ঢাকা ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকটে পোশাক শিল্প কারখানা উৎপাদনে অচল হাজারো শ্রমিক বেকার সার পাচার রোধে উদাসীনতার অভিযোগ: ২০ বছরের অধিক সময় একই রাজাপুর উপজেলা মহিলা দলের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি মাহমুদা সম্পাদক রিক্তা তাহিরপুরে মামলার বাদির লোকজন কর্তৃক আসামীদের বাড়িঘর  ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন কালিয়াকৈরে মৌচাক এলাকায় মহাসড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে ফুটওভার ব্রিজের নির্মাণের দাবিতে অবরোধ ও বিক্ষোভ স্থানীয় বাসিন্দারা রোকাইয়া আক্তার রিংকি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কুড়িগ্রামে যৌথ অভিযানে ভারতীয় ১৩ লাখ টাকার মোবাইলসহ এনামুল আ/টক নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের ২০২৬-২০২৮ সাধারণ গ্রুপের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে তালম ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম গোদাগাড়ীতে মাদকের বিরুদ্ধে জিডি ও তরুণীর অনশন উন্মোচিত চার ভাইয়ের অপরাধ সাম্রাজ্য

হারানো ছেলেকে খুঁজে পেলেন মা-বাবা ফেসঅ্যাপের সাহায্যে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক,সিটিজেন নিউজ: চীনের গুয়াংজু শহরে ফেসঅ্যাপের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৮ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া ছেলেকে খুঁজে পেলেন মা-বাবা। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেশি বয়সের সম্ভাব্য ছবি তৈরি করে খোঁজ চালিয়ে সাফল্য পেল পুলিশ। ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা মেট্রো-এর একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২০০১ সালের ৬ মে নিখোঁজ হয় বছর তিনের ছোট্ট ইউ ওয়েইফেঙ। ইউ-এর বাবা একটি নির্মাণাধীন বিল্ডিং-এ মিস্ত্রির কাজ করতে যাওয়ার সময়ে তাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল। বিল্ডিং-এর সামনের মাঠে শেষ বার খেলা করতে দেখা গিয়েছিল তাকে। তখনই অপহরণ করা হয় ছোট্ট ইউকে। কাজ শেষে বিল্ডিং-এর বাইরে বেরিয়ে ইউকে দেখতে পাননি তার বাবা। এরপর হন্যে হয়ে ঝেঙের খোঁজ করে তার মা বাবা। পুলিশে ডায়েরি করেও কোনও সুরাহা হয়নি।
গুয়াংজু পুলিশ জানিয়েছে, সে সময়ে বহু চেষ্টা করেও ইউ-এর খোঁজ পায়নি পুলিশ। সম্প্রতি ফেসঅ্যাপের জনপ্রিয়তা বাড়ার পর নতুন বুদ্ধি আসে পুলিশের মাথায়। বানানো হয় ফেসঅ্যাপের মতো বয়সের সঙ্গে মুখের আদল বদলের প্রযুক্তি। এরপর এই ধরনের কেসগুলো আবার নতুন করে খোলে পুলিশ। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইউ-এর ৩ বছর বয়সের একটি ছবি থেকে ২১ বছর বয়সের মুখের ধারণা করা হয়। তার পরে গুয়াংজু-এর আশপাশের শহরগুলোতে খোঁজ চালায় পুলিশ। পুলিশের ডাটাবেস থেকে ওই মুখের আদলের সঙ্গে মিল আছে এমন প্রায় ১০০ জন ২১ বছর বয়সী যুবককে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়। চুলচেরা বিশ্লেষণের পর তার মধ্যে একজনকে আলাদা করে পুলিশ। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ডিএনএ টেস্ট করে জানা যায়, এই যুবকই ১৮ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া ইউ।

এদিকে এই ১৮ বছর পালক মা-বাবার কাছে দত্তকপুত্র হিসেবে বেড়ে উঠেছে সে। পালক মা-বাবার পদবী লি ব্যবহার করে সে। প্রথমে পুলিশের দাবি বিশ্বাসই করতে পারেনি যুবক। তারপর ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট আসার পর কান্নায় ভেঙে পরে সে।

