ঢাকা ০৫:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী দেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা দিতে চায় ইউএনডিপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য সুখবর ব্ল্যাক কফি কী সত্যিই ওজন কমাতে পারে? ঝগড়ার পরে সম্পর্ক ঠিক করতে কী করবেন? ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১২ বিলিয়ন ডলার’ গণমাধ্যমের ওপর সরকারি পদক্ষেপে বিরোধী দলকে পাশে চাইলেন সম্পাদকরা সালমান শাহ হত্যা: ডনের ৭ দিনের রিমান্ড চায় সিআইডি চড়া দামে বিক্রি হল ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বদলে দিচ্ছে অনলাইন ব্যবসার কৌশল

তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক: ডিজিটাল দুনিয়ায় তথ্য খোঁজার ধরন আমূল বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর সার্চ টুল ব্যবহারকারীদের সরাসরি উত্তর দেয়ার কারণে অনেকেই আর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করছেন না। এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন কৌশল নিতে হচ্ছে।

বিজনেস সফটওয়্যার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হাবস্পট-এর অভিজ্ঞতাই তার একটি উদাহরণ। গত এক বছরে তাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট কমেছে প্রায় ১৪ কোটি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা কিপ বডনার বলছেন, আগে মানুষ তথ্য খুঁজতে সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে একের পর এক লিংক ঘাঁটতেন। এখন এআই টুলই তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় উত্তর দিয়ে দিচ্ছে। ফলে ব্যবহারকারীরা আর ওয়েবসাইটে ক্লিক করছেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সার্চ ইঞ্জিনগুলোও এখন তাদের ফলাফলে এআই-ভিত্তিক সারাংশ যুক্ত করছে। এতে ব্যবহারকারী সরাসরি উত্তর পেয়ে যান, আলাদা করে কোনো সাইটে প্রবেশের প্রয়োজন হয় না। এর ফলে ক্লিক-থ্রু রেট ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাচ্ছে।

এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নতুন কৌশল গ্রহণ করছে। ‘আনসার ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন’ (এইও) বা ‘জেনারেটিভ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন’ (জিইও) নামে পরিচিত এই পদ্ধতির লক্ষ্য হলো এআই টুলের উত্তরে নিজেদের তথ্য তুলে ধরা। এটি মূলত প্রচলিত সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও)-এর পরবর্তী ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এআই সার্চের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো প্রশ্নের ধরনে পরিবর্তন। আগে যেখানে ব্যবহারকারীরা ৪-৬টি শব্দ দিয়ে সার্চ করতেন এখন এআই-তে তারা ৪০-৬০ শব্দের বিস্তারিত প্রশ্ন করছেন। ফলে কনটেন্টকেও সেই অনুযায়ী সাজাতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে হাবস্পট তাদের কনটেন্ট কাঠামো বদলে ফেলেছে। দীর্ঘ নিবন্ধের পরিবর্তে ছোট ছোট তথ্যভিত্তিক অংশ তৈরি করা হচ্ছে। যাতে এআই সহজে সেগুলো তুলে নিতে পারে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মোট ভিজিটরের ৭ থেকে ১২ শতাংশ আসছে সরাসরি এআই প্ল্যাটফর্ম থেকে।

শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নয়, অন্যান্য ব্যবসাও নতুন এই বাস্তবতায় নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। উদাহরণ হিসেবে স্পাইস কিচেন নামের একটি প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইটে মসলা বাণিজ্যের ইতিহাস নিয়ে বিশেষ কনটেন্ট তৈরি করছে। এর মাধ্যমে তারা এআই সার্চে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা বাড়াতে চায়।

ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন শুধু পণ্য বিক্রির পেজ নয় বরং তথ্যভিত্তিক গাইড ও গবেষণাধর্মী কনটেন্ট তৈরি করা জরুরি। এতে করে ক্রেতারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই ব্র্যান্ডের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, এআই যুগে কনটেন্ট হতে হবে সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট এবং তথ্যসমৃদ্ধ। পাশাপাশি বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে প্রয়োজন মানসম্মত রেফারেন্স, লেখকের পরিচিতি এবং নির্ভরযোগ্য লিংক।

সব মিলিয়ে, এআই-নির্ভর সার্চ প্রযুক্তি অনলাইন ব্যবসার ধরণ আমূল বদলে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নতুন বাস্তবতায় দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বদলে দিচ্ছে অনলাইন ব্যবসার কৌশল

আপডেট টাইম : ০৮:৪৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক: ডিজিটাল দুনিয়ায় তথ্য খোঁজার ধরন আমূল বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর সার্চ টুল ব্যবহারকারীদের সরাসরি উত্তর দেয়ার কারণে অনেকেই আর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করছেন না। এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন কৌশল নিতে হচ্ছে।

বিজনেস সফটওয়্যার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হাবস্পট-এর অভিজ্ঞতাই তার একটি উদাহরণ। গত এক বছরে তাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট কমেছে প্রায় ১৪ কোটি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা কিপ বডনার বলছেন, আগে মানুষ তথ্য খুঁজতে সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে একের পর এক লিংক ঘাঁটতেন। এখন এআই টুলই তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় উত্তর দিয়ে দিচ্ছে। ফলে ব্যবহারকারীরা আর ওয়েবসাইটে ক্লিক করছেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সার্চ ইঞ্জিনগুলোও এখন তাদের ফলাফলে এআই-ভিত্তিক সারাংশ যুক্ত করছে। এতে ব্যবহারকারী সরাসরি উত্তর পেয়ে যান, আলাদা করে কোনো সাইটে প্রবেশের প্রয়োজন হয় না। এর ফলে ক্লিক-থ্রু রেট ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাচ্ছে।

এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নতুন কৌশল গ্রহণ করছে। ‘আনসার ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন’ (এইও) বা ‘জেনারেটিভ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন’ (জিইও) নামে পরিচিত এই পদ্ধতির লক্ষ্য হলো এআই টুলের উত্তরে নিজেদের তথ্য তুলে ধরা। এটি মূলত প্রচলিত সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও)-এর পরবর্তী ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এআই সার্চের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো প্রশ্নের ধরনে পরিবর্তন। আগে যেখানে ব্যবহারকারীরা ৪-৬টি শব্দ দিয়ে সার্চ করতেন এখন এআই-তে তারা ৪০-৬০ শব্দের বিস্তারিত প্রশ্ন করছেন। ফলে কনটেন্টকেও সেই অনুযায়ী সাজাতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে হাবস্পট তাদের কনটেন্ট কাঠামো বদলে ফেলেছে। দীর্ঘ নিবন্ধের পরিবর্তে ছোট ছোট তথ্যভিত্তিক অংশ তৈরি করা হচ্ছে। যাতে এআই সহজে সেগুলো তুলে নিতে পারে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মোট ভিজিটরের ৭ থেকে ১২ শতাংশ আসছে সরাসরি এআই প্ল্যাটফর্ম থেকে।

শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নয়, অন্যান্য ব্যবসাও নতুন এই বাস্তবতায় নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। উদাহরণ হিসেবে স্পাইস কিচেন নামের একটি প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইটে মসলা বাণিজ্যের ইতিহাস নিয়ে বিশেষ কনটেন্ট তৈরি করছে। এর মাধ্যমে তারা এআই সার্চে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা বাড়াতে চায়।

ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন শুধু পণ্য বিক্রির পেজ নয় বরং তথ্যভিত্তিক গাইড ও গবেষণাধর্মী কনটেন্ট তৈরি করা জরুরি। এতে করে ক্রেতারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই ব্র্যান্ডের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, এআই যুগে কনটেন্ট হতে হবে সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট এবং তথ্যসমৃদ্ধ। পাশাপাশি বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে প্রয়োজন মানসম্মত রেফারেন্স, লেখকের পরিচিতি এবং নির্ভরযোগ্য লিংক।

সব মিলিয়ে, এআই-নির্ভর সার্চ প্রযুক্তি অনলাইন ব্যবসার ধরণ আমূল বদলে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নতুন বাস্তবতায় দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


প্রিন্ট