সোহান মিয়া, আড়াইহাজার উপজেলা প্রতিনিধি;
নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে দেখা করতে গিয়ে ৪০ বছর বয়সী এক নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তিনি চার সন্তানের জননী। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) রাতে মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকার একটি মাছের খামারের পুকুরপাড়ে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারী নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি মাধবদী পৌরসভার মেন্ডাতলা এলাকায় বসবাস করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই নারী তার মেয়েকে নিয়ে আড়াইহাজার পৌরসভার একটি মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে যান। মেয়ের জন্য জামা কিনে তাকে ইফতারের আগেই বাসায় পাঠিয়ে দেন। এর কয়েকদিন আগে কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খরিয়া গ্রামের রিদয় মিয়ার সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়।
সেদিন নারীটি আড়াইহাজারে আছেন জানতে পেরে রিদয় তাকে দেখা করার কথা বলে। পরে ওই নারী একাই অটোযোগে রাতে মাধবদীর কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকায় যান। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে রিদয় তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে জোর করে রাস্তা থেকে পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়।
এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা আরও তিনজন সেখানে উপস্থিত ছিল। তারা সবাই মিলে ওই নারীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। পরে তার মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যেতে বলে।
পরে ভুক্তভোগী নারী দৌড়ে পাশের একটি পাওয়ারলুম কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন এবং বিষয়টি জানান। পরে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে প্রধান অভিযুক্ত রিদয় মিয়া (৩২) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে।