ঢাকা ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী আমরা দেশ ও জনগণের জন্য এনসিপিসহ একসঙ্গে কাজ করছি: জামায়াত আমির ঢাকায় যাত্রাবিরতি ভুটানের রাজার, স্বাগত জানালেন রাষ্ট্রপতি আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) তরুণদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে জবিতে ‘ইউথ ইমপ্যাক্ট সামিট’ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের একটি পরীক্ষা স্থগিত অনফিশিয়াল টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ইনিংস ও ৪১৩ রানের হার বাংলাদেশ এ দলের ‘কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুললো উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী

বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের বৈঠক

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের চলমান সংকট নিরসনে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) একটি প্রতিনিধিদল আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বৈঠকে রপ্তানিকারকদের তারল্য সংকট নিরসনে প্রতি মাসের নগদ সহায়তার অর্থ সংশ্লিষ্ট মাসেই ছাড় করার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর। বিজিএমইএ’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান বহুমুখী সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেন।

প্রতিনিধিদলে বিজিএমইএ পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান, পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী এবং মাহিন অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ-আল-মাহমুদ মাহিন উপস্থিত ছিলেন। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের পোশাক শিল্প বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। অনেক ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করলেও প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সরবরাহ করছে না। এতে কারখানা সচল রাখা এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধ করা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিজিএমইএ নেতারা শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে নীতি সহায়তার আওতায় নগদ সহায়তার হার বাড়ানোর দাবি জানান। তারা বিশেষ নগদ সহায়তার হার ০.৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ, শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তার হার ১.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন।

এছাড়া প্যাকিং ক্রেডিটের (পিসি) সুদের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা করা এবং এই তহবিলের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রপ্তানি ঋণে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা এবং এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

বিজিএমইএর প্রস্তাবনা ও শিল্পের সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে শুনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, নগদ সহায়তার ক্ষেত্রে কোনো আবেদন আর পেন্ডিং রাখা হবে না। রপ্তানিকারকদের তারল্য সংকট নিরসনে প্রতি মাসের নগদ সহায়তার অর্থ সংশ্লিষ্ট মাসেই ছাড় করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় প্রতিনিধিদল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকগুলোতে জমাকৃত স্থায়ী আমানত ও রপ্তানি মূল্যের অর্থ নগদায়ন করতে না পারার বিষয়টিও তুলে ধরে বলেন, তারল্য সংকটের কারণে অনেক কারখানা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে।

এই সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিশেষ তদারকির আশ্বাস দেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর।

বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসব পদক্ষেপ পোশাক শিল্পকে বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করবে এবং কর্মসংস্থান ধরে রাখতে


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী

বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের বৈঠক

আপডেট টাইম : ০৬:৩০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের চলমান সংকট নিরসনে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) একটি প্রতিনিধিদল আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বৈঠকে রপ্তানিকারকদের তারল্য সংকট নিরসনে প্রতি মাসের নগদ সহায়তার অর্থ সংশ্লিষ্ট মাসেই ছাড় করার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর। বিজিএমইএ’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান বহুমুখী সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেন।

প্রতিনিধিদলে বিজিএমইএ পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান, পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী এবং মাহিন অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ-আল-মাহমুদ মাহিন উপস্থিত ছিলেন। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের পোশাক শিল্প বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। অনেক ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করলেও প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সরবরাহ করছে না। এতে কারখানা সচল রাখা এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধ করা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিজিএমইএ নেতারা শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে নীতি সহায়তার আওতায় নগদ সহায়তার হার বাড়ানোর দাবি জানান। তারা বিশেষ নগদ সহায়তার হার ০.৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ, শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তার হার ১.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন।

এছাড়া প্যাকিং ক্রেডিটের (পিসি) সুদের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা করা এবং এই তহবিলের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রপ্তানি ঋণে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা এবং এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

বিজিএমইএর প্রস্তাবনা ও শিল্পের সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে শুনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, নগদ সহায়তার ক্ষেত্রে কোনো আবেদন আর পেন্ডিং রাখা হবে না। রপ্তানিকারকদের তারল্য সংকট নিরসনে প্রতি মাসের নগদ সহায়তার অর্থ সংশ্লিষ্ট মাসেই ছাড় করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় প্রতিনিধিদল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকগুলোতে জমাকৃত স্থায়ী আমানত ও রপ্তানি মূল্যের অর্থ নগদায়ন করতে না পারার বিষয়টিও তুলে ধরে বলেন, তারল্য সংকটের কারণে অনেক কারখানা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে।

এই সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিশেষ তদারকির আশ্বাস দেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর।

বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসব পদক্ষেপ পোশাক শিল্পকে বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করবে এবং কর্মসংস্থান ধরে রাখতে


প্রিন্ট