ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকটে পোশাক শিল্প কারখানা উৎপাদনে অচল হাজারো শ্রমিক বেকার সার পাচার রোধে উদাসীনতার অভিযোগ: ২০ বছরের অধিক সময় একই রাজাপুর উপজেলা মহিলা দলের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি মাহমুদা সম্পাদক রিক্তা তাহিরপুরে মামলার বাদির লোকজন কর্তৃক আসামীদের বাড়িঘর  ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন কালিয়াকৈরে মৌচাক এলাকায় মহাসড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে ফুটওভার ব্রিজের নির্মাণের দাবিতে অবরোধ ও বিক্ষোভ স্থানীয় বাসিন্দারা রোকাইয়া আক্তার রিংকি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কুড়িগ্রামে যৌথ অভিযানে ভারতীয় ১৩ লাখ টাকার মোবাইলসহ এনামুল আ/টক নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের ২০২৬-২০২৮ সাধারণ গ্রুপের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে তালম ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম গোদাগাড়ীতে মাদকের বিরুদ্ধে জিডি ও তরুণীর অনশন উন্মোচিত চার ভাইয়ের অপরাধ সাম্রাজ্য

যেভাবে দোয়া করলে দ্রুত কবুল করা হবে বললেন বিশ্বনবি

ধর্ম ডেস্ক:অন্তরে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে একনিষ্ঠভাবে দোয়া করা। দোয়ার পরিপূর্ণ সফলতা লাভে খাঁটি নিয়তে কেবলামুখী হয়ে দোয়া করতে স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

কোনো কিছু চাওয়ার আগেই আল্লাহর প্রশংসা এবং প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওপর দরূদ পাঠ করে ধিরস্থিরভাবে নিজের প্রয়োজনের কথা আল্লাহর কাছে তুলে ধরা। তাতে দোয়া দ্রুত কবুল হয়। এ রকমই বলেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তবে প্রয়োজন তুলে ধরার আগে আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর দরূদ পড়ার কথাও বলেছেন তিনি। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তি তার নামাজের মধ্যে দোয়া করতে দেখলেন। ওই ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করল না এবং আল্লাহর নবি ওপর দরূদ পড়ল না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, ‘হে মুসাল্লি! (নামাজি) তুমি দোয়া করতে তাড়াহুড়া করলে। অতঃপর তাকে দোয়া করার নিয়ম শিখিয়ে দিলেন।

পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য একজনকে দোয়া করতে শুনলেন। ওই ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করল এবং নবির ওপর দরূদ পড়ল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তুমি দোয়া কর, তোমার দোয়া কবুল করা হবে। তুমি যা চাও তোমাকে তা দেয়া হবে।’ (নাসাঈ, তিরমিজি, মিশকাত)

অন্য হাদিসে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে চাই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি একমাত্র তুমিই আল্লাহ। তুমি ব্যতিত প্রকৃত কোনো মাবুদ নেই। তুমি একক নিরপেক্ষ মুখাপেক্ষিহীন। যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কারো থেকে জন্ম নেননি। তার সমকক্ষ কেউ নেই।

তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘অবশ্যই সে আল্লাহকে এমন নামে ডেকেছে যে নামে চাওয়া হলে দেয়া হয়। প্রার্থনা করা হলে কবুল করা হয়।’ (আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, বুলুগুল মারাম)
সুতরাং মানুষ যখন আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চাইবে কিংবা দোয়া ও মোনাজাত করবে, তখন তারা আল্লাহর প্রশংসা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরূদ পাঠ করে তার পর কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের আবেদন করবে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দোয়া করতেন তখন এভাবে আল্লাহর প্রশংসা করতেন-
اِنَّ الْحَمدَ للهِ نَحْمَدُهُ وَ نَسْتَعِيْنُهُ مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَ مَنْ يُّضْلِلْ فَلَا هَادِىَ لَهُ وَ أَشْهَدُ أَنْ لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَ رَسُوْلُهُ
উচ্চারণ : ইন্নাল হামদা লিল্লাহি নাহমাদুহু ওয়া নাসতায়িনুহু মাই ইয়াহদিহিল্লাহু ফালা মুদিল্লা লাহু ওয়া মাই ইয়ুদলিল ফালা হাদিয়া লাহু ওয়া আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।’ (মুসলিম, মিশকাত, তিরমিজি, আবু দাউদ)

যারা দোয়ার সময় এটি পড়তে পারবে না তারা চাইলে ছো্ট্ট এ প্রশংসা করতে পারেন। আর তাহলো-
نَحْمَدُهُ وَ نُصَلِّىْ عَلَى رَسُوْلِهِ الْكَرِيْمِ
উচ্চারণ : নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসুলিহিল কারিম।

اَلْحَمْدُ للهِ وَحْدَهُ وَ الصَّلَاةُ وَ السَّلَامُ عَلَى مَنْ لَّا نَبِيَّ بَعْدَهُ
উচ্চারণ : আলহামদুল্লিাহি ওয়াহদাহু ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা মান লা নাবিয়্যা বাদাহু।

সম্ভব হলে দোয়া করার আগে দু রাকাআত নামাজ পড়ে দোয়া করা। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি তা বর্ণনা করেন। এক বর্ণনায় এসেছে-

‘মানুষ কোনো গোনাহ করার পর উত্তমভাবে ওজু করে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেন।’ (আবু দাউদ)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী আল্লাহর প্রশংসা ও বিশ্বনবির ওপর দরূদ পাঠ করে দোয়া করার তাওফিক দান করুন। সম্ভব হলে দোয়ার আগে দুই রাকাআত নামাজ পড়ে দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকটে পোশাক শিল্প কারখানা উৎপাদনে অচল হাজারো শ্রমিক বেকার

যেভাবে দোয়া করলে দ্রুত কবুল করা হবে বললেন বিশ্বনবি

আপডেট টাইম : ১১:২০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯

ধর্ম ডেস্ক:অন্তরে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে একনিষ্ঠভাবে দোয়া করা। দোয়ার পরিপূর্ণ সফলতা লাভে খাঁটি নিয়তে কেবলামুখী হয়ে দোয়া করতে স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

কোনো কিছু চাওয়ার আগেই আল্লাহর প্রশংসা এবং প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওপর দরূদ পাঠ করে ধিরস্থিরভাবে নিজের প্রয়োজনের কথা আল্লাহর কাছে তুলে ধরা। তাতে দোয়া দ্রুত কবুল হয়। এ রকমই বলেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তবে প্রয়োজন তুলে ধরার আগে আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর দরূদ পড়ার কথাও বলেছেন তিনি। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তি তার নামাজের মধ্যে দোয়া করতে দেখলেন। ওই ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করল না এবং আল্লাহর নবি ওপর দরূদ পড়ল না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, ‘হে মুসাল্লি! (নামাজি) তুমি দোয়া করতে তাড়াহুড়া করলে। অতঃপর তাকে দোয়া করার নিয়ম শিখিয়ে দিলেন।

পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য একজনকে দোয়া করতে শুনলেন। ওই ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করল এবং নবির ওপর দরূদ পড়ল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তুমি দোয়া কর, তোমার দোয়া কবুল করা হবে। তুমি যা চাও তোমাকে তা দেয়া হবে।’ (নাসাঈ, তিরমিজি, মিশকাত)

অন্য হাদিসে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে চাই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি একমাত্র তুমিই আল্লাহ। তুমি ব্যতিত প্রকৃত কোনো মাবুদ নেই। তুমি একক নিরপেক্ষ মুখাপেক্ষিহীন। যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কারো থেকে জন্ম নেননি। তার সমকক্ষ কেউ নেই।

তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘অবশ্যই সে আল্লাহকে এমন নামে ডেকেছে যে নামে চাওয়া হলে দেয়া হয়। প্রার্থনা করা হলে কবুল করা হয়।’ (আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, বুলুগুল মারাম)
সুতরাং মানুষ যখন আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চাইবে কিংবা দোয়া ও মোনাজাত করবে, তখন তারা আল্লাহর প্রশংসা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরূদ পাঠ করে তার পর কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের আবেদন করবে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দোয়া করতেন তখন এভাবে আল্লাহর প্রশংসা করতেন-
اِنَّ الْحَمدَ للهِ نَحْمَدُهُ وَ نَسْتَعِيْنُهُ مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَ مَنْ يُّضْلِلْ فَلَا هَادِىَ لَهُ وَ أَشْهَدُ أَنْ لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَ رَسُوْلُهُ
উচ্চারণ : ইন্নাল হামদা লিল্লাহি নাহমাদুহু ওয়া নাসতায়িনুহু মাই ইয়াহদিহিল্লাহু ফালা মুদিল্লা লাহু ওয়া মাই ইয়ুদলিল ফালা হাদিয়া লাহু ওয়া আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।’ (মুসলিম, মিশকাত, তিরমিজি, আবু দাউদ)

যারা দোয়ার সময় এটি পড়তে পারবে না তারা চাইলে ছো্ট্ট এ প্রশংসা করতে পারেন। আর তাহলো-
نَحْمَدُهُ وَ نُصَلِّىْ عَلَى رَسُوْلِهِ الْكَرِيْمِ
উচ্চারণ : নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসুলিহিল কারিম।

اَلْحَمْدُ للهِ وَحْدَهُ وَ الصَّلَاةُ وَ السَّلَامُ عَلَى مَنْ لَّا نَبِيَّ بَعْدَهُ
উচ্চারণ : আলহামদুল্লিাহি ওয়াহদাহু ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা মান লা নাবিয়্যা বাদাহু।

সম্ভব হলে দোয়া করার আগে দু রাকাআত নামাজ পড়ে দোয়া করা। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি তা বর্ণনা করেন। এক বর্ণনায় এসেছে-

‘মানুষ কোনো গোনাহ করার পর উত্তমভাবে ওজু করে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেন।’ (আবু দাউদ)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী আল্লাহর প্রশংসা ও বিশ্বনবির ওপর দরূদ পাঠ করে দোয়া করার তাওফিক দান করুন। সম্ভব হলে দোয়ার আগে দুই রাকাআত নামাজ পড়ে দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


প্রিন্ট