ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এআই দিয়ে বাড়ছে সাইবার হামলা শূকরের ভাইরাস সোয়াইন ফ্লু’তে আক্রান্ত ইমরান হাশমি গুমের সংস্কৃতি যেন আর ফিরে না আসে : নাহিদ ইসলাম স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চায় সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী মাগুরা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা-র আত্মপ্রকাশ: সভাপতি শাহীনুর ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি ব্রেকআপের ঠিক পরেই যে ৫টি কাজ কখনোই করা উচিত নয় ডিমের চেয়েও বেশি প্রোটিন পেতে খেতে পারেন যেসব খাবার বেস্ট ফ্রেন্ড সাফার জন্মদিন, শুভেচ্ছায় যা বললেন তৌসিফ মাভাবিপ্রবিতে ১৫ দিনব্যাপী তিন হাজারের বেশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

১০ মিনিটেই ভিসা, সহজেই ২৬ দেশ ভ্রমণের টোপ!

এক ভিসায় ২৬ দেশ ভ্রমণ। তাই আগ্রহটাও বেশি। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে প্রতারক সিন্ডিকেট। ঘরে বসেই মাত্র ১০ মিনিটে ভুয়া ভিসা তৈরি করা হচ্ছে। সেনজেন ভিসায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। সাত সদস্যকে গ্রেফতারের পর গোয়েন্দারা বলছেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক প্রতারকচক্র। বিদেশেও রয়েছে তাদের সদস্য

যে ভিসা পেতে মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও নিরাশ হতে হয় সেই ভিসাই তৈরি হয়ে যাচ্ছে মাত্র ১০ মিনিটে। নেই ভিসা প্রদানকারী দেশের কোনো অনুমোদন। ফটোশপ আর কিছু সফটওয়ারের মাধ্যমে অসাধুচক্র তৈরি করছে সেনজেন ভিসা।

পুলিশি অভিযানে ভিসা তৈরির সময় হাতে নাতে গ্রেফতার করা হয় লিটন মাহমুদকে। তার দেয়া তথ্যে পরে গ্রেফতার করা হয় আরও ৬ জনকে। বেরিয়ে আসে ভুয়া ভিসা তৈরি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া চক্রটির আদ্যোপান্ত।

চক্রটির অন্যতম সদস্য জুয়েল প্রধান। সেনজেন ভিসায় বিদেশ যেতে আগ্রহীদের জোগাড় করার দায়িত্ব তার। পাসপোর্টে ভিসার স্টিকার বসানোর কাজ করেন আরিফ হোসেন। এয়ার টিকেট ম্যানেজ করেন মুকসেদ ওরফে রাজ। আর টার্গেট দেশে যাওয়ার পর সেখানকার ইমিগ্রেশন পার করার দায়িত্ব পালন করে ভারতীয় এক দালাল।

জুয়েল বলেন, ইতালি যাওয়ার জন্য ১৫ লাখ টাকা চুক্তি করি। ভিসা করার জন্য আরিফকে ২০ হাজার টাকা দেই। তারপর টিকিট কাটি ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা দিয়ে। বিমানবন্দরেও আমাদের চুক্তি থাকে।

পুলিশ বলছে, ১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ভুয়া ভিসা তৈরি করে দেয় চক্রটি। এই টাকার ভাগ যায় চার থেকে পাঁচ জায়গায়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, এনএসআই এবং বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় একটি চক্রকে ধরতে পেরেছি। তারা বাসায় কম্পিউটারে ফটোশপে কাজ করে সর্বোচ্চ ২০ টাকা খরচ করে সেনজেন ভিসা তৈরি করে ৫০০ টাকায় বিক্রি করে দেন ২/৪ জন দালালের কাছে। সেই দালালরা বিভিন্ন শহর-উপশহরসহ মফস্বল থেকে মক্কেলকে ধরেন। তারপর তাদের পাসপোর্টে ওই ভিসার স্টিকার লাগিয়ে দেয়া হয়। এ রকম কাজে বেশিরভাগ সময়ই তারা ব্যর্থ হন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সফল হয়েছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখবো।

তিনি আরও বলেন, এসব ভিসা একেবারে ঘরোয়াভাবে তৈরি। কোনো দূতাবাস বা দেশ থেকে এসব ভিসার কোনো স্বীকৃতি নেই। সুতরাং এগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া।

চক্রটির সঙ্গে সিভিল এভিয়েশনের কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

এআই দিয়ে বাড়ছে সাইবার হামলা

১০ মিনিটেই ভিসা, সহজেই ২৬ দেশ ভ্রমণের টোপ!

