আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, দেশব্যাপী বিক্ষোভের রক্তক্ষয়ী দমন-কার্যক্রমের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
তিনি আরও দাবি করেছেন, বিক্ষোভগুলো “উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সহিংস ও রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠেছিল” যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হস্তক্ষেপ করার একটি সুযোগ পান। তবে আরাকচি এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। অন্যদিকে, সক্রিয় সূত্রে জানা গেছে, দমনের সময় কমপক্ষে ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বিক্ষোভকারী।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে প্রফেসর ফোয়াদ বলেন, “গত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় আমি কোনো বিক্ষোভ দেখিনি। আমরা আর কোনো দাঙ্গাও দেখিনি।”
গত বৃহস্পতিবার নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভির ডাকে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর ওইদিনই ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় সরকার। যা এখনো চলমান আছে।
ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নের ব্যাপারে এ প্রফেসর জানিয়েছেন, নিরাপত্তার জন্য সরকার এ কাজ করেছে। তিনি গত বছরের জুনে ইসরায়েল-ইরানের যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে বলেন, “ইসরায়েলের মোসাদের গুপ্তচররা ইরানের (ইন্টারনেট) অবকাঠামো ব্যবহার করে যোগাযোগ করেছে এবং একটি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার পরিচালনা করেছে। যা পরবর্তীতে খুঁজে পাওয়া যায়।”
এছাড়া বিক্ষোভের সময় অনেক দাঙ্গাবাজ পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এমনকি যেসব দোকানদার তাদের দোকান বন্ধ রাখেননি তাদেরও গুলি করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। তিনি বলেন, “দাঙ্গাবাজরা দোকানিদের হত্যা করেছে।”
আলজাজিরা পৃথক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত সোমবার থেকে সরকারপন্থিরাই রাজপথে অবস্থান করছেন। অপরদিকে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা কমেছে।