মোঃ সিমান্ত তালুকদার:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী বাইশারী বাজারে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর অভিযানের সময় দ্রুতগতির একটি মো টরসাইকেল থামানোর চেষ্টা করা হলে চালক
মোটরসাইকেলটি ফেলে পালিয়ে যায়। পরে সেটিতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাইশারী বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বাইশারী সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মো. সিরাজুস সালেহীনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মনজুর আহসানসহ পুলিশের সদস্যরাও
সহযোগিতা করেন।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাইশারী বাজার এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাদকবিরোধী তৎপরতা চালানোর সময় একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল সন্দেহ হলে সেটিকে
থামানোর চেষ্টা করেন। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেল চালক সেটি ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা মোটরসাইকেলটি তল্লাশি করে ২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন।
উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ইয়াবা বহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে।
বাইশারী সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মো. সিরাজুস
সালেহীন বলেন, “অভিযানে ইয়াবা ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
সেনাবাহিনীর এ অভিযানে এলাকায়
মাদকবিরোধী তপরতায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সীমান্তবর্তী বাইশারী এলাকায় মাদক পাচার ও কারবার বন্ধে সেনাবাহিনীর নিয়মিত
নজরদারি ও অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন বলেন, “সেনাবাহিনীর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায়
ইয়াবা পাচার অনেকাংশে বন্ধ হবে বলে আমরা মনে করি। মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন।”
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমিটির পার্বত্য বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রশিদ বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের গর্ব। বাইশারী এলাকায় সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডারের নেতৃত্বে ইয়াবা উদ্ধারের
ঘটনা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ অভিযানের জন্য সেনাবাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই। সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার ও সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধে সেনাবাহিনীর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার অনুরোধ করছি।”
এদিকে ইয়াবা ও মোটরসাইকেল জব্দের
ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া মোটরসাইকেল চালককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী, ঘুমধুমসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা রয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা,
মাদকের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24