
উত্তর সাগরের বিতর্কিত একটি নতুন গ্যাসক্ষেত্রে খননকাজ শুরুর পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। বুধবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর মধ্য দিয়ে কয়েক মাস ধরে চলা গ্যাসক্ষেত্রটির ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার অবসান হলো।
২০২৪ সালে ক্ষমতায় ফিরে লেবার সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, নতুন করে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের কোনো অনুমোদন দেওয়া হবে না। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছেন, অ্যাবারডিনের প্রায় ১৫০ মাইল পূর্বে অবস্থিত জ্যাকড’ গ্যাসক্ষেত্রে খননকাজের অনুমোদন দিলে ‘কয়েক শত মানুষের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত হবে এবং এ শীতে কয়েক লাখ বাড়ি উষ্ণ রাখতে সহায়তা করবে।’
তিনি বলেন, ‘মানুষ যখন সত্যিই নানা সংকটে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ব্রিটেনে থাকা বিদ্যমান জ্বালানির মজুত সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর বিষয়টি দায়িত্বশীলভাবে বিবেচনা করাই যথার্থ। এ মজুত আমাদের সহায়তা করতে পারে।’
বার্নহাম আরও বলেন, ‘আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যেতে ২০৫০ সালের মধ্যে নিট শূন্য কার্বন নিঃসরণ অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে জলবায়ু সুরক্ষায় আমাদের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথেও আগামী কয়েক দশক জ্বালানির চাহিদা মেটাতে তেল ও গ্যাসের প্রয়োজন হবে।’
তিনি বলেন, ‘এ কারণেই আমরা উত্তর সাগরের বিষয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
এর আগে, কনজারভেটিভ সরকার জ্যাকড ও রোজব্যাংক গ্যাসক্ষেত্রে খননকাজের অনুমোদন দিয়েছিল।
রোজব্যাংকে মূলত তেলের মজুত রয়েছে। ক্ষেত্রটি শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের পশ্চিমে অবস্থিত।
তবে পরিবেশবাদীদের আইনি চ্যালেঞ্জের পর উভয় ক্ষেত্রের অনুমোদন নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়।
স্কটল্যান্ডের আদালত সেই চ্যালেঞ্জের পর খননকাজের অনুমোদন বাতিল করেন।
দুটি ক্ষেত্রের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা আদুরা জানিয়েছে, ক্ষেত্র দুটি থেকে উত্তর সাগরে যুক্তরাজ্যের মোট গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ৬ শতাংশ পাওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া, ক্ষেত্র দুটি দেশটির অর্থনীতিতে ২ হাজার ৮০০ কোটি পাউন্ডের বেশি (৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার) অবদান রাখতে পারে। এর মাধ্যমে সাড়ে ৩ হাজার জনেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
এমন এক সময়ে এ সিদ্ধান্ত এলো, যখন উত্তর সাগরে জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলন বাড়ানোর জন্য যুক্তরাজ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপও রয়েছে।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24