২০ জুলাই এক আবেগঘন মুহূর্তে মা-বাবার সঙ্গে ১৮ বছর পর দেখা হয় তার। ছেলেকে এভাবে ফিরে পাবেন কখনো ভাবেননি ইউ-এর মা বাবা। ছেলেকে পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন তারা।

সংবাদমাধ্যমকে ইউ-এর বাবা বলেন, এভাবে ফিরে পাব ভাবিনি। ওকে যত্ন করে বড় করার জন্য ওর পালক মা-বাবাকে ধন্যবাদ। ওর এখন দুটো বাবা। ওর আরেক বাবা আজ থেকে আমার ভাই।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকটে পোশাক শিল্প কারখানা উৎপাদনে অচল হাজারো শ্রমিক বেকার

হারানো ছেলেকে খুঁজে পেলেন মা-বাবা ফেসঅ্যাপের সাহায্যে

আপডেট টাইম : ১২:২৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০১৯

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক,সিটিজেন নিউজ: চীনের গুয়াংজু শহরে ফেসঅ্যাপের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৮ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া ছেলেকে খুঁজে পেলেন মা-বাবা। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেশি বয়সের সম্ভাব্য ছবি তৈরি করে খোঁজ চালিয়ে সাফল্য পেল পুলিশ। ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা মেট্রো-এর একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২০০১ সালের ৬ মে নিখোঁজ হয় বছর তিনের ছোট্ট ইউ ওয়েইফেঙ। ইউ-এর বাবা একটি নির্মাণাধীন বিল্ডিং-এ মিস্ত্রির কাজ করতে যাওয়ার সময়ে তাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল। বিল্ডিং-এর সামনের মাঠে শেষ বার খেলা করতে দেখা গিয়েছিল তাকে। তখনই অপহরণ করা হয় ছোট্ট ইউকে। কাজ শেষে বিল্ডিং-এর বাইরে বেরিয়ে ইউকে দেখতে পাননি তার বাবা। এরপর হন্যে হয়ে ঝেঙের খোঁজ করে তার মা বাবা। পুলিশে ডায়েরি করেও কোনও সুরাহা হয়নি।
গুয়াংজু পুলিশ জানিয়েছে, সে সময়ে বহু চেষ্টা করেও ইউ-এর খোঁজ পায়নি পুলিশ। সম্প্রতি ফেসঅ্যাপের জনপ্রিয়তা বাড়ার পর নতুন বুদ্ধি আসে পুলিশের মাথায়। বানানো হয় ফেসঅ্যাপের মতো বয়সের সঙ্গে মুখের আদল বদলের প্রযুক্তি। এরপর এই ধরনের কেসগুলো আবার নতুন করে খোলে পুলিশ। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইউ-এর ৩ বছর বয়সের একটি ছবি থেকে ২১ বছর বয়সের মুখের ধারণা করা হয়। তার পরে গুয়াংজু-এর আশপাশের শহরগুলোতে খোঁজ চালায় পুলিশ। পুলিশের ডাটাবেস থেকে ওই মুখের আদলের সঙ্গে মিল আছে এমন প্রায় ১০০ জন ২১ বছর বয়সী যুবককে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়। চুলচেরা বিশ্লেষণের পর তার মধ্যে একজনকে আলাদা করে পুলিশ। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ডিএনএ টেস্ট করে জানা যায়, এই যুবকই ১৮ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া ইউ।

এদিকে এই ১৮ বছর পালক মা-বাবার কাছে দত্তকপুত্র হিসেবে বেড়ে উঠেছে সে। পালক মা-বাবার পদবী লি ব্যবহার করে সে। প্রথমে পুলিশের দাবি বিশ্বাসই করতে পারেনি যুবক। তারপর ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট আসার পর কান্নায় ভেঙে পরে সে।

২০ জুলাই এক আবেগঘন মুহূর্তে মা-বাবার সঙ্গে ১৮ বছর পর দেখা হয় তার। ছেলেকে এভাবে ফিরে পাবেন কখনো ভাবেননি ইউ-এর মা বাবা। ছেলেকে পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন তারা।

সংবাদমাধ্যমকে ইউ-এর বাবা বলেন, এভাবে ফিরে পাব ভাবিনি। ওকে যত্ন করে বড় করার জন্য ওর পালক মা-বাবাকে ধন্যবাদ। ওর এখন দুটো বাবা। ওর আরেক বাবা আজ থেকে আমার ভাই।


প্রিন্ট