আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে সরাতে এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ফ্রান্স সরকার। বর্তমানে ফ্রান্সের প্রাথমিক এবং মধ্যবর্তী বিদ্যালয়গুলোতে সেলফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও, সেই নীতি এবার হাইস্কুলগুলোতে কার্যকর করার বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
শুক্রবার ফ্রান্সের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় শহর মিরেকোর্টে এক অনুষ্ঠানে ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে জুনিয়র স্কুলগুলোতে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছি। শিগগিরই হাইস্কুলেও (মোবাইল ফোন) নিষিদ্ধ করা হবে। এ ব্যাপারে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
“আগামী বছরের শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন হবে। শিক্ষামন্ত্রী এডোয়ার্ড গেফরে বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে আছেন।”
কেন ফ্রান্সের সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভাষণে তারও ব্যাখ্যা দেন ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, “হাইস্কুল হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করার পাশাপাশি সামাজিক মেলামেশার ধারণা অর্জন করে। ফ্রান্সের হাইস্কুলগুলোতে পড়াশোনার পাশাপাশি পাঠ্যক্রম ও শিক্ষা সংক্রান্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মিথস্ক্রিয়াও জরুরি।”
“শিক্ষার্থীদের সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে স্মার্টফোন একটি বড় বাধা। আমাদের কিশোর-কিশোরীরা অল্প বয়স থেকেই একাকীত্বে ভোগাসহ বিভিন্ন মানসিক সংকটে ভুগবে— এমনটা আমরা চাই না।”
প্রসঙ্গত, সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহারের জেরে গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বজুড়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। অনলাইনে সাইবার বুলিং এবং যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে অনেক স্কুল পড়ুয়া কিশোর-কিশোরী। এছাড়া এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে বিভিন্ন দেশে একাকিত্বসহ বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় ভুগছে বিপুল সংখ্যক স্কুল শিক্ষার্থী।
অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে আইন জারি করে ১৬ বছরের কম বয়েসী কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। চলতি ডিসেম্বর থেকে বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে সেই আইনের। মালয়েশিয়াও আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ বছরের চেয়ে কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।