ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পিরোজপুর প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে  বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন। ‎ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাবা-মায়ের কবরে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ মাদক কোনো সমাধান নয়; বরং এটি জীবন ধ্বংসের অন্যতম কারণ-ওসি, মো. জাকির হোসেন বিশ্বম্ভরপুরে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি আটক বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে বিশাল শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত কুড়িগ্রামে নানা কর্মসূচিতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন দোয়া মাহফিল ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে পথসভা, নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এর শুভেচ্ছা বার্তা

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দের আজকের দিনে ঢাকার রমনা পার্কে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপির যাত্রা শুরু হয়। তিনি ছিলেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠার পর চার দশকের বেশি সময়ে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দলটি এখন তার ছেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার পরিচালনা করছে।

১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি করা হয়েছিল, তা পূরণে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা বটমূলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি নামের একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও স্বাধীনতার ঘোষক তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

দেশকে সমৃদ্ধ ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে নেওয়া নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল সমৃদ্ধ দেশ গঠনে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এবং দূরদর্শী বিভিন্ন কর্মসূচি তাঁকে দেশবাসীর কাছে ভীষণ জনপ্রিয় করে তোলে।

দেশের স্বাধীনতার জন্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিকে উজ্জীবিত করেছিলেন। ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে তিনি প্রেরণা জুগিয়েছিলেন। তিনি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা ও গণতন্ত্র- এই তিনটি প্রত্যয় সামনে রেখে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। এ চেতনাকে ধারণ করে তিনি দেশকে উন্নয়ন ও উৎপাদনের পথে এগিয়ে নিয়ে যান।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক বাণীতে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ আর সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দিনটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৮ সালের এই দিনে এক শুভ বিকেলে ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে (রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

তিনি বলেন, মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি অভিশপ্ত একদলীয় ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে প্রথমেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে, বাংলাদেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন করে পথচলা শুরু হয়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে স্বাধীনতার মহান ঘোষক, সফল রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠাই নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। দেশে যতবারই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকগণ অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।

দেশে গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত যাঁরা প্রাণোৎসর্গ করেছেন, আহত হয়েছেন, সেসব নেতাকর্মীর অবদানকেও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, দেশে যতবারই জনগণ নির্ভয়ে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিএনপি সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছে।

দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিএনপির উদ্যম ও উদ্যোগের ফলে দলটি দেশবাসীর কাছে এখন সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলছে।

তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভার্থী দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করে আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।

দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির অপর নাম একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম।

এদিকে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। গত বুধবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী দলটির বিভিন্ন কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আজ সকাল ৯টায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ‘গণতন্ত্রের মা’ মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ ।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন-বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দসহ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীগণ এতে অংশগ্রহণ করবেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পোস্টার প্রকাশ করা হবে।

এছাড়া বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

অনুরূপভাবে আজ সারা দেশে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং এর ইউনিটগুলো দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা এবং অন্যান্য কর্মসূচি পালন করছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পিরোজপুর প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে  বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন। ‎

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

আপডেট টাইম : ০৪:৩৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দের আজকের দিনে ঢাকার রমনা পার্কে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপির যাত্রা শুরু হয়। তিনি ছিলেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠার পর চার দশকের বেশি সময়ে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দলটি এখন তার ছেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার পরিচালনা করছে।

১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি করা হয়েছিল, তা পূরণে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা বটমূলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি নামের একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও স্বাধীনতার ঘোষক তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

দেশকে সমৃদ্ধ ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে নেওয়া নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল সমৃদ্ধ দেশ গঠনে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এবং দূরদর্শী বিভিন্ন কর্মসূচি তাঁকে দেশবাসীর কাছে ভীষণ জনপ্রিয় করে তোলে।

দেশের স্বাধীনতার জন্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিকে উজ্জীবিত করেছিলেন। ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে তিনি প্রেরণা জুগিয়েছিলেন। তিনি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা ও গণতন্ত্র- এই তিনটি প্রত্যয় সামনে রেখে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। এ চেতনাকে ধারণ করে তিনি দেশকে উন্নয়ন ও উৎপাদনের পথে এগিয়ে নিয়ে