ঢাকা ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুল ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যমান লটারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি পদ্ধতি বাতিল করেছে সরকার। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুন্না রাণী বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, বর্তমানে সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া বাতিল থাকবে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়, লটারি পদ্ধতি বাতিলের পর অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, এর ফলে ইতঃপূর্বে জারি করা (১৩ ও ১৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের) সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা দুটি নির্দেশক্রমে বাতিল করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লটারি পদ্ধতির পরিবর্তে মেধা যাচাই বা অন্য কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে।

এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেছেন, মন্ত্রী বলেন, ‘লটারি কোনো শিক্ষা ব্যবস্থার মানদণ্ড হতে পারে না। আমরা গত এক মাস ধরে ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি প্রথা তুলে দেওয়া হবে। স্কুলে ছাত্রছাত্রী ভর্তিতে লটারির মাধ্যমে মেধা যাচাই করার কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সব স্তরে লটারি চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের মেধার অবমূল্যায়ন করা হবে।

ভর্তিতে লটারিকে অনেকটা ‘জুয়া খেলা’র সঙ্গে তুলনা করে শিক্ষামন্ত্রী মিলন বলেন, লটারি কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা হতে পারে না। তবে ভর্তি পরীক্ষা যেন শিশুদের জন্য মানসিক চাপের কারণ না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হবে।

তিনি বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষায় আমরা শিক্ষার্থীদের নিউরোসার্জন বানানোর চেষ্টা করছি না; অত্যন্ত সহজ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মেধা যাচাই করা হবে।’

ভর্তি পরীক্ষা ফিরলে কোচিং বাণিজ্য বাড়বে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘ইন-হাউস’ কোচিং-এর ব্যবস্থা করা হবে। যাতে শিক্ষার্থীরা স্কুলের ভেতরেই প্রয়োজনীয় সহায়তা পায় এবং বাইরের কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীল হতে না হয়। কেউ কোচিং বাণিজ্য করতে চাইলে সরকার বসে থাকবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, ভর্তি পদ্ধতি নির্ধারণের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। প্রয়োজনে সামনে আরও আলোচনা করা হবে। সবার সঙ্গে কথা বলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুল ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল

আপডেট টাইম : ০১:১৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যমান লটারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি পদ্ধতি বাতিল করেছে সরকার। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুন্না রাণী বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, বর্তমানে সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া বাতিল থাকবে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়, লটারি পদ্ধতি বাতিলের পর অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, এর ফলে ইতঃপূর্বে জারি করা (১৩ ও ১৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের) সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা দুটি নির্দেশক্রমে বাতিল করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লটারি পদ্ধতির পরিবর্তে মেধা যাচাই বা অন্য কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে।

এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেছেন, মন্ত্রী বলেন, ‘লটারি কোনো শিক্ষা ব্যবস্থার মানদণ্ড হতে পারে না। আমরা গত এক মাস ধরে ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি প্রথা তুলে দেওয়া হবে। স্কুলে ছাত্রছাত্রী ভর্তিতে লটারির মাধ্যমে মেধা যাচাই করার কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সব স্তরে লটারি চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের মেধার অবমূল্যায়ন করা হবে।

ভর্তিতে লটারিকে অনেকটা ‘জুয়া খেলা’র সঙ্গে তুলনা করে শিক্ষামন্ত্রী মিলন বলেন, লটারি কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা হতে পারে না। তবে ভর্তি পরীক্ষা যেন শিশুদের জন্য মানসিক চাপের কারণ না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হবে।

তিনি বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষায় আমরা শিক্ষার্থীদের নিউরোসার্জন বানানোর চেষ্টা করছি না; অত্যন্ত সহজ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মেধা যাচাই করা হবে।’

ভর্তি পরীক্ষা ফিরলে কোচিং বাণিজ্য বাড়বে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘ইন-হাউস’ কোচিং-এর ব্যবস্থা করা হবে। যাতে শিক্ষার্থীরা স্কুলের ভেতরেই প্রয়োজনীয় সহায়তা পায় এবং বাইরের কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীল হতে না হয়। কেউ কোচিং বাণিজ্য করতে চাইলে সরকার বসে থাকবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, ভর্তি পদ্ধতি নির্ধারণের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। প্রয়োজনে সামনে আরও আলোচনা করা হবে। সবার সঙ্গে কথা বলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।


প্রিন্ট