সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: প্রতিদিন নিয়ম করে এক মুঠো বাদাম খাওয়া উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। ১ লাখ ৪৩ হাজরেরও বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত আটটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার এক নতুন বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় যা জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ৫৭ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইনটুইটিভ ইটিংয়ের সঙ্গে কম মানসিক চাপ, ভালো ঘুম এবং উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের কম ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে।
মানসিক চাপে শরীরে ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এতে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়ে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ও ব্যায়ামের অভ্যাস বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে।
হেনরি ফোর্ড হেলথের সেন্টার ফর হেলথ প্রমোশন অ্যান্ড ডিজিজ প্রিভেনশনের সুপারভাইজার অ্যাশলি কারনাহান বলেন, ‘মানসিক চাপে থাকা ব্যক্তিরা প্রায়ই মনোযোগ দিয়ে খাবার খান না। তাড়াহুড়ো করে খাওয়ার সময় রক্তচাপ বাড়তে পারে।
মানসিক চাপের কারণে অনেকে কম পুষ্টিকর খাবার বেছে নেন বা বেশি খান। এতে ওজন বাড়ার ঝুঁকি থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কাও বাড়ায়।’
ড্যাশ ডায়েটের পাশাপাশি ইনটুইটিভ ইটিং
কয়েক দশক ধরে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ড্যাশ ডায়েট অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা ও সোডিয়াম কম খেলে রক্তচাপ প্রায় ১১ মিলিমিটার পারদ কমতে পারে। ‘পরিবেশন’ বলতে খাবারের নির্দিষ্ট পরিমাণ বোঝায়। ড্যাশ ডায়েটে প্রতিদিন খেতে হবে-
শস্যজাতীয় খাবার: ৬-৮ বার
মাংস, মাছ বা মুরগি: সর্বোচ্চ ৬ বার
শাকসবজি ও ফল: প্রতিটি ৪-৫ বার
চর্বি ও তেল: ২-৩ বার
সোডিয়াম: সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০০ মিলিগ্রাম; ১ হাজার ৫০০ মিলিগ্রাম হলে আরও ভালো।
এছাড়া প্রতি সপ্তাহে ৪-৫ পরিবেশন বাদাম, বীজ, শুকনো শিম ও মটরশুঁটি খেতে হবে। মিষ্টিজাতীয় খাবার পাঁচ বারের কম রাখতে হবে।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইনের সহকারী অধ্যাপক ম্যাথিউ ল্যান্ড্রির মতে, ড্যাশ ডায়েটের পাশাপাশি ইনটুইটিভ ইটিংও অনুসরণ করা যায়। এটি খাবারের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে ইনটুইটিভ ইটিং ব্যায়াম, ওষুধ সেবন বা মানসিক চাপ কমানোর বিকল্প নয়।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইনটুইটিভ ইটিংয়ের অভ্যাস গড়বেন যেভাবে
ইনটুইটিভ ইটিং শুরু করতে শরীরের সংকেত বুঝতে শিখুন। একঘেয়েমি নয়, ক্ষুধা লাগলে খান। কোনো খাবারকে ভালো বা খারাপ না ভেবে অপরাধবোধ ছাড়াই পছন্দের খাবার উপভোগ করুন।
অ্যাশলি কারনাহানের মতে, খাবারের স্বাদ, ঘ্রাণ ও অনুভূতিতে মনোযোগ দিলে অল্প খেয়েও তৃপ্তি পাওয়া সম্ভব। খাবারের সময় মুঠোফোন ও টেলিভিশন থেকে দূরে থাকলে ক্ষুধা ও পেট ভরে যাওয়ার সংকেতও ভালোভাবে বোঝা যায়।
এতে খাবারের সঙ্গীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ বাড়ে। শক্তিশালী সামাজিক সম্পর্ক উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে। কারনাহানের পরামর্শ, একসঙ্গে সব কৌশল অনুসরণ না করে একটি দিয়ে শুরু করুন। ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তুলুন।
সূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ
সম্পাদক : মো: মাসুদ পারভেজ, মোবাইল : 01712-983974, অফিস : রহমান ম্যানসন, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, ই-মেইল : citizennews786@gmail.com
© All rights reserved 2019-2026 CitizenNews24