স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়া
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. চন্দন কুমার সরকার সরকারি দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষ ও খামারিদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন তিনি।
ফুলবাড়ী উপজেলার মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতির সঙ্গে প্রাণিসম্পদ খাতের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু, ছাগল, মহিষ, হাঁস-মুরগিসহ নানা ধরনের গবাদিপশু ও পাখি পালন করে থাকেন অনেক পরিবার। এসব খামারি ও পশুপালনকারীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে চিকিৎসা, পরামর্শ, টিকাদান, কৃত্রিম প্রজননসহ নানা ধরনের সরকারি সেবা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. চন্দন কুমার সরকারের তত্ত্বাবধানে সরকারি কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উন্নত জাতের গবাদিপশু উৎপাদন, দুধ ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খামারিদের আর্থিকভাবে লাভবান করার ক্ষেত্রে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের টিকাদান কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।
খামারি ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ বিভাগের সেবাগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। রোগাক্রান্ত পশু-পাখির চিকিৎসা, রোগ প্রতিরোধ, সঠিকভাবে পশুপালন এবং খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে খামারিদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি, সময়মতো টিকা গ্রহণ, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু-পাখি পালনের বিষয়ে খামারিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে অনেক খামারি আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে পশু-পাখি পালনে আগ্রহী হচ্ছেন বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
ডা. চন্দন কুমার সরকার বলেন, “সরকার আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, আমি সেই দায়িত্ব স্বচ্ছতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যেতে চাই। জনগণের সেবা করাই আমার প্রধান দায়িত্ব। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাণিসম্পদ বিভাগের সব কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষ ও খামারিদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে আমি কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে খামারি ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি সেবার পাশাপাশি খামারিদের সচেতনতা ও নিয়ম মেনে পশু-পাখি পালন করলে এ খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।
স্থানীয় খামারিরা জানান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে চিকিৎসা, টিকাদান, কৃত্রিম প্রজনন ও বিভিন্ন পরামর্শমূলক সেবা পাওয়ায় তারা উপকৃত হচ্ছেন। বিশেষ করে গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধ ও উন্নত জাতের বাছুর উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকারি কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম খামারিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করছে।
তাঁরা আরও বলেন, গ্রামাঞ্চলের মানুষের অনেকেই গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালন করে সংসারের বাড়তি আয় করে থাকেন। সময়মতো চিকিৎসা ও টিকা পাওয়ার পাশাপাশি সঠিক পরামর্শ পাওয়া গেলে পশু-পাখির মৃত্যু কমার সঙ্গে সঙ্গে খামারিদের উৎপাদন ও আয়ও বাড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান দিন দিন বাড়ছে। তাই সরকারি প্রাণিসম্পদ সেবাকে আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফুলবাড়ী উপজেলায় সরকারি কৃত্রিম প্রজনন, টিকাদান, চিকিৎসা ও পরামর্শ সেবার কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে স্থানীয় খামারি ও পশুপালনকারীরা আরও বেশি উপকৃত হবেন।
জনসাধারণের প্রত্যাশা, প্রাণিসম্পদ বিভাগের সরকারি সেবাগুলো নিয়মিত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফুলবাড়ী উপজেলার প্রাণিসম্পদ খাত আরও এগিয়ে যাবে এবং স্থানীয় খামারিদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24