মোঃ ইনামুল ইসলামঃশিল্পের আকাশে জ্বলে থাকা এক দীপ্তিমান নক্ষত্রের নাম চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস। তাঁর সঙ্গে আমার এখনও দেখা হয়নি তবে ফোনে কথা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সাথে আমার পরিচয়।শিল্পী মিলন বিশ্বাস খুলনায় বসবাস করেন। আমিও খুলনায় থাকি।কিন্তু ব্যস্ততার কারণে দেখা করা সম্ভব হয়নি।
তবে ইচ্ছা আছে এই গুনীজনের সঙ্গে একদিন সময় কাটানোর। আমি মো: ইনামুল ইসলাম, খুলনা, খালিশপুর, বঙ্গবাসী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের, সহকারী শিক্ষক তাই নিজেও একটু ব্যস্ত থাকি তবে সময় পেলেই এই শিল্পীর ইউটিউব চ্যানেল এবং ফেসবুক আইডি দেখে আমি অভিভূত হই পত্রপত্রিকায় নিয়মিত তার লেখা প্রকাশ হয় বিভিন্ন টিভি চ্যানেলেও তার জীবন বৃত্তান্ত দেখেছি।তিনি শুধু একজন চিত্রশিল্পী নন; তিনি রঙের সাধক, সৌন্দর্যের উপাসক এবং সৃষ্টির এক নিবেদিত প্রাণ কারিগর। রঙের ভাষায় তিনি যেন জীবনের মহাকাব্য রচনা করেন, আর তুলির ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তোলেন স্বপ্নের সবুজ ঠিকানা।
ক্যানভাসের নীরবতায় তিনি প্রাণের সুর শোনান, নিস্তব্ধ রঙে জাগিয়ে তোলেন অনুভূতির সমুদ্র। আমার দৃষ্টিতে তাই মিলন বিশ্বাস শুধু একটি নাম নয়; এটি একটি দীপ্ত শিল্পযাত্রা, একটি অনুপ্রেরণার অমলিন প্রতীক এবং একটি স্বপ্নবোনা আলোকবর্তিকা।তাঁর তুলি যখন ক্যানভাস স্পর্শ করে, তখন রঙ যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়। তাঁর শিল্পে নদী কথা বলে, পাহাড় গান গায়, আকাশ নেমে আসে মানুষের হৃদয়ে, আর প্রকৃতি খুলে দেয় তার রঙিন দুয়ার। তাঁর প্রতিটি ছবিতে লুকিয়ে থাকে জীবনের গল্প, প্রতিটি রেখায় অনুভবের গভীরতা এবং প্রতিটি রঙে মিশে থাকে ভালোবাসার অমৃত। তাঁর সৃষ্টির প্রতিটি অনুষঙ্গে মানবতার দীপ্ত প্রকাশ ঘটে।চিত্রশিল্পের পাশাপাশি তিনি একজন কবি। শব্দ তাঁর হৃদয়ের সন্তান, ছন্দ তাঁর নিঃশ্বাস এবং কবিতা তাঁর আত্মার ভাষা। তাঁর কবিতায় ভোরের শিশির ঝরে, সন্ধ্যার তারা জ্বলে, মানুষের কান্না ভাষা খুঁজে পায় এবং নীরব হৃদয়ে আশার প্রদীপ প্রজ্বলিত হয়।
একই সঙ্গে তিনি একজন গীতিকারও। তাঁর কলমে ফুটে ওঠে হৃদয়ের অমলিন অনুভূতি। তিনি ভালোবাসাকে ভাষা দেন, বিরহকে অশ্রুর সুরে রূপ দেন, স্বপ্নকে ডানা মেলে উড়তে শেখান এবং মানুষকে নতুন করে জীবনকে ভালোবাসতে উদ্বুদ্ধ করেন।শিশুদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা সত্যিই অনন্য। শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে তিনি ভীষণ পছন্দ করেন। তাঁর স্নেহ, মমতা ও আন্তরিক দিকনির্দেশনায় কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী চারুশিল্পী হিসেবে গড়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের সৃজনশীল বাংলাদেশ গড়বে। তাই তিনি শুধু ছবি আঁকা শেখান না, শিশুদের মনন, কল্পনা, নৈতিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।শিশুদের আনন্দ দেওয়ার জন্য তিনি প্রায়ই যাদু খেলা প্রদর্শন করেন, যা তাদের মনে আনন্দ ও বিস্ময়ের জগৎ সৃষ্টি করে। শুধু তাই নয়, তিনি মুখ দিয়ে ছবিও আঁকেন যা তাঁর অসাধারণ প্রতিভা, অধ্যবসায় এবং শিল্পসাধনার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত।
তাঁর এই সৃজনশীল উপস্থাপনা শিশুদের কাছে শিল্পকে আরও আকর্ষণীয় ও আনন্দময় করে তোলে।আজ হয়তো বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ তাঁর নাম জানেন না, কিন্তু তাঁর কর্ম, নিষ্ঠা এবং শিল্পসাধনা তাঁকে একজন গুণী চিত্রশিল্পী হিসেবে বিশেষ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড এবং সমাজে শিল্পচর্চার অবদান ইতোমধ্যেই ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। যমুনা টিভি, মাছরাঙা টিভি, এমবি টিভি এবং দৈনিক কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম এই গুণী শিল্পীর কর্মধারা দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরেছে। তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাঁদের প্রকাশিত প্রতিবেদন ও উপস্থাপনাই আমাকে এই লেখাটি লিখতে অনুপ্রাণিত করেছে। মিলন বিশ্বাস শুধু ছবি সৃষ্টি করেন না; তিনি সৃষ্টি করেন অনুভূতির এক বিশাল মহাবিশ্ব। তিনি শুধু কবিতা লেখেন না; মানুষের জীবন, সংগ্রাম, ভালোবাসা ও মানবতার ইতিহাস লিখে যান। তিনি মানুষের হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয়ের সেতুবন্ধন গড়ে তোলেন।
তিনি খুলনাতে খুলনা আর্ট একাডেমি নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। এটি ইকবাল নগর গার্লস স্কুলের পূর্ব পাশে ৩৬ আয়েশা কটেজে অবস্থিত। তিনি দুই যুগের বেশি সময় ধরে এ খুলনা আর্ট একাডেমি পরিচালনা করে আসছেন। তার প্রতিষ্ঠানে ছবি আঁকা, আবৃত্তি, সংগীত হাতের লেখা এবং বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সহায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। এবং হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য নিয়ে একটি ঐতিহ্য সংরক্ষণশালা গড়ে তুলেছেন। এখানে তিন শতাধিকার ও বেশি ঐতিহ্য সংরক্ষিত আছে। যা দৈনিক কালের কন্ঠ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় তুলে ধরেছেন।শিল্প তাঁর সাধনা, সৃষ্টি তাঁর প্রার্থনা, মানুষ তাঁর ভালোবাসা এবং বাংলা তাঁর অহংকার।যেখানে অন্ধকার, সেখানে তিনি শিল্পের প্রদীপ জ্বালান। যেখানে হতাশা, সেখানে তিনি আশার রংধনু আঁকেন। যেখানে নীরবতা, সেখানে তিনি সৃষ্টির মহাসঙ্গীত শোনান। তাঁর প্রতিটি সৃষ্টি আমাদের শেখায় সৌন্দর্য কখনো মরে না, ভালোবাসা কখনো হারায় না এবং সত্যিকারের শিল্প কখনো থেমে থাকে না।শিল্পী মিলন বিশ্বাসের হাতে রয়েছে রঙের জাদু, তাঁর কলমে আলোর ভাষা এবং তাঁর সুরে হৃদয়ের স্পন্দন।
তাঁর শিল্পে বেঁচে থাকে বাংলার প্রাণ। তাঁর সৃষ্টির আলো দেশ থেকে দেশে ছড়িয়ে পড়ুক, তাঁর তুলির রঙ স্পর্শ করুক প্রতিটি হৃদয়, তাঁর কবিতা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করুক এবং তাঁর গান বয়ে আনুক ভালোবাসার নির্মল সুবাতাস।সময় বদলাবে, প্রজন্ম বদলাবে, মানুষ বদলাবে; কিন্তু সত্যিকারের শিল্প কখনো বিলীন হবে না।এই গুনী শিল্পীর সৃষ্টি মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে। তাঁর নাম থাকবে শিল্পের ইতিহাসে, তাঁর অবদান হয়ে থাকবে বাংলার সংস্কৃতির গর্ব। তিনি দীর্ঘজীবী হোন সৃষ্টির মহিমায়। তাঁর শিল্প হোক অনন্ত প্রেরণার উৎস, তাঁর কবিতা হোক মানবতার কণ্ঠস্বর এবং তাঁর সুর ছড়িয়ে পড়ুক অনন্তকাল।শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এই শিল্পীর প্রতি। অভিনন্দন তাঁর অনন্য সৃষ্টিশীল জীবনকে। তিনি বেঁচে থাকুন তাঁর রঙে, কবিতায়, গানে এবং মানুষের অশেষ ভালোবাসায়।তাকে নিয়ে এটা আমার প্রথম লেখা তবে তার জীবনের কর্মকাণ্ড এতোটুকু লেখার মধ্যেই তুলে ধরা সম্ভব হয়নি গুণীজনের সঙ্গে দেখা করে পরবর্তীতে আবারো একটি লেখার আত্মপ্রকাশ করার চিন্তা আছে ওই লেখাটি দ্বিতীয় পার্ট নামে প্রকাশিত হবে। সকল পাঠকদের প্রতি আমার ভালোবাসা এবং লেখার মাঝে ভুলত্রুটি মার্জনীয় সর্বশেষ চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাসের সার্বিক মঙ্গল কামনা করে এই লেখা শেষ করছি।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24