ঢাকা ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী আমরা দেশ ও জনগণের জন্য এনসিপিসহ একসঙ্গে কাজ করছি: জামায়াত আমির ঢাকায় যাত্রাবিরতি ভুটানের রাজার, স্বাগত জানালেন রাষ্ট্রপতি আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) তরুণদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে জবিতে ‘ইউথ ইমপ্যাক্ট সামিট’ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের একটি পরীক্ষা স্থগিত অনফিশিয়াল টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ইনিংস ও ৪১৩ রানের হার বাংলাদেশ এ দলের ‘কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুললো উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী

১৮ কিলোমিটার ভ্যান চালিয়ে মেয়ের মরদেহ থানায় নিলেন বাবা

রাতে সড়কে কোনো যানবাহন নেই। তবে থানায় পৌঁছানো জরুরি। তাই রাতেই ভ্যান চালিয়ে নিজ মেয়ের মরদেহ প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরের থানায় নিয়ে যান ভ্যানচালক বাবা।

রাজশাহী বাগমারা উপজেলার বীরকুৎসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহতের নাম হোসনেয়ারা খাতুন (১৬)। তিনি বাগমারা উপজেলার যোগিপাড়া ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ভ্যানচালক আবদুল মালেকের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী বীরকুৎসা গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে রানা ইসলাম।

পরে মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। এদিন দুপুরের দিকে মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়।

এর আগে, সোমবার বীরকুৎসা গ্রামে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পুলিশের নির্দেশে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মেয়ের মরদেহ থানায় পৌঁছে দেন আবদুল মালেক।

পুলিশ জানায়, প্রায় সাত মাস আগে রানার সঙ্গে হোসনেয়ারার বিয়ে হয়। তবে বিয়ের আগে রানা ও হোসনেয়ারা একে-অপরকে পছন্দ করতেন। কিন্তু বিয়ের পর তিক্ততা শুরু হয়। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শুরু হয় মনোমালিন্য।

এদিকে নিহতের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, পারিবারিক অশান্তির কারণে হোসনেয়ারা ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

তবে নিহতের বাবার অভিযোগ, মোবাইল ফোন কিনে না দেওয়ায় তার মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন জামাই রানা ইসলাম। পরে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হয়। শেষে ঘরের বারান্দায় মরদেহ ফেলে রানা ও তার মা-বাবা পালিয়ে যান। এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে মরদেহে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করতে সময় লেগে যায় পুলিশের।

এ বিষয়ে বাগমারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তৌহিদুর রহমান জানান, কোনো গাড়ি না পাওয়ায় সোমবার রাতে নিহত হোসনেয়ারা খাতুনের বাবার ভ্যানে করে মরদেহ থানায় আনেন। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে নিহতের বাবা মামলা দায়ের করেছেন।

এ মামলায় গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে মাঠে কাজ করছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী

১৮ কিলোমিটার ভ্যান চালিয়ে মেয়ের মরদেহ থানায় নিলেন বাবা

আপডেট টাইম : ০৮:৩৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ জুলাই ২০২২

রাতে সড়কে কোনো যানবাহন নেই। তবে থানায় পৌঁছানো জরুরি। তাই রাতেই ভ্যান চালিয়ে নিজ মেয়ের মরদেহ প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরের থানায় নিয়ে যান ভ্যানচালক বাবা।

রাজশাহী বাগমারা উপজেলার বীরকুৎসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহতের নাম হোসনেয়ারা খাতুন (১৬)। তিনি বাগমারা উপজেলার যোগিপাড়া ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ভ্যানচালক আবদুল মালেকের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী বীরকুৎসা গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে রানা ইসলাম।

পরে মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। এদিন দুপুরের দিকে মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়।

এর আগে, সোমবার বীরকুৎসা গ্রামে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পুলিশের নির্দেশে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মেয়ের মরদেহ থানায় পৌঁছে দেন আবদুল মালেক।

পুলিশ জানায়, প্রায় সাত মাস আগে রানার সঙ্গে হোসনেয়ারার বিয়ে হয়। তবে বিয়ের আগে রানা ও হোসনেয়ারা একে-অপরকে পছন্দ করতেন। কিন্তু বিয়ের পর তিক্ততা শুরু হয়। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শুরু হয় মনোমালিন্য।

এদিকে নিহতের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, পারিবারিক অশান্তির কারণে হোসনেয়ারা ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

তবে নিহতের বাবার অভিযোগ, মোবাইল ফোন কিনে না দেওয়ায় তার মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন জামাই রানা ইসলাম। পরে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হয়। শেষে ঘরের বারান্দায় মরদেহ ফেলে রানা ও তার মা-বাবা পালিয়ে যান। এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে মরদেহে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করতে সময় লেগে যায় পুলিশের।

এ বিষয়ে বাগমারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তৌহিদুর রহমান জানান, কোনো গাড়ি না পাওয়ায় সোমবার রাতে নিহত হোসনেয়ারা খাতুনের বাবার ভ্যানে করে মরদেহ থানায় আনেন। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে নিহতের বাবা মামলা দায়ের করেছেন।

এ মামলায় গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে মাঠে কাজ করছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।


প্রিন্ট