এস চাঙমা সত্যজিৎ
ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ
পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ সামাজিক উৎসব বৈসু, সাংগ্রাই, বিঝু, বিষু, বিহু, সাংলান, পাতা, সাংক্রাই, সাংগ্রাইং ও চাংক্রান উদযাপন উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এ উৎসব উদযাপনের শুরু হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল ২০২৬ সকাল এগারোটায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়েছে। শোভাযাত্রাটি শাপলা চত্বর হয়ে খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হল প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে পাহাড়ি ও বাঙালি বিভিন্ন জনজাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী ডিসপ্লে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। যা উৎসবের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করে গড়ে তোলেছে।
এরপর বিকাল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। এতে পাজন রান্নার প্রতিযোগিতা, চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জনজাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী কোমড় তাঁত শিল্পের প্রদর্শনী এবং মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী খেলা ‘ধ’ আকাজা উদ্বোধন করা হয়েছে। পরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইউসুফ আদনান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদ্য ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মো. নোমান হোসেন।
খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যোহ্লা মং-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুমানা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. মিজানুর রাহমান, খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ সাবের, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা এবং খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরন চাকমা।
বক্তারা বলেন, সমতলের তুলনায় পাহাড়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, যা অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়। তারা খাগড়াছড়ির সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির ভূয়সী প্রশংসা করেন।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১০টায় চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা এবং বিকাল ২টায় রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই দিন বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করার অনুষ্ঠানসূচীও রয়েছে।
তিনদিনব্যাপী এ কর্মযজ্ঞের আয়োজনের সমাপনী দিন (৯ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটবে। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
উৎসবের আয়োজকরা জানান, এ ধরণের আয়োজন পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনজাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে গড়ে তুলবে বলে আত্মবিশ্বাস।