মূলধারার সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে বিতর্কিতদের কার্ড!
হবিগঞ্জ জেলায় সাংবাদিকদের জন্য ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্ড’ বিতরণকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে জেলার মূলধারার সংবাদকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ এখন চরমে পৌঁছেছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রায় ৫ শতাধিক সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্ডের জন্য আবেদন করলেও রহস্যজনকভাবে মাত্র দুই শতাধিক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো—এই সীমিত তালিকায় দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করা শতাধিক পেশাদার ও মূলধারার সাংবাদিককে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কার্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় এমন ব্যক্তিদের নাম রয়েছে যাদের সাংবাদিকতা কার্যক্রম কখনোই চোখে পড়েনি। এমনকি নিবন্ধনহীন, অচেনা ও নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টাল থেকেও আবেদন করে কার্ড পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রশ্ন উঠেছে—কোন বিবেচনায়, কোন যাচাইয়ে এসব কার্ড দেওয়া হয়েছে?
অন্যদিকে, দেশের প্রথম সারির জাতীয় দৈনিক, টেলিভিশন ও প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এতে করে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যমের প্রকৃত ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সচেতন সাংবাদিক মহলের মতে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্ড কোনো সাধারণ পরিচয়পত্র নয়—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের অনুমতি। সেখানে স্বজনপ্রীতি, তদবির কিংবা অযোগ্যতার স্থান নেই। কিন্তু হবিগঞ্জে যা ঘটেছে, তা পুরো প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এ ঘটনায় অনেক সাংবাদিক মনে করছেন, কার্ড বিতরণের পেছনে একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা নিজেদের পছন্দের ও সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের কার্ড পাইয়ে দিতে মূলধারার সাংবাদিকদের পরিকল্পিতভাবে বাদ দিয়েছে।
এই অনিয়মের বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা অবিলম্বে
কার্ড বিতরণের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ,
আবেদনকারীদের পুনঃযাচাই,
এবং যোগ্য ও প্রকৃত সাংবাদিকদের কার্ড প্রদান নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
অন্যথায়, এই অনিয়মের বিরুদ্ধে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার কথাও ভাবছেন তারা।