আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করা এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উপায় খুঁজতে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বৈঠকে বসছে ৩০টিরও বেশি দেশ। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি চলবে দুই দিনব্যাপী। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সামরিক পরিকল্পনাবিদ এবং পদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি অনুকূলে এলে কীভাবে পুনরায় চালু করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হবে। এর আগে গত সপ্তাহে প্যারিসে অনুষ্ঠিত আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছিল।
এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জন হিলি বলেন, ‘আজ ও আগামীকালের মূল লক্ষ্য হলো কূটনৈতিক ঐক্যমত্যকে একটি যৌথ পরিকল্পনায় রূপ দেওয়া। যাতে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা যায় এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে সহায়তা করা যায়।’
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, এই আলোচনার মাধ্যমে ‘প্রকৃত অগ্রগতি’ সম্ভব হবে।
এর আগে গত শুক্রবার প্যারিসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রেঁাঁর যৌথ সভাপতিত্বে হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৪০টিরও বেশি দেশ অংশ নিয়েছিল।
ব্রিটেন ও ফ্রান্স জোর দিয়ে জানিয়েছে যে, এই মিশনটি হবে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরই কেবল এই বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
যুদ্ধরত পক্ষ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান এই আলোচনায় অংশ নেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ মঙ্গলবার মধ্যরাতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার জন্য অতিরিক্ত সময় দিতে এই মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন।
উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। এছাড়া ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ আগের মতোই বলবৎ থাকবে।
প্যারিস বৈঠকের আগেই ডাউনিং স্ট্রিট এই সপ্তাহে সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে একটি শীর্ষ সম্মেলনের কথা জানিয়েছিল, যদিও তখন বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
লন্ডনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের সামরিক কমান্ড সেন্টার ‘পার্মানেন্ট জয়েন্ট হেডকোয়ার্টার্স’-এ এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে যৌথ সামরিক অভিযান তদারকি করা হয়।