কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, কৃষকদের মাঝে যথাসময়ে সার ও বীজ প্রদানে এবং মৌসুমের শুরুতে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট থেকে কৃষকদের হয়রানি দূরীকরণে সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি আজ সংসদে নীলফামারী-১ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. আব্দুস সাত্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।
কৃষি মন্ত্রী বলেন, সার বিতরণ ব্যবস্থা আরও সময়োপযোগী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই ‘সার ডিলার ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’ প্রবর্তন করা হয়েছে, যা গত বছরের ১৩ নভেম্বর থেকে কার্যকর রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে, পৌরসভায় ও সিটি কর্পোরেশনে নিয়োজিত ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের হয়রানি দূরীকরণে ওয়ার্ডভিত্তিক নিয়োজিত খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রের দ্বারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে সহজেই সার পৌঁছানো সম্ভব হবে।
কৃষি মন্ত্রী বলেন, বিগত বছরে আবাদকৃত ফসলী জমির ওপর ভিত্তি করে বছরের শুরুতে রাসায়নিক সারের চাহিদা নিরূপণ করে বাৎসরিক বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়। যে মাসে, বিশেষ করে রবি মৌসুমে (অক্টোবর-মার্চ) অধিকাংশ ফসল উৎপাদিত হয়, সে সকল মাসে রাসায়নিক সারের বরাদ্দ বেশি রেখে মাসওয়ারী বাৎসরিক বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়।
প্রতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে পরবর্তী মাসের বরাদ্দ প্রদান করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বরাদ্দকৃত রাসায়নিক সার ডিলারগণের উত্তোলন থেকে বিতরণ পর্যন্ত সর্বস্তরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নিবিড় মনিটরিং করা হয়। তিনটি কৃষি মৌসুম শুরুর অন্ততঃ দুই মাস পূর্বে বিভিন্ন ফসলের বীজের চাহিদা নিরূপণপূর্বক কৃষি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়।
তিনি জানান, কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ প্রদান করা হয়।
মানিকগঞ্জ-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীরের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে কৃষি মন্ত্রী বলেন, ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৫’ এর আলোকে বিএডিসি ও বিসিআইসি ডিলারদের সমন্বিতভাবে নতুন সার ডিলারশীপ নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যে সকল ডিলার অনিয়ম করবে বা উপকরণ সরবরাহ প্রক্রিয়ায় বাধা প্রদান করবে, তারা যে দলেরই হোক না কেন, সার ও কীটনাশক ডিলারশীপ বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।