
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ একাধিক দাবি যুক্তরাষ্ট্র মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না বলে রোববার জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কার্যত অবরোধ মিত্র দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে এবং জ্বালানির দামও বাড়িয়েছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে সংঘাতে মার্কিন প্রশাসন অপেক্ষাকৃত সংযত পন্থা অবলম্বন করছে। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
ইরান যুদ্ধের পরও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চায় এবং এই পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে। নিজেদের নির্ধারিত পথ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগে ইরান নিয়মিত জাহাজে হামলাও চালাচ্ছে।
যুদ্ধের আগে জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকা এই জলপথে হামলার কারণে এপ্রিলে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে। পরে মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষকে জুনে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতার শর্তে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। ওই সমঝোতায় শান্তি আলোচনা শুরুর একটি পথনকশা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল শনিবার হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
এসব শর্ত জুনের সমঝোতায় থাকা বিষয়গুলোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওই সমঝোতায় ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠনের বিধান ছিল।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস রোববার বলেছে, ‘শত্রুপক্ষ আমাদের সব শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত’ অবরোধ বজায় রাখাই তাদের কৌশল। তারা আরও বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালী এখন আমাদের কাছে শুধু একটি জলপথ নয়, এটি কার্যত যুদ্ধক্ষেত্র।’
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাদের জন্য জ্বালানির দাম বেড়েছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় বিষয়টি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। তবে রোববার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আশাবাদ প্রকাশ করেন।
ইরানের সঙ্গে তার কৌশল সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খুব বেশি সামনে আনছি না’।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। আমরা শুধু ইরানের পরিস্থিতি দেখছি—সেখানে ব্যাপক মূল্যস্ফীতি চলছে এবং তাদের হাতে কোনো অর্থ নেই।’
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24