আপডেট টাইম : ১০:২৪:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ জুলাই ২০২২

এক ভিসায় ২৬ দেশ ভ্রমণ। তাই আগ্রহটাও বেশি। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে প্রতারক সিন্ডিকেট। ঘরে বসেই মাত্র ১০ মিনিটে ভুয়া ভিসা তৈরি করা হচ্ছে। সেনজেন ভিসায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। সাত সদস্যকে গ্রেফতারের পর গোয়েন্দারা বলছেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক প্রতারকচক্র। বিদেশেও রয়েছে তাদের সদস্য

যে ভিসা পেতে মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও নিরাশ হতে হয় সেই ভিসাই তৈরি হয়ে যাচ্ছে মাত্র ১০ মিনিটে। নেই ভিসা প্রদানকারী দেশের কোনো অনুমোদন। ফটোশপ আর কিছু সফটওয়ারের মাধ্যমে অসাধুচক্র তৈরি করছে সেনজেন ভিসা।

পুলিশি অভিযানে ভিসা তৈরির সময় হাতে নাতে গ্রেফতার করা হয় লিটন মাহমুদকে। তার দেয়া তথ্যে পরে গ্রেফতার করা হয় আরও ৬ জনকে। বেরিয়ে আসে ভুয়া ভিসা তৈরি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া চক্রটির আদ্যোপান্ত।

চক্রটির অন্যতম সদস্য জুয়েল প্রধান। সেনজেন ভিসায় বিদেশ যেতে আগ্রহীদের জোগাড় করার দায়িত্ব তার। পাসপোর্টে ভিসার স্টিকার বসানোর কাজ করেন আরিফ হোসেন। এয়ার টিকেট ম্যানেজ করেন মুকসেদ ওরফে রাজ। আর টার্গেট দেশে যাওয়ার পর সেখানকার ইমিগ্রেশন পার করার দায়িত্ব পালন করে ভারতীয় এক দালাল।

জুয়েল বলেন, ইতালি যাওয়ার জন্য ১৫ লাখ টাকা চুক্তি করি। ভিসা করার জন্য আরিফকে ২০ হাজার টাকা দেই। তারপর টিকিট কাটি ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা দিয়ে। বিমানবন্দরেও আমাদের চুক্তি থাকে।

পুলিশ বলছে, ১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ভুয়া ভিসা তৈরি করে দেয় চক্রটি। এই টাকার ভাগ যায় চার থেকে পাঁচ জায়গায়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, এনএসআই এবং বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় একটি চক্রকে ধরতে পেরেছি। তারা বাসায় কম্পিউটারে ফটোশপে কাজ করে সর্বোচ্চ ২০ টাকা খরচ করে সেনজেন ভিসা তৈরি করে ৫০০ টাকায় বিক্রি করে দেন ২/৪ জন দালালের কাছে। সেই দালালরা বিভিন্ন শহর-উপশহরসহ মফস্বল থেকে মক্কেলকে ধরেন। তারপর তাদের পাসপোর্টে ওই ভিসার স্টিকার লাগিয়ে দেয়া হয়। এ রকম কাজে বেশিরভাগ সময়ই তারা ব্যর্থ হন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সফল হয়েছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখবো।

তিনি আরও বলেন, এসব ভিসা একেবারে ঘরোয়াভাবে তৈরি। কোনো দূতাবাস বা দেশ থেকে এসব ভিসার কোনো স্বীকৃতি নেই। সুতরাং এগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া।

চক্রটির সঙ্গে সিভিল এভিয়েশনের কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।


প্রিন্ট