এম.এ আরিফ চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার, গ্যারেজ ব্যবসার আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মো. সফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে তাকে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া চাইনিজ কুড়ালটি জব্দ করে তদন্তের স্বার্থে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ভিডিওতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একটি চাইনিজ কুড়াল হাতে দেখা যায় এবং তাকে কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা যায়। তবে ভিডিওটির প্রেক্ষাপট, বক্তব্যের সত্যতা ও সম্পূর্ণ ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার এনায়েতপুরে একটি গ্যারেজ পরিচালনা করতেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই গ্যারেজকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। পাশাপাশি মাদক-সংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে বিভিন্ন সময় সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, এই পরিচয়কে তিনি ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করতেন। ফলে অনেকেই দীর্ঘদিন তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে বা অভিযোগ জানাতে সাহস পাননি।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, তার কাছে প্রায়ই বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র দেখা যেত, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে এবং পরবর্তীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তেজখালী বাহেরচর এলাকার বাসিন্দা। তিনি আব্দুল হালিম ও হাজেরা খাতুনের ছেলে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া আলামত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিকতার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি ব্যক্তিগত স্বার্থে বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তবে তা পেশাটির মর্যাদা ও জনআস্থার জন্য ক্ষতিকর। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, আশুলিয়া থানা পুলিশের এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং মাদক, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলো প্রমাণিত বলে গণ্য করা যাবে না বলেও সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24