মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিতে বিপদে পড়া অর্থনীতি রূপান্তরে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তার দল লিবারেল পার্টি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ ঘোষণা দেন তিনি।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত সোমবার অনুষ্ঠিত তিনটি উপ নির্বাচনে জয়লাভ করে সংসদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ করেছে দলটি। ফলে ২০১৯ সালে জাস্টিন ট্রুডোর প্রথম মেয়াদের পর এই প্রথম কানাডায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠিত হল।
নির্বাচনের ফলাফলের প্রসঙ্গে কার্নি বলেন, ‘এখন গুরুত্ব সহকারে কাজ করার সময় এসেছে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, বিরোধী দলের ভূমিকা কমে যাওয়ায় পার্লামেন্টে অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক বিতর্ক কমবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি, দ্রুত কাজ করছি, আর এটা তো কেবল শুরু।’
এক বছর আগের সাধারণ নির্বাচনে লিবারেলরা সর্বাধিক আসন পেলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।
গত এক বছরে লিবারেল পার্টির জনসমর্থন বেড়েছে। কারণ কার্নি নিয়মিতই কানাডার নাগরিকদের মনে করিয়ে আসছেন যে বিশ্ব এখন বদলে গেছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্কের ওপর আগের মতো আর নির্ভর করা যাবে না।
ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করলেও মঙ্গলবার কার্নি আবারও জোর দিয়ে বলেন, কানাডার অর্থনীতিকে ‘আরও স্বনির্ভর’ হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্যের ৮৫ শতাংশেরও বেশি এখনও শুল্কমুক্ত। তবে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ফলে কানাডায় চাকরি হারানো ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর করে দিয়েছে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে স্বাক্ষরিত উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটিও এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি সংশোধন বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। যদিও ট্রাম্প এই চুক্তিটিকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে ইউএসএমসিএ নামে পরিচিত এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে গত সপ্তাহে কিছুটা আশাবাদী মন্তব্য করেছেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার।
ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘চুক্তিটির ‘মূল ভিত্তি’ শক্তিশালী, এটি সম্ভবত বহাল রাখা হবে। তবে কিছু অংশ পরিবর্তন করতে হবে’।