ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডেনমার্কে রুশ নাশকতার প্রস্তুতির বিষয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা বরিশালে ২৪ ঘণ্টায় ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড তরুণদের উদ্যোক্তা হতে অর্থায়ন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশালে ২৪ ঘণ্টায় ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড রাজশাহীতে পরিবেশবান্ধব গ্রিন বিল্ডিংয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি : আইরিন খান সুনামগঞ্জের নতুনপাড়াস্থ শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির প্রাঙ্গণে চিত্রাংঙ্গন ও কুইজ প্রতিযোগিতা,ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত স্কুলের দায়িত্ব ফেলে গরুর হাটে ব্যবসা, অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে স্কুলে না থাকার অভিযোগ স্বামীর মৃত্যুর পরই সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা, মোহাম্মদপুর চন্দ্রিমা হাউজিংয়ে নওরিন সুলতানা মিশুর অভিযোগ শান্তিগঞ্জে হ্যান্ডকাপ অবস্হায় পুলিশের কাছ থেকে আসামীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় স্বজনরা

বিচারক ও আইনজীবীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের তিন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের অন্যতম। গণতন্ত্রের বিকাশ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার রক্ষায় বিচার বিভাগের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বিচার বিভাগের কাছ থেকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বেঞ্চের বিচারক ও বার আইনজীবীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আদালতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সম্পর্কে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) রাতে বঙ্গভবনে দরবার হলে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট এবং অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা আদালতের বিচারকগণের সঙ্গে নৈশভোজপূর্ব বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আইন পেশা প্রকৃতপক্ষে খুবই সম্মানিত। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, নিম্ন ও উচ্চ আদালতের কিছু সম্মানিত আইনজীবী বিচারকে কেন্দ্র করে হইচই ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছেন। এটা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত হতে পারে না।

তিনি আইনজীবীদের আইন পেশার ঐতিহ্য ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।

দেশ ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে পারস্পরিক ভারসাম্য রেখে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগ পৃথকভাবে দায়িত্ব পালন করলেও তারা পরস্পর সস্পর্কযুক্ত। কেউ কারো প্রতিপক্ষ নন, বরং পরস্পর সম্পূরক। তাই আপনাদেরকে পারস্পরিক ভারসাম্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

বিচার বিভাগ জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় রক্ষাকবচ হিসেবে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি স্বাধীনভাবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

’৭৫ পরবর্তী স্বৈরশাসকরা সংবিধানের ৫ম ও ৭ম সংশোধনী পাশের মাধ্যমে তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেছিল উল্লেখ করে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ৫ম ও ৭ম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে, দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে যে অনন্য সাধারণ ভূমিকা রেখেছে তার প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার হত্যার বিচার, জেলহত্যা বিচার, ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার দ্রুত বিচারের ফলে জনমনে বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা বেড়েছে।’

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে বিচারপতি, আইনজীবী এবং ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি তথ্য প্রযুক্তির সুবিধা ব্যবহার করে মামলা ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনার জন্য বিচার বিভাগকে নির্দেশ দেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ডেনমার্কে রুশ নাশকতার প্রস্তুতির বিষয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা

বিচারক ও আইনজীবীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আপডেট টাইম : ১১:৪২:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের তিন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের অন্যতম। গণতন্ত্রের বিকাশ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার রক্ষায় বিচার বিভাগের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বিচার বিভাগের কাছ থেকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বেঞ্চের বিচারক ও বার আইনজীবীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আদালতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সম্পর্কে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) রাতে বঙ্গভবনে দরবার হলে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট এবং অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা আদালতের বিচারকগণের সঙ্গে নৈশভোজপূর্ব বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আইন পেশা প্রকৃতপক্ষে খুবই সম্মানিত। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, নিম্ন ও উচ্চ আদালতের কিছু সম্মানিত আইনজীবী বিচারকে কেন্দ্র করে হইচই ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছেন। এটা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত হতে পারে না।

তিনি আইনজীবীদের আইন পেশার ঐতিহ্য ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।

দেশ ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে পারস্পরিক ভারসাম্য রেখে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগ পৃথকভাবে দায়িত্ব পালন করলেও তারা পরস্পর সস্পর্কযুক্ত। কেউ কারো প্রতিপক্ষ নন, বরং পরস্পর সম্পূরক। তাই আপনাদেরকে পারস্পরিক ভারসাম্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

বিচার বিভাগ জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় রক্ষাকবচ হিসেবে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি স্বাধীনভাবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

’৭৫ পরবর্তী স্বৈরশাসকরা সংবিধানের ৫ম ও ৭ম সংশোধনী পাশের মাধ্যমে তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেছিল উল্লেখ করে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ৫ম ও ৭ম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে, দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে যে অনন্য সাধারণ ভূমিকা রেখেছে তার প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার হত্যার বিচার, জেলহত্যা বিচার, ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার দ্রুত বিচারের ফলে জনমনে বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা বেড়েছে।’

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে বিচারপতি, আইনজীবী এবং ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি তথ্য প্রযুক্তির সুবিধা ব্যবহার করে মামলা ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনার জন্য বিচার বিভাগকে নির্দেশ দেন।


প্রিন্ট