নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
একটি মানুষের জীবনে কখনো কখনো পরিস্থিতিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলা, দলের দুর্দিনে পাশে থাকা এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সংগঠনের সঙ্গে থাকার দাবি ,সবকিছুর পর আজ কারাগারের অন্ধকারে কষ্টের দিন কাটাচ্ছেন বিএনপির আদাবর থানা এলাকার নেতা মনোয়ার হাসান জীবন। তাকে ঘিরে নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে তার মুক্তির দাবি জোরালো হচ্ছে।
মনোয়ার হাসান জীবনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। বিশেষ করে দলের কঠিন সময়ে আদাবর থানা বিএনপির পক্ষে যখন অনেকেই প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে সাহস পাননি, তখন তিনি দলের পাশে থেকে কাজ করেছেন বলে দাবি করেন।কারাগারে থাকা অবস্থায় নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরে মনোয়ার হাসান জীবন বলেন, জীবনে অনেক সময় পরিস্থিতিই মানুষকে অনেক কিছু বুঝিয়ে দেয়। আমার সঙ্গে যারা চলেছেন, যারা আমাকে কাছ থেকে দেখেছেন, তারা আমার রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে জানেন। দলের দুর্দিনে আমি কখনো দলের সঙ্গে বেইমানি করিনি।
তিনি আরও বলেন, আমি যদি কোনো অপরাধ করে থাকি, তাহলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা হোক। আমি অপরাধী প্রমাণিত হলে দেশের প্রচলিত আইনে যে শাস্তি হবে, তা মেনে নিতে প্রস্তুত। কিন্তু আমি যদি কোনো অপরাধ না করে থাকি, তাহলে অন্যায়ভাবে আমাকে কারাগারে রাখার বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টদায়ক।মনোয়ার হাসান জীবন বলেন, কোনো অপরাধ না করে একজন মানুষকে দীর্ঘদিন শাস্তির মতো পরিস্থিতির মধ্যে থাকতে হলে তার মানসিক কষ্ট কতটা গভীর হতে পারে, তা ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য কেউ উপলব্ধি করতে পারে না।
তার ভাষায়, অন্যায় না করে যদি কাউকে দোষারোপ করা হয়, তাহলে সেই মানুষটির হৃদয়ের ভেতরে কী ধরনের কষ্ট তৈরি হয়, সেটা বোঝানো কঠিন। আমি সেই কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।এদিকে মনোয়ার হাসান জীবনের মুক্তির দাবিতে তার অনুসারী ও নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ও দাবি জোরালো হচ্ছে। তাদের দাবি, তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে তুলে ধরা হোক। তিনি দোষী হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং নির্দোষ হলে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তারা।
মনোয়ার হাসান জীবন আরও বলেন, “আমি আবারও আপনাদের মাঝে ফিরে আসতে চাই। মানুষের পাশে থাকতে চাই। বিশেষ করে ৩০ নং ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের জন্য কাজ করতে চাই। এটিই আমার কামনা। আমি আল্লাহর কাছে সেই প্রার্থনাই করছি।এক জীবনের এই বেদনাদায়ক অধ্যায়ের শেষ কোথায়,তা এখন নির্ভর করছে তদন্ত, আইনগত প্রক্রিয়া ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর। তবে মনোয়ার হাসান জীবন ও তার সমর্থকদের প্রত্যাশা, সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে দ্রুত এই পরিস্থিতির অবসান হবে এবং তিনি আবারও সাধারণ মানুষের মাঝে ফিরে আসতে পারবেন।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24