ছাত্রদল থেকে বিএনপি দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, ৬২ মামলার রাজনৈতিক আসামী আনোয়ার জাহিদ (জাহিদ মাস্টার) ; সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে নেতাকর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১০ টি সেক্টর নিয়ে ১ নম্বর ওয়ার্ড আগামী নির্বাচনে ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতা মো. আনোয়ার জাহিদ, যিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘জাহিদ মাস্টার’ নামে পরিচিত। ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে পথচলা শুরু করে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। রাজনৈতিক জীবনে মামলা, কারাবরণ ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনসেবায় ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন তিনি।
তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে উত্তরা পূর্ব থানা বিএনপির নেতাকর্মী, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী পরিবেশ অনুকূলে থাকলে ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুনভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে তাঁর।
তবে এখন পর্যন্ত তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা বা দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে আগামী নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণের বিষয়টি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, নির্বাচনী পরিস্থিতি এবং তাঁর নিজস্ব প্রস্তুতির ওপর। ছাত্রদল দিয়ে শুরু, তিন দশকেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক পথচলা মো. আনোয়ার জাহিদ ১৯৭৩ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার শুভগাছা ইউনিয়নের ঝুলকাইল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম এনতাজ আলী সরকার এবং মাতা মরহুমা ফাতেমা বেগম।
শিক্ষাজীবনে থাকতেই ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদস্য ফরম পূরণের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে ছাত্রসংগঠনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান তিনি। শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৮৯ সালে মাধ্যমিক (এসএসসি), ১৯৯১ সালে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পাস করেন। পরে ১৯৯৪ সালে সিরাজগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ১৯৯০ সালে চান্দাইকোনা হাজী ওয়াহেদ মরিয়ম ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আনোয়ার জাহিদ। এরপর ১৯৯২-৯৩ শিক্ষাবর্ষে একই কলেজের ছাত্র সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন বলে তাঁর দেওয়া জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ রয়েছে।
ছাত্ররাজনীতির এই অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তি তৈরি করে। শিক্ষাজীবন থেকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ধীরে ধীরে তাঁকে বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করে।
থানা বিএনপির বিভিন্ন দায়িত্বে সক্রিয় ভূমিকা: ছাত্রদলের রাজনীতির পর আনোয়ার জাহিদ বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি বৃহত্তর উত্তরা থানা বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক এবং উত্তরা পূর্ব থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি উত্তরা পূর্ব থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক যোগাযোগ রক্ষা এবং রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে উত্তরা পূর্ব থানা বিএনপির রাজনীতিতে তিনি পরিচিতি অর্জন করেছেন বলে তাঁর অনুসারীরা জানান। তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের ভাষ্য, রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিকূলতা থাকলেও দলীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার চেষ্টা করেছেন তিনি। দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে এবার স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।
৬২টি রাজনৈতিক মামলার আসামী , এবং কারাবরণের অভিজ্ঞতা আছে দলের জন্য ত্যাগ এবং নেতাকর্মীদের কাছে নিবেদিত আনোয়ার জাহিদের রাজনৈতিক জীবনের আলোচিত অধ্যায়গুলোর মধ্যে রয়েছে মামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত ১৭ বছরে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ৬২টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এসব মামলার কারণে একাধিকবার কারাবরণ এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানান।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দায়ের করা দুটি মামলায় তাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দেওয়া বিবরণে, ২৬ নভেম্বর ২০১৩-সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় ২ বছর ৬ মাস এবং ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮-সংশ্লিষ্ট আরেকটি মামলায় ৭ বছর ২ মাসের সাজা হওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। আনোয়ার জাহিদের অনুসারীদের দাবি, মামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও তিনি রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন এবং দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পথচলা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
১ নম্বর ওয়ার্ড ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ? ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশের মধ্য দিয়ে নতুনভাবে আলোচনায় এসেছেন আনোয়ার জাহিদ (জাহিদ মাস্টার)। তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং স্থানীয় মানুষের সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাড়া-মহল্লার বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, নাগরিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং জনসেবামূলক উদ্যোগের বিষয়ে পরিকল্পনা তৈরি করা সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ।
তবে কোনো প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি বা দলীয় কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতাই নির্বাচনে জনসমর্থনের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। ভোটারদের আস্থা অর্জনে স্থানীয় সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান, নাগরিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে কী ধরনের সমর্থন তৈরি হয়েছে, । দলীয় মনোনয়ন, নির্বাচনী তফসিল এবং প্রার্থিতা-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
কাউন্সিলর হলে নাগরিক সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একজন কাউন্সিলরের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে নাগরিক সেবা সহজ করা, এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে উদ্যোগ নেওয়া, সড়ক ও ড্রেনেজ সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা এবং বাসিন্দাদের অভিযোগ ও প্রয়োজন যথাযথ জায়গায় তুলে ধরা।
আনোয়ার জাহিদের সমর্থকদের প্রত্যাশা, তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হলে তাঁর দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগকে জনসেবার কাজে লাগাতে পারবেন। তাঁদের মতে, স্থানীয় মানুষের সমস্যা শোনা, নাগরিকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় এবং এলাকার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে একজন জনপ্রতিনিধি তাঁর দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পারেন।
তবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আনোয়ার জাহিদের পক্ষ থেকে ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা, নাগরিক সমস্যা সমাধানের অগ্রাধিকার কিংবা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা হলে ভোটাররা তাঁর পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাবেন।
রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে জনসম্পৃক্ততার পথে: ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু, কলেজ ছাত্র সংসদে দায়িত্ব পালন, থানা বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে সম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা—সব মিলিয়ে আনোয়ার জাহিদের জীবনবৃত্তান্তে রয়েছে কয়েক দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার বিবরণ। তাঁর অনুসারীরা তাঁকে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী একজন নিবেদিতপ্রাণ বিএনপি নেতা হিসেবে তুলে ধরেন।
এখন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সামনে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে আলোচনায় এসেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, দলীয় সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় কতটা এগিয়ে যেতে পারেন, তা নির্ভর করবে তাঁর বাস্তব কর্মকাণ্ড, জনসম্পৃক্ততা, কর্মপরিকল্পনা, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং ভোটারদের মূল্যায়নের ওপর। সব মিলিয়ে, আনোয়ার জাহিদ (জাহিদ মাস্টার)-এর সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থিতা নিয়ে তাঁর অনুসারীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কি না, স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কী ধরনের পরিকল্পনা সামনে আনেন এবং নাগরিক সমস্যা সমাধানে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন।
শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে একজন প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারিত হয় তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সততা, জবাবদিহি, জনসম্পৃক্ততা এবং বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে। আনোয়ার জাহিদের সম্ভাব্য প্রার্থিতার ক্ষেত্রেও ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটারদের কাছে এসব বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে জানা গেছে ।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24