এস চাঙমা সত্যজিৎঃ
ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ
কালের পরিক্রমায় পুরাতন বছর বিদায় নিয়ে শুরু হলো আরেকটি নতুন বছর। উদিত হলো নতুন বছরের প্রথম সূর্য।
শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
সকলকে জানাই বাংলা নববর্ষের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।
আজ নতুন বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ। পার্বত্য চট্টগ্রামে চলছে বৈ-সা-বি (বৈসু, সাংগ্রাই, সাংলান, সাংক্রাই, সাংগ্রাইং, বিঝু, বিষু, বিহু…) উৎসবের তৃতীয় দিন। চাকমারা এই দিনটি ‘গোয্যাপোয্যা বিঝু’ দিন হিসেবে পালন করছে। আজকের দিনটিতে ধর্মীয় প্রার্থনাসহ গ্রামের বয়স্ক মুরুব্বীদের জন্য উন্নত খানা-পিনার আয়োজন করা হয়ে থাকে।
অপরদিকে ত্রিপুরা ও মারমা জাতিসত্তার মূল উৎসব যথাক্রমে ‘বৈসুমা’ ও ‘আক্যেই’ পালিত হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য জাতিসত্তাগুলোও তাদের ঐতিহ্য অনুযায়ী উৎসব পালন করছে।
গোটা বিশ্ব এখন নানা সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আমেরিকা-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বিরতি চললেও যে কোন মুহুর্তে তা ভেঙে যেতে পারে- এমন আশঙ্কায় রয়েছেন বিশ্ববাসী। রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যেকার সংঘাতও এখনো থামেনি। ফলে বিশ্বব্যাপী চলছে অস্থিরতা। তার রেশ পড়েছে বাংলাদেশেও। জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা পেয়ে সরকার গঠন করলেও বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি এখনো বড় বেশি পরিবর্তন হয়নি। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশে যেভাবে মব ভায়োলেন্স সংঘটিত হয়েছিল, বর্তমান সরকারের আমলেও তা এখনো বন্ধ হয়নি। গত ১১ এপ্রিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পরিকল্পিত মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে পীরের মাজার ভাঙচুর ও শামীম রেজা জাহাঙ্গীর নামে এক সুফী সাধককে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের দমনমূলক পরিস্থিতি আগের ফ্যাসিস্ট আমলের মতোই রয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতনের পর পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ আশা করেছিল। কিন্তু তা হয়নি। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পাহাড়িদের ওপর বেশ কয়েকদফায় সাম্প্রদায়িক হামলা, ঘরবাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগসহ অন্তত ৭ পাহাড়ি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার এখনো কোন বিচার হয়নি।
বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারও আগের মতোই পাহাড়ে সেনাশাসন ও রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন জারি রেখেছে। প্রতিনিয়ত সেনা অভিযানের নামে সাধারণ জনগণের বাড়িতে তল্লাশি, হয়রানি, এলাকায় এলাকায় সেনা তৎপরতা ইত্যাদি চলমান রয়েছে। পাহাড়ে চলমান উৎসবের সময়ও বিভিন্ন জায়গায় সেনাবাহিনীর তৎপরতা ও জনগণকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি দলগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতও বিদ্যমান রয়েছে। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়ি জাতিসত্তাগুলো নানা আশঙ্কার মধ্যে দিন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
নতুন বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের প্রত্যাশা- সেখানে (পার্বত্য চট্টগ্রামে) যে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, অন্যায়-অবিচার চলছে নতুন সরকার তা অচিরেই বন্ধ করবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে যে সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে তা যথাযথ রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ সকলের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি। দূরীভূত হোক সকল অন্যায়-অবিচার, হিংসা-বিদ্বেষ ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত। বন্ধ হোক চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ। নিরাপদ হোক সকলের জীবন।