মীম আক্তার :
বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোতে রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিং সক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচকের উদ্যোগে হযরত শাহজাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে Explosive Detection Dog-EDD পদ্ধতিতে যুক্তরাজ্যগামী রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিংয়ের অনুমোদন পুনর্বহাল হয়েছে। একইসঙ্গে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় Explosive Detection System-EDS চালু হয়েছে।
বেবিচক জানায়, ২৪ মে ২০২৬ থেকে শাহজাল বিমানবন্দর থেকে সরাসরি যুক্তরাজ্যগামী কার্গো EDD পদ্ধতিতে স্ক্রিনিং করা যাবে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি কার্গো নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। যুক্তরাজ্যগামী পণ্যের নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য হওয়ায় রপ্তানিতে আস্থা বাড়বে এবং বিলম্ব বা পুনঃপরীক্ষার ঝুঁকি কমবে বলে বেবিচক জানায়।
২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের Department for Transport- DfT সরাসরি UK-গামী কার্গোর ক্ষেত্রে EDD পদ্ধতির অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। বেবিচকের কূটনৈতিক ও কারিগরি সমন্বয়ের পর অনুমোদনটি পুনর্বহাল হয়েছে। ফলে শাহজাল বিমানবন্দরে এখন EDS, X-ray, ETD-এর পাশাপাশি EDD-এর পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিত হলো।
অন্যদিকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় EDS চালু হওয়ায় কার্গো স্ক্রিনিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বেবিচকের ভাষ্য, এতে স্ক্রিনিং দ্রুত, নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকরভাবে করা যাবে। কার্গো প্রক্রিয়াজাতকরণে সময় কমবে, রপ্তানি কার্যক্রমে গতি আসবে এবং বাড়তি চাপ মোকাবিলা সহজ হবে।
ওসমানী বিমানবন্দর ২০২১ সালে RA3 Validation অর্জনের মাধ্যমে EU ও যুক্তরাজ্যে সরাসরি রপ্তানি শুরু করে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে নিয়মিত কার্গো অপারেশন চালু রয়েছে। ইতোমধ্যে সেখানে EDS, X-ray ও ETD পদ্ধতিতে স্ক্রিনিং চলছিল।
বেবিচক জানায়, শাহজাল বিমানবন্দর ২০১৭ সালে 3rd Country EU Aviation Security Validated Regulated Agent-RA3 Validation অর্জন করে। এর আওতায় EDS, X-ray, ETD ও EDD—চার পদ্ধতিতে স্ক্রিনিং হয়। নতুন ব্যবস্থায় নতুন এয়ারলাইনস Air Carrier Carrying Air Cargo and Mail from 3rd Country Airport to European Countries-ACC3 Validation অর্জন করে সরাসরি কার্গো পরিবহণের সক্ষমতা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।