নিজস্ব প্রতিবেদক//
,পিরোজপুর ডিবি পুলিশের (ওসি) আরিফ এর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে পুলিশ কর্মকর্তাদের মেসে অস্থায়ী কেয়ারটেকার মোঃ ইউনুস ফকির (৪০) নামে এক যুবক। পিরোজপুর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের টাকা চুরির অভিযোগ এনে নির্মাম এ নির্যাতন করা হয়। তবে পরবর্তীতে অন্য আরেক কর্মীর কাছ থেকে চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধার হয়।শুক্রবার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ভিকটিম ইউনুস ফকিরকে। গত (১৩ই এপ্রিল) সোমবার দুপুরে নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি জানাজানি না করতে ভয় দেখায় ঐ কর্মকর্তা।
তবে নির্মম এ নির্যাতনের বিষয়টি পুলিশ মহলে মারাত্মক সমালোচনার জন্ম দিলেও, এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এমনকি এ বিষয়ে পুলিশের কোন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
মোঃ ইউনুস ফকির (৪০) পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাকুনিয়ারি গ্রামের মৃত মোবারেক আলী ফকিরের ছেলে। তিনি দুই মেয়ের জনক।
ইউনুসের পরিবার জানায়, পিরোজপুর পুলিশ লাইনস এর রাস্তায় প্রবেশের মুখে পুলিশ কর্মকর্তাদের থাকার জন্য নির্মিত মেসে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করছে ইউনুস। ভবনটির দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে থাকেন পিরোজপুর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম। তার কক্ষের দুইটি চাবির মধ্যে একটি ইউনুসের কাছে ছিল। সোমবার (১৩ই এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে আরিফ হঠাৎ করেই ইউনুসের কাছে থাকা চাবিটি ফেরত চায়। তবে চাবিটি পাওয়া যাচ্ছে না বলে সেটি দিতে ব্যর্থ হয় ইউনুস। এরপরই আরিফ তাকে জানায় যে, তার কক্ষ থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে এবং ইউনুসই সেই টাকা নিয়েছে। তাই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য তাকে চাপ প্রয়োগ করে। ইউনুস টাকা চুরির কথা অস্বীকার করার পর তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ভবনের নিচতলায় নিয়ে যায় এবং তাকে মারধর শুরু করে। পরবর্তীতে ডিবি পুলিশ আরও ৭-৮ জন সদস্য সেখানে গিয়ে ইউনুসকে নির্মমভাবে মারধর শুরু করে। এমনকি বৈদ্যুতিক শক দেয়। এছাড়া সে চিৎকার করলে তার মুখে লাঠি দিয়ে শব্দ বন্ধ করে রাখে। এক পর্যায়ের আরিফের ঘনিষ্ঠ ডিবি পুলিশ সদস্য কাওসারের নেতৃত্বে ৩-৪ জন তাকে জোর করে রান্না ঘরে নিয়ে যায়। এরপর তার পুরুষাঙ্গে মোমবাতি গলিয়ে আধাঘন্টা যাবৎ ফেলতে থাকে। এ অমানবিক নির্যাতন তার আত্মীয়-স্বজন সহ্য করতে না পেরে পরিবারের সদস্যরা সুদে টাকা নিয়ে ডিবি আরিফকে টাকাগুলো পৌছে দেয়। এ ঘটনায় মারাত্বক আহত অবস্থায় পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ইউনুস ভর্তি হয় ।
মারধর শেষে ইউনুসকে পিরোজপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী’র কাছে নিয়ে যায় তারা। এরপর তিনি ইউনুসের কাছ থেকে বিস্তারিত শোনার পর ওই মেসে কাজ করা ঝাড়ুদার শাকিলকে ডেকে পাঠান। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল টাকা চুরির কথা স্বীকার করে এবং পুলিশকে সেই টাকা ফেরত দেন। এরপর ইউনুস প্রথমে যে টাকা দিয়েছিল সেগুলো তাকে ফেরত দেওয়া হয় বলে ভুক্তভুগী জানান । তবে এ ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে ইউনুস। এছাড়া ডিবি পুলিশের সাথে পেরে উঠবে না এই আশঙ্কায় তারা কোথাও কোন অভিযোগ দেয়নি।
ইউনুসের পরিবার জানানায়,তাকে একটি কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। কিন্তু কর্মসংস্থান নয়, নির্মম এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করেছে ইউনুস ও তার পরিবারসহ স্থানীয় লোকজন।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক স্বাধীন হাওলাদার জানান, তার শরীরে একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে আগুনের স্যাকা দেয়া হয়েছে। অবস্থা গুরুতর দেখে তাকে ভর্তি দেয়া হয়েছে।
ইউনুসের ভাই আনিসুর রহমান বলেন, একজন খুনিকেও এভাবে নির্যাতন করা হয় না যেভাবে আমার ভাইকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। আমার ভাইয়ের জীবন পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি ছুটিতে আছে বলে জানান। ঘটনাটির জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তিনি কোন নির্যতন করেননি, তবে রিপন নামে তাদের এক সোর্স রান্নাঘরে নিয়ে মোমবাতির স্যাকা দিয়েছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহম্মেদ সিদ্দিকিকে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি তার ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।