সব মিলিয়ে মুনিয়ার মৃত্যুরহস্য নাটকীয় মোড় নিয়েছে।

মুনিয়ার মৃত্যুর পর নুসরাতের দায়ের করা অপমৃত্যুর মামলা ও ঘটনার পূর্বাপর নুসরাতের কিছু আচরণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

শারুনের পক্ষেই নুসরাতের অবস্থান :
মুনিয়ার বোন নুসরাত মামলার বাদী হলেও পুলিশি তদন্তের আগেই যেরকমভাবে বসুন্ধরা গ্রুপ এমডির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ঢালাও বক্তব্য রাখছেন এবং মুনিয়ার সাথে সম্পর্কিত হুইপ পুত্র নাজমুল করিম শারুনের পক্ষে নুসরাতের নেয়া অবস্থানই সন্দেহের উদ্রেক ঘটেছে।

এদিকে মুনিয়ার ভাই কর্তৃক দায়ের মামলাতে হইপ পুত্র শারুনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠে আসায় ঘটনাটির নেপথ্যের নানা তথ্য ওঠে আসছে।

মুনিয়ার ভাই কর্তৃক দায়ের মামলাটিতে সুনির্দিষ্টভাবে শারুণ বাহিনীর কিলিং মিশনের বর্ণনা দেয়া হয়। বিজ্ঞ আদালত নিয়ম অনুযায়ী বোন নুসরাত কর্তৃক পূর্ববর্তী দায়ের অপমৃত্যু মামলার তদন্ত পর্যন্ত ভাইয়ের মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।

পৈতৃক সম্পত্তির দখলের অভিযোগও ওঠেছে মোসারাত জাহান মুনিয়ার বোন নুসরাতের বিরুদ্ধে। তাদের তার একমাত্র ভাই আশিকুর রহমান সবুজ ও চাচা শাহাদাত হোসেন সেলিমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি থানায় মামলাও করেন নুসরাত।

মুনিয়াকে ব্যবহার করেন নুসরাত-মিজান :
আশিকুর রহমান সবুজের দাবি, সেই মামলা দিয়ে মুনিয়াকে পরিবারের সবার কাছ থেকে আলাদা করে রাখেন নুসরাত। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় এককভাবে মুনিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ নেন নুসরাত ও ভগ্নিপতি মিজান। তারা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেন মুনিয়াকে।

নিজে কুমিল্লায় ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকলেও মুনিয়ার থাকার জন্য মাসে প্রায় ১ লাখ টাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া করেন গুলশানে। ওই ফ্ল্যাট ভাড়া নিতে নুসরাত ও তার স্বামী মিজানুর রহমানের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ঠিকানা ব্যবহার করেন।

অনুসন্ধানে প্রকাশ, মুনিয়ার মৃত্যুর পরপরই সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া মুনিয়া- শারুনের চ্যাট এর স্ক্রিনশট থেকে মুনিয়ার বোন নুসরাতের সাথে শারুনের সম্পর্কটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সেই চ্যাট এর স্ক্রিনশট শারুন কর্তৃক মুনিয়াকে ৫ লক্ষ টাকা প্রদান এবং মুনিয়ার বোন নুসরাতের কন্ঠে শারুনের প্রশংসা বাকের উল্লেখ ছিল। একই সাথে সেই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এ মুনিয়ার উদ্দেশ্যে শারুন লেখেন, ‘তুমি কিছু করলে বসুন্ধরা গ্রুপ শেষ হয়ে যাবে’।

এদিকে হুইপ পুত্র শারুনের প্রাক্তন স্ত্রী মীমও মুনিয়ার সাথে শারুনের পুরনো সম্পর্কের কথা জানান নিউজ ব্যাংক বাংলা ডট কমকে।

সব মিলিয়ে নুসরাতের অতিউৎসাহ এবং সরাসরি বসুন্ধরার এমডির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ইত্যাদি সবই হয়েছে শারুনের প্ররোচনায় এবং নির্দেশনায় হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। আর এই ঘটনার চাঞ্চল্যকর তথ্য উপাত্ত এখন সামনে চলে আসছে।

পুলিশের একটি সূত্রও জানায়, মুনিয়ার সঙ্গে শারুনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিলো এবং মুনিয়া শারুনকে ব্যবহার করতেন।এই ব্যবহারের বিষয়টি মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত তানিয়াও জানতেন।

পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা, নুসরাতকে দিয়েই শারুন তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের ব্যাংকার আকতার মোর্শেদ চৌধুরীর আত্মহত্যা প্ররোচনায় অভিযুক্ত হলে হুইপ পুত্র শারুন সাম্প্রতিক সময়ে বেশ চাপের মুখে ছিলেন। ব্যাংকারের আত্মহত্যা নিয়ে সারা দেশে যখন তোলপাড়, তখন ওই ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী সন্তান যখন ঢাকায় এসে বিচার দাবি করেন। সেসময় শারুনের অবস্থা হয়ে ওঠে বেগতিক। আর এ কারণে যেসব গণমাধ্যম এ ব্যাপারে সোচ্চার হয়, তাদেরকে একহাত দেখে নেয়ার নীলনকশা করেন শারুন।- এরকম চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে অনুন্ধানে।

নুসরাত, শারুন, মুনিয়ার ত্রিপক্ষীয় সম্পর্ক ছিলো।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নুসরাতের স্বামীর কললিস্ট পরখ করলেই অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে আসবে।

অনেকে মনে করছেন, যখন মুনিয়া আত্মহত্যা করলো তখনই নুসরাতের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন শারুন।

অভিন্ন সুত্রের ধারনা, পূর্বশত্রুতার জের ধরেই মুনিয়ার আত্মহত্যার জন্য বসুন্ধরার এমডিকে সরাসরি অভিযুক্ত করে মামলা দেয়ার পরামর্শ দেন শারুন। কারণ এতে ‘এক ঢিলে একাধিক পাখি মারা’ যাবে বলে এই পরিকল্পনা এটেছিলেন শারুন। এ কারণে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় সরাসরি একজনকেই অভিযুক্ত করে মামলা দেয়া হয়েছে। মুনিয়া যখন আত্মহত্যা করে তখন এই আত্মহত্যাকে কাজে লাগিয়ে তার প্রতিপক্ষকে, যারা তার ব্যাপারে সত্য প্রকাশ করেছে তাদেরকে ফাঁসিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে।মামলায় ব্যত্যয় :
পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, সাধারণত আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় কোনো ব্যক্তির নাম থাকে না। বলা হয়, যে কেউ হয়তো প্ররোচনা দিয়েছেন। এক্ষেত্রে এই ঘটনায় মামলার ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটেছে। নুসরাত মুনিয়ার মৃত্যুর পর থানায় ‍গিয়ে সরাসরি বসুন্ধরা এমডির বিরুদ্ধেই মামলা দিয়েছেন।

অন্যদিকে মুনিয়ার ভাইয়ের মামলাটিতে সরাসরি অভিযুক্ত হয়েছেন হুইপ পুত্র শারুন ও তার কিলার বাহিনী। ‌

দামি গাড়িগুলো কার ?
অনেকে প্রশ্ন করেছেন, নুসরাত যে থানায় গেলেন তখন দামি গাড়ি এই গাড়িগুলো কার ? বিভিন্ন মহল থেকে জানা গেছে, এই গাড়িগুলো শারুনই সরবরাহ করেছিলো ।

অনুসন্ধানে একাধিক সূত্র বলছে, শারুনের সঙ্গে মুনিয়ার যে সম্পর্ক সেই সম্পর্কের ফায়দা নিতেন নুসরাত এবং নুসরাত নানা কারণে শারুনের কাছে দায়বদ্ধ ছিলো। এ কারণে মুনিয়াকে ব্যাপকভাবে চাপ দিয়েছিলো শারুন। আর সে কারণে মুনিয়ার মৃত্যু হয় কি না বা আত্মহত্যা করে কি না সেটি নিয়ে তদন্ত চলছে। এ নিয়ে মুনিয়ার ভাই আশিকুর রহমান সুবজের মামলায় স্পষ্টই বলা হয়েছে, শারুনের লোকজনই মুনিয়াকে হত্যা করেছে।

সচেতন অনেকেই বলছেন, মুনিয়ার মৃত্যু আত্মহত্যা বা হত্যা ,যা’ই হোক , সেটি তদন্ত সাপেক্ষ বিষয়। কিন্তু নুসরাত ঢাকায় আাসর পর তার সঙ্গে শারুনের একাধিকবার কথোপেকথন হয় বলে একাধিক সূত্রের যে দাবি তা যাচাইয়ে নুসরাতের স্বামীর টেলিফোন লিস্ট খতিয়ে দেখলেই স্তরের ওঠে আসবে। সাথে উদঘাটন হবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।  সূত্র: নিউজ ব্যাংক বাংলা ডট কম

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com