মোঃ মুক্তাদির হোসেন:
স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ঘোনাপাড়া এলাকায় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নির্দেশ অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে বাঁশের খুঁটি পুঁতে অস্থায়ী সীমানা নির্মাণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে মিলন গংয়ের বিরুদ্ধে। গতকাল রাতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে। এ ঘটনায় জমির দখল নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে, গত ১৩ অক্টোবর দুপুরে বিরোধপূর্ণ জমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদার। এ সময় তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং জমিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দলিল, পর্চা ও অন্যান্য কাগজপত্র তাঁর কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চলমান ৩৭/২৫ নম্বর বাটোয়ারা মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে জমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ, বালু ভরাট কিংবা চারা ও কলাগাছ রোপণ না করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।এদিকে, বিরোধপূর্ণ কৃষিজমিতে বালু ভরাট, ভরাট করা বালু অপসারণ এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন মো. জামিল হোসেন। আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলমান থাকা অবস্থায় রাতের আঁধারে কৃষিজমিতে বালু ভরাট করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর লঙ্ঘন হতে পারে উল্লেখ করে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
আবেদনের অনুলিপি গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
আইনজীবীর পরিচয় ব্যবহার নিয়ে পাল্টা অভিযোগ এদিকে, মিলনের ছেলে লিমনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে আপত্তিকর ও বিতর্কিত পোস্ট দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন অভিযোগকারী পক্ষ। তাঁদের দাবি, এসব পোস্টের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে লিমনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লিমন নিজেকে শিক্ষানবিশ আইনজীবী এবং গাজীপুরের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামানের সহকারী হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে আমাদের প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামানের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, লিমন নামে তাঁর কোনো সহকারী নেই। তাঁর দাবি, লিমন তাঁর পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে তিনি লিমন ও তাঁর বাবা মিলনকে ডেকে তাঁর নাম ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করেছেন বলেও জানান। ভবিষ্যতে তাঁর নাম ব্যবহার করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রশাসনের বক্তব্য
বিরোধপূর্ণ জমিতে বাঁশের খুঁটি পোঁতার অভিযোগের বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁকে কেউ আগে অবহিত করেননি। তবে বিষয়টি জানানোর পর তিনি পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
অন্যদিকে, মো. জামিল হোসেন আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন, তিনি নিজেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদারকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তা তাঁকে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাখিল করা কাগজপত্র পর্যালোচনা এবং আদালতের চলমান মামলার নিষ্পত্তির ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মিলন ও লিমনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রকাশ করা হবে।
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24