
যুক্তরাষ্ট্র বুধবার সৌদি আরবের সঙ্গে একটি যুগান্তকারী চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশটিতে একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হবে। তবে ওয়াশিংটন বলছে, চুক্তিতে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই মূলত এ যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। বর্তমানে স্থগিত হয়ে থাকা শান্তি আলোচনাতেও বিষয়টি অন্যতম প্রধান বিরোধের কারণ।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান দুটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এর একটি ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা’ এবং অন্যটি ‘দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা’ বিষয়ক।
চুক্তি দুটির পূর্ণাঙ্গ পাঠ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এক বিবৃতিতে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানায়, ‘এই দুটি চুক্তি কয়েক দশকব্যাপী, বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্বের আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়া হবে।’
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির একটি ধারার আওতায় সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করতে পারে মার্কিন কোম্পানিগুলো। তবে জ্বালানি বিভাগের বিবৃতিতে এ ধরণের কোনো ধারার উল্লেখ নেই। এ বিষয়ে এএফপির প্রশ্নেরও কোনো মন্তব্য করেনি বিভাগটি।
চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য কংগ্রেসে পাঠানো হবে। তবে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস এর বাস্তবায়ন ঠেকাবেÑএমন সম্ভাবনা কম।
অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের উভয় দলের আইনপ্রণেতা এবং ইসরাইলের কর্মকর্তারা এ ধরণের প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা, সৌদি আরব ভবিষ্যতে এ কর্মসূচিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার করতে পারে।
তেহরানের মতো সৌদি আরবও দীর্ঘদিন ধরে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনার অধিকার দাবি করে আসছে। গত বছর দেশটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তানের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়াশিংটন চেয়েছে, পারমাণবিক সহযোগিতার যেকোনো চুক্তিকে বৃহত্তর কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ করতে। এর আওতায় সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
-পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের শঙ্কা-
যুক্তরাষ্ট্র ২০০৯ সালে সৌদি আরবের প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে একটি পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। তবে দেশটি নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে নাই।
গত মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে একটি ড্রোন জেনারেটরে আঘাত হানে। এতে আগুন লাগে। আরব বিশ্বের এটিই একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
নীতিনির্ধারকদের দীর্ঘদিনের আশঙ্কা, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তাহলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এ ধরণের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নিশ্চিন্ত থাকুন, এই চুক্তিগুলো পারমাণবিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র বিস্তার রোধের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখে। একই সঙ্গে এতে বিশ্বের সর্বোত্তম পারমাণবিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানীদের ওপর নির্ভর করা হয়েছে, যার নকশা যুক্তরাষ্ট্রেই তৈরি হয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তি আইনের ১২৩ ধারার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়েছে। বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি রয়েছে। তবে প্রতিটি চুক্তির পরিধি ভিন্ন রকম।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ ধরনের একটি চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ চলছিল। তবে সৌদি আরবের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সম্ভাবনা নিয়ে কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24