নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মিরপুরের দুয়ারীপাড়া মৌজায় আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ এস্টেটের সম্পত্তি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা ও স্ট্যাটাসকো আদেশ বহাল থাকা অবস্থায় ‘সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকা মালিক কল্যাণ সমিতি’র ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনের উদ্যোগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ওয়াকফ এস্টেটের সদস্য ও প্লট মালিকরা।
ওয়াকফ এস্টেটের সদস্যদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ভূমি নিয়ে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল নং ১৫২১/২০২১-সহ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। একই বিষয়ে কনটেম্পট পিটিশন নং ৬২/২০২৪-এর মাধ্যমে আদালত অবমাননার বিষয়টিও আদালতের নজরে রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, মামলা চলমান এবং ভূমির ওপর স্ট্যাটাসকো বহাল থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট জমিতে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্ট্যাটাসকো থাকা অবস্থায় জমিতে কার্যক্রমের অভিযোগ ওয়াকফ এস্টেটের সদস্যদের অভিযোগ, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মিরপুর-২ বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে বিতর্কিত ভূমির বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের দ্বারস্থ হলে সংশ্লিষ্ট ভূমির ওপর স্ট্যাটাসকো আদেশ আসে বলে তারা জানান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের আদেশের পরও একটি মহল ওই ভূমিতে দখল, নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে। এমনকি আদালতের নির্দেশনা থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ভূমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে। ওয়াকফ এস্টেটের সদস্যরা বলছেন, স্ট্যাটাসকো অর্থাৎ বিদ্যমান অবস্থা বজায় রাখার আদালতের নির্দেশ বহাল থাকলে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে এমন কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা উচিত নয়, যা আদালতের নির্দেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে যেকোনো পক্ষের পদক্ষেপ আদালতের আদেশের আলোকে যাচাই করা জরুরি। ‘সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকা মালিক কল্যাণ সমিতি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ ওয়াকফ এস্টেটের সদস্যদের অভিযোগ, ‘সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকা মালিক কল্যাণ সমিতি’র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি বিতর্কিত ভূমিতে নিজেদের স্বার্থ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানকে বৈধ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে সমিতির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে। একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের দাবি ওয়াকফ এস্টেটের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, এ কে এম শামসুজ্জামান, ইমন, ড্যাফোডিল মান্নান, মিজান, ফারুক ও জালাল মুন্সিসহ কয়েকজন ব্যক্তি বিতর্কিত ভূমি নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত বলে তারা মনে করেন। তাদের অভিযোগ, এ কে এম শামসুজ্জামান নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমিতে দখল কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছেন। একইভাবে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ইমনসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বা একপাক্ষিক তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ করেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতের চূড়ান্ত রায় বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার তদন্তে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে অভিহিত করা যায় না। রূপনগর থানায় একাধিক অভিযোগের দাবি ওয়াকফ এস্টেটের সদস্যদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে রূপনগর থানায় একাধিক অভিযোগ/অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগে জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিতর্কিত ভূমিতে কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তাদের দাবি, অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
মালিকানা নিয়ে ওয়াকফ এস্টেটের দাবি ওয়াকফ এস্টেটের সদস্যদের দাবি, দুয়ারীপাড়া মৌজার সংশ্লিষ্ট ভূমির মালিকানা নিয়ে তাদের পক্ষে বিভিন্ন দলিল ও রেকর্ড রয়েছে এবং সিটি জরিপেও আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ এস্টেটের নাম রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তাদের আরও দাবি, আবুল কালাম আনসারী জামাল বৈধ মুতাওয়াল্লি হিসেবে ওয়াকফ এস্টেটের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলে আদালতে মালিকানা ও অধিকার নিয়ে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় কোনো পক্ষ একতরফাভাবে জমির ওপর মালিকানা বা দখলের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না বলে তারা মনে করেন। গণমাধ্যমের প্রতি প্রকৃত তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান ওয়াকফ এস্টেটের সদস্য ও ভুক্তভোগী প্লট মালিকরা গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিতর্কিত ভূমি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট আদালতের আদেশ, মামলা সংক্রান্ত নথি, ভূমির রেকর্ড, বরাদ্দ সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং থানায় দায়ের করা অভিযোগ যাচাই করা উচিত।
তাদের অভিযোগ, স্ট্যাটাসকো বহাল থাকা অবস্থায় কোনো পক্ষের সংবাদ সম্মেলন বা প্রচারণার মাধ্যমে যদি একতরফাভাবে জনমত তৈরির চেষ্টা করা হয়, তাহলে প্রকৃত তথ্য আড়াল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা বলেন, “আমরা কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ চাই না। আদালতের নথি, ভূমির রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা হোক।”
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা ওয়াকফ এস্টেটের সদস্যরা অবিলম্বে বিতর্কিত ভূমিতে সব ধরনের বেআইনি কার্যক্রম বন্ধ, আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, ভূমি প্রশাসন, রূপনগর থানা এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা ও দখল পরিস্থিতি স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। তাদের বক্তব্য, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষ যেন পেশিশক্তি, প্রভাব কিংবা গণমাধ্যমের প্রচারণাকে ব্যবহার করে বিতর্কিত ভূমিতে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে না পারে—এ বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। ওয়াকফ এস্টেটের সদস্যদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদালতের চলমান মামলার নথি ও আদেশের আলোকে প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24