ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্ত্রীকে আনতে গিয়ে অভিমান, শ্রীপুরে পিকআপ চালকের মৃত্যু কালীগঞ্জে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আ/সামী গ্রে/ফতার বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় কুড়িগ্রামের বিজিবি সদস্য নিহত উলিপুরে কছিম উদ্দিনের ৩৪তম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে ভাওয়াইয়া ও সংগীতানুষ্ঠান সুনামগঞ্জের লাউড়েরগর গ্রামে আসাদ মিয়ার ঘর থেকে ৩০০ বোতল ফেনসিডিল,ফোসকাসহ ভারতীয় পণ্য জব্দ কলকাতার আগুনে নিভে গেল ৭ বাংলাদেশির প্রাণ, বেনাপোলে ফিরল ৫ মরদেহ—স্বজনদের আহাজারিতে ভারী সীমান্ত পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া কামনা বরিশালে বিমানবন্দরে এলাকায় ১০ কেজি গাঁজাসহ বাসযাত্রী গ্রে/প্তার ‎ ‎আইনে নিষেধ, বাস্তবে জমজমাট: পিরোজপুরে সরকারি শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্যের অভিযোগ, ওয়াকফ জমি রক্ষায় দুয়ারীপাড়ায় মানববন্ধন

আসামের বিজেপি সরকার বন্ধ করে দিচ্ছে মাদরাসা

অনলাইন ডেস্ক: ভারতের আসাম সরকার সেখানকার সরকারি মাদরাসা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাধারণ বিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে।

বিজেপির নেতৃত্বে থাকা রাজ্য সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এ খবর দিয়েছে। দশকের পর দশক ধরে চলে আসা ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এভাবে বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা চলছে নাগরিক সমাজে।

শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তের সাফাই গেয়ে বলেন, ধর্ম, ধর্মগ্রন্থ এবং আরবির মতো ভাষা শিশুদের শেখানো কোনো ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের কাজ নয়।

সংবাদমাধ্যম বলছে, ২০১৭ সালে মাদরাসার পাশাপাশি সংস্কৃতি কেন্দ্র বোর্ডকে মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছিল। এবার তা পুরোপুরি বন্ধই করে দিচ্ছে বিজেপি সরকার।

শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বলেন, এখানে কোনো স্বতন্ত্র বোর্ড ছাড়া প্রায় ১২০০ মাদরাসা ও ২০০ সংস্কৃতি চলছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরাও ম্যাট্রিকুলেশন বা উচ্চ মাধ্যমিকের সমমানের সনদ পায় বলে অনেক সমস্যার তৈরি হয়। সেজন্য আমরা এসব মাদরাসা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রকে সাধারণ বিদ্যালয়ে রূপান্তর করছি।

আর এ রাজ্যে যে ২ হাজার বেসরকারি মাদরাসা আছে, সেগুলোকেও কড়া নিয়ম-কানুনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

মাদরাসা বন্ধে বিজেপি সরকারের এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা চলছে আসামসহ ভারতের বিভিন্ন পরিসরে। সেখানকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, মুসলিম-বিদ্বেষী মানসিকতা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এর আগে ভারতের প্রথম রাজ্য হিসেবে আসামে বিতর্কিত নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) প্রকাশ করা হয়। কথিত ‘মূল জনগোষ্ঠী’ থেকে ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ আলাদা করতে ওই তালিকা করা হয়। কিন্তু এ তালিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছে আসামসহ ভারতজুড়ে।

প্রতিবাদকারীরা বলছেন, মুসলিমসহ সংখ্যালঘুদের খেদানোর উদ্দেশ্যেই বিজেপি সরকার এ ধরনের সাম্প্রদায়িক তালিকা করেছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রীকে আনতে গিয়ে অভিমান, শ্রীপুরে পিকআপ চালকের মৃত্যু

আসামের বিজেপি সরকার বন্ধ করে দিচ্ছে মাদরাসা

আপডেট টাইম : ১২:৩১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০

অনলাইন ডেস্ক: ভারতের আসাম সরকার সেখানকার সরকারি মাদরাসা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাধারণ বিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে।

বিজেপির নেতৃত্বে থাকা রাজ্য সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এ খবর দিয়েছে। দশকের পর দশক ধরে চলে আসা ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এভাবে বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা চলছে নাগরিক সমাজে।

শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তের সাফাই গেয়ে বলেন, ধর্ম, ধর্মগ্রন্থ এবং আরবির মতো ভাষা শিশুদের শেখানো কোনো ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের কাজ নয়।

সংবাদমাধ্যম বলছে, ২০১৭ সালে মাদরাসার পাশাপাশি সংস্কৃতি কেন্দ্র বোর্ডকে মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছিল। এবার তা পুরোপুরি বন্ধই করে দিচ্ছে বিজেপি সরকার।

শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বলেন, এখানে কোনো স্বতন্ত্র বোর্ড ছাড়া প্রায় ১২০০ মাদরাসা ও ২০০ সংস্কৃতি চলছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরাও ম্যাট্রিকুলেশন বা উচ্চ মাধ্যমিকের সমমানের সনদ পায় বলে অনেক সমস্যার তৈরি হয়। সেজন্য আমরা এসব মাদরাসা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রকে সাধারণ বিদ্যালয়ে রূপান্তর করছি।

আর এ রাজ্যে যে ২ হাজার বেসরকারি মাদরাসা আছে, সেগুলোকেও কড়া নিয়ম-কানুনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

মাদরাসা বন্ধে বিজেপি সরকারের এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা চলছে আসামসহ ভারতের বিভিন্ন পরিসরে। সেখানকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, মুসলিম-বিদ্বেষী মানসিকতা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এর আগে ভারতের প্রথম রাজ্য হিসেবে আসামে বিতর্কিত নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) প্রকাশ করা হয়। কথিত ‘মূল জনগোষ্ঠী’ থেকে ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ আলাদা করতে ওই তালিকা করা হয়। কিন্তু এ তালিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছে আসামসহ ভারতজুড়ে।

প্রতিবাদকারীরা বলছেন, মুসলিমসহ সংখ্যালঘুদের খেদানোর উদ্দেশ্যেই বিজেপি সরকার এ ধরনের সাম্প্রদায়িক তালিকা করেছে।


প্রিন্ট