বই পড়ে খুলনা মহানগরীর ৪৬টি স্কুলের ৩ হাজার ২৬৯ জন কৃতী শিক্ষার্থী পুরস্কৃত হয়েছে। আজ শুক্রবার নগরীর সেন্ট জোসেফ উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য উৎসবে শিক্ষার্থীদের হাতে তাদের কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। গ্রামীণ ফোনের সহযোগিতায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, বই মানুষকে বদলে দেয় এবং চিন্তা-চেতনার পরিধি বড় করে। বই পড়ার মাধ্যমে নিজেকে বিকশিত করতে হবে। বই পড়াকে নেশা ও অভ্যাসে পরিণত করা প্রয়োজন। শুধু পাঠ্য বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সৃজনশীল সাহিত্য ও ভালো বই পড়ার অভ্যাস তোমাদের তৈরি করতে হবে। ভালো বই কেবল গল্পই বলে না, বরং পাঠকের মনের কথাও শোনে। বই পড়াকে সহজ করতে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র সব সময় শিক্ষার্থীদের পাশে আছে।
তাঁরা আরও বলেন, নিজেদের জ্ঞান ভান্ডার সমৃদ্ধ করার জন্য শিক্ষার্থীদের বেশি করে বই পড়তে হবে। সাহিত্য বিষয়ক বইয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞান ভিত্তিক বইও নিয়মিত পড়ার পরামর্শ দেন তাঁরা। আলোকিত প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে বই পড়ার পাশাপাশি অভিভাবক ও শিশু-কিশোরদের নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক বিষয়ে আরও সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন অতিথিরা।
বইপড়া উৎসবের পুরস্কার বিতরণের বিভিন্ন পর্বে অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের পরিচালক মু. বিল্লাল হোসেন খান, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি ও বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী নকী, খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) ইরুফা সুলতানা, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞান সংগঠক অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের (ভারপ্রাপ্ত) উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান, জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম ছায়েদুর রহমান, সেন্ট যোসেফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলফ্রেড রণজিৎ মন্ডল, সাবেক সচিব এবং বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান ও গ্রামীণ ফোন লিমিটেড খুলনার রিজিওনাল হেড ছানোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে চারটি পর্বে মহানগরের ৩০টি স্কুলের ২হাজার ২৫৭ জন শিক্ষার্থীকে সরাসরি মঞ্চ থেকে পুরস্কার প্রদান এবং ১৬টি স্কুলের পুরস্কার সংশ্লিষ্ট স্কুলের সংগঠকের হাতে প্রদান করা হয়। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে খুলনা মহানগরের ৪৬টি স্কুলের মোট ৩ হাজার ২৬৯ জন শিক্ষার্থী বই পড়া কর্মসূচিতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।
পুরস্কার প্রাপ্তদের ২২৫৪ জন ‘শুভেচ্ছা’, ৯২৩ জন ‘অভিনন্দন’ এবং ৯২ জন ‘সেরা পাঠক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করে। পুরস্কার প্রাপ্তদের ১১৪৬ জন ছেলে ও ২১২৩ জন মেয়ে।
এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এ বছর প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস’ শীর্ষক সচেতনতামূলক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়। এর মাধ্যমে অভিভাবক ও শিশু-কিশোররা নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক জ্ঞান লাভ করবে। অনুষ্ঠানস্থলে ‘অনলাইন সেফটি কর্নার’-এ অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে সচেতনতামূলক তথ্য প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র বিগত ৪৮ বছর ধরে দেশজুড়ে সংস্কৃতি মনস্ক ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রম’ পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে সারাদেশের প্রায় দেড় হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই বই পড়া কর্মসূচি চলমান রয়েছে, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24