
তানজানিয়ার একটি স্বর্ণখনিতে ২০১৯ সালে নিহত দুই খনিশ্রমিকের পরিবারে পক্ষ থেকে স্বর্ণশিল্পের শীর্ষ সংগঠনের বিরুদ্ধে করা বহুল আলোচিত একটি দেওয়ানি মামলা বুধবার লন্ডনের হাইকোর্টে শুরু হয়েছে।
পরিবার দু’টির অভিযোগ, দায়িত্বশীলতার সঙ্গে স্বর্ণ সংগৃহীত হয়েছে সনদ দেওয়া লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন (এলবিএমএ) যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে নর্থ মারা স্বর্ণখনিতে ওই দুই ব্যক্তির মৃত্যু হতো না। লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রতিষ্ঠান লেই ডে জানিয়েছে, নিহত দুই ব্যক্তির বয়স ছিল ২৩ বছর এবং তারা দুজনই বিবাহিত ছিলেন। পরিবারের সুরক্ষার জন্য তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
লেই ডে এএফপিকে দেওয়া মামলার সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ‘বছরের পর বছর ধরে কথিত পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য জনসম্মুখে থাকা সত্ত্বেও’ ওই খনি থেকে পাওয়া স্বর্ণকে এলবিএমএ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংগৃহীত হয়েছে বলে সনদ দিয়েছিল।
২০১৯ সালের জুলাইয়ে ক্ষুদ্র পরিসরের খনিশ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে গেলে এক ব্যক্তি ‘তানজানিয়ার পুলিশ কর্মকর্তাদের হাতে কথিতভাবে গুরুতর হামলার শিকার হন।’ এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান।
দ্বিতীয় ব্যক্তি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রাণ হারান। সে সময় ‘পুলিশ কর্মকর্তারা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।’ লেই ডে জানায়, তাকে ‘পেছন দিক থেকে গুলি করা হয়েছিল’ বলে অভিযোগ রয়েছে।
অবহেলার অভিযোগ-
লন্ডনের মূল্যবান ধাতুর বাজারে গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা এলবিএমএ স্বর্ণ ও রুপার পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সনদ দেয়। এসব প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত কারিগরি ও দায়িত্বশীলভাবে উৎস সংগ্রহের মানদণ্ড অনুসরণ করতে হয়।
শুধু এসব মানদণ্ড পূরণকারী স্বর্ণ ও রুপার বারই লন্ডনের পাইকারি বুলিয়ন বাজারে গ্রহণ করা হয়।
লেই ডের অভিযোগ, নর্থ মারা খনি থেকে পাওয়া স্বর্ণ প্রক্রিয়াজাতকারী ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এমএমটিসি-পিএএমপির সনদ নবায়ন করে এলবিএমএ অবহেলার পরিচয় দিয়েছে।
এলবিএমএ জানায়, ২০১৯ সালের জুনে পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ওই খনির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তারা জানতে পারে। এরপর তারা একটি পর্যালোচনা শুরু করে, যার ফলে কিছু উন্নতি সাধিত হয়।
মামলায় আরও ৩০ জন যুক্ত হয়েছেন। তবে তাদের দাবিগুলো আপাতত স্থগিত রয়েছে। লেই ডে জানিয়েছে, ছয় সপ্তাহ ধরে চলার কথা থাকা এই বিচার শেষ হওয়ার পর তাদের দাবির বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হবে।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24