
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে হামজনিত জটিলতার কারণে চতুর্থ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য এই রোগের কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া চারজনের কেউই টিকা নেননি।
পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্যসচিব ডেবরা বোগেন বলেন, ‘এই অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসে প্রিয়জন হারানো দুটি পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা। পেনসিলভানিয়া তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি।’
স্থানীয় চিকিৎসা পরীক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ মারা যাওয়া ব্যক্তির বয়স ১৮ বছর । এর আগে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি—এমন দুই শিশু এবং ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ছিলেন।
বর্তমান প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত বছর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হামের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও তিনটি মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে দুটি ছিল শিশু।
পেনসিলভানিয়ায় মৃত্যুর ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে অঙ্গরাজ্যটির ডেমোক্র্যাট গভর্নর জশ শ্যাপিরো এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টিকা নিয়ে সংশয়বাদী স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের মধ্যে একটি উত্তপ্ত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শ্যাপিরো লেখেন, ‘জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে আরএফকে জুনিয়রের (কেনেডি) এই ধরনের কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলছে।’ তিনি আরও বলেন, কেনেডির ‘টিকা নিয়ে সংশয় ও ভুল তথ্য ছড়ানো বন্ধ করার সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে।’
শ্যাপিরো জানান, এখন পর্যন্ত শুধু পেনসিলভানিয়াতেই ৬৯৩টি হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ৩ হাজার ২৯০টিরও বেশি হামের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
গভর্নর আরও অভিযোগ করে বলেন, কেনেডি রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)-এর কর্মকর্তাদের পেনসিলভানিয়ায় হামে এসব মৃত্যুর ঘটনা ‘প্রকাশ না করার নির্দেশ দিয়েছেন’। তাঁর ধারণা, এসব তথ্য কেনেডির বক্তব্য বা অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেই এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এক্সে দেওয়া জবাবে কেনেডি এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি শ্যাপিরোর বিরুদ্ধে প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সমন্বিত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করার অভিযোগ করেন।
কেনেডি বলেন, আমি বারবার বলেছি, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর ওপায় হলো এমএমআর টিকা।’ এমএমআর টিকা হাম, মাম্পস ও রুবেলা প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।
হাম হলে জ্বর, শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন উপসর্গ ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। এ রোগের কারণে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত ক্ষতি এবং এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
টিকাদানের কারণে ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হাম নির্মূল হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকা নেওয়ার হার কমে যাওয়ায় এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি মানুষের অবিশ্বাস বাড়তে থাকায় রোগটি আবারও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।
কোভিড-১৯ মহামারীর পর থেকে টিকা গ্রহণে চিকিৎসাগত কারণ ছাড়া অব্যাহতির সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে আমেরিকানরা ধর্মীয় বিশ্বাস বা অন্যান্য দার্শনিক কারণ দেখিয়ে অনেক মার্কিন নাগরিক টিকা নেওয়া এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
১৯৬০-এর দশকের শুরুর দিকে হামের টিকা আবিষ্কারের আগে যুক্তরাষ্ট্রে এই রোগে প্রতি বছর শত শত শিশু মারা যেত। বিশ্বজুড়েও হাম এখনো প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে থাকে।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24