ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

অবশেষে এসপি এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে ফেনী থেকে প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক,সিটিজেন নিউজ: মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের পর সোনাগাজী থানার ওসিকে বাঁচাতে চিঠি লিখে আলোচনায় আসা ফেনীর সেই এসপি এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে ফেনী থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

রোববার বিকেলে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সারা দেশে আলোচিত নুসরাত হত্যাকাণ্ডের পর ইতোমধ্যে সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডে এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকারকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে গুঞ্জন ছিল। শিগগিরই তাকে বরখাস্ত করা হবে এমন কথাও শোনা যাচ্ছিল।

পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নুসরাত হত্যার পর পুলিশ সদরদফতরের উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রতিবেদনে কিছু বিচ্যুতি ও দায়িত্ব অবহেলার বিষয় উঠে আসে। এসব বিষয়ে এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকারের জবাব সন্তোষজনক না হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গত ২৭ মার্চ ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। এরপর ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত পরীক্ষা দিতে মাদরাসায় যান। সে সময় মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় যান।

সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নুসরাত। ওই ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে সোনাগাজী থানায় অভিযোগ নিয়ে যাওয়া নুসরাতের সঙ্গে ওসি মোয়াজ্জেমের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। নুসরাতের মৃত্যুর পরদিন ‘নুসরাতের পরিবারকে অসহযোগিতার অভিযোগে’ প্রত্যাহার করা হয় ওসিকে। এরপর পুলিশ সদরদফতরের উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী দায়ী চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

অবশেষে এসপি এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে ফেনী থেকে প্রত্যাহার

আপডেট টাইম : ১১:০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক,সিটিজেন নিউজ: মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের পর সোনাগাজী থানার ওসিকে বাঁচাতে চিঠি লিখে আলোচনায় আসা ফেনীর সেই এসপি এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে ফেনী থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

রোববার বিকেলে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সারা দেশে আলোচিত নুসরাত হত্যাকাণ্ডের পর ইতোমধ্যে সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডে এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকারকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে গুঞ্জন ছিল। শিগগিরই তাকে বরখাস্ত করা হবে এমন কথাও শোনা যাচ্ছিল।

পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নুসরাত হত্যার পর পুলিশ সদরদফতরের উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রতিবেদনে কিছু বিচ্যুতি ও দায়িত্ব অবহেলার বিষয় উঠে আসে। এসব বিষয়ে এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকারের জবাব সন্তোষজনক না হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গত ২৭ মার্চ ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। এরপর ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত পরীক্ষা দিতে মাদরাসায় যান। সে সময় মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় যান।

সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নুসরাত। ওই ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে সোনাগাজী থানায় অভিযোগ নিয়ে যাওয়া নুসরাতের সঙ্গে ওসি মোয়াজ্জেমের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। নুসরাতের মৃত্যুর পরদিন ‘নুসরাতের পরিবারকে অসহযোগিতার অভিযোগে’ প্রত্যাহার করা হয় ওসিকে। এরপর পুলিশ সদরদফতরের উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী দায়ী চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।


প্রিন্ট