অবরুদ্ধের ৩০ ঘণ্টা পর অবশেষে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ক্যাম্পাসে গিয়ে উপাচার্যকে উদ্ধার অভিযান চালান। তাদের প্রচেষ্টায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম চুয়েট ক্যম্পাস ত্যাগ করতে সমর্থ হন। তাকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।
তবে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। কর্মবিরতিতে রয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে টানা ২৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ, পানি ও খাবার সরবরাহ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন উপাচার্য। একইদিন সকালে ১৮ দিন পর তালা ভেঙে নিজ দফতরে প্রবেশ করায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাকে বের হতে দেয়া হবে না।’
জানা যায়, দুদিনের আন্দোলনে বিচ্ছিন্ন করা হয় উপাচার্যের কক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগ। এতে অসুস্থ হয়ে পড়েন উপাচার্য। মঙ্গলবার দুপুরে তার কক্ষে যান দুজন চিকিৎসক। স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
এরপর সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে যান জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। এ সময় তাদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষার্থীরা। তুলে ধরেন নিজেদের দাবি। বেশ কিছু সময় ধরে আলোচনার পর ভিসিকে নিতে তার কার্যালয়ে ঢোকেন পুলিশ সুপার এবং জেলা প্রশাসক।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, সকালে পানি, কলা ও বিস্কুটসহ খাবার পাঠানো হয় ভিসি ভবনের ভেতরে। কিন্তু, সেই খাবার গ্রহণ করেননি নবনিযুক্ত উপাচার্য। উপাচার্য অসুস্থ হয়ে পড়ায় তারা তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে এসেছেন এবং শিক্ষার্থীদের দাবিও সরকারের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।
এর আগে দুপুর ১টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম সাংবাদিকদের জানান, তিনি বুকে ব্যথা ও মাথাব্যথা অনুভব করছেন এবং তার চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন। দুপুর দেড়টার দিকে চুয়েট মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক মো. শাহাবুদ্দিনসহ একটি মেডিকেল টিম সেখানে পৌঁছায়। উপাচার্যের দোতলার বিশ্রামকক্ষের দরজায় তারা বেশ কয়েকবার ডাকাডাকির পর তিনি দরজা খোলেন।
এ সময় ডা. শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘তিনি সুস্থ আছেন, তার কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। আমি একটি লিখিত প্রতিবেদন দিয়ে এসেছি। তবে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকায় তিনি কিছুটা অস্বস্তিতে আছেন।’
এরপর দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. টিপলু কান্তি দে সেখানে পৌঁছান। শিক্ষার্থীরা ফটক খুলে দিলে তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ডা. টিপলু বলেন, ‘উপাচার্য আমাকে জানিয়েছেন, তার শরীরের বাঁ পাশে ব্যথা হচ্ছে। তার উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। উপাচার্য হাসপাতালে যেতে প্রস্তুত আছেন। তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে চান।’
উল্লেখ্য, আগের ভিসি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। কিন্তু ২১ দিন পর ১২ অক্টোবর নবনিযুক্ত ভিসি ড. শেখ মোহাম্মদ শরিফুল আলম তালা ভেঙে নিজ কার্যালয়ে ঢুকলেই ঘটে বিপত্তি। তাকে অবরুদ্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দেয় উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা। বিচ্ছিন্ন করা হয় বিদ্যুৎ সংযোগ। নতুন করে ডাক দেয় সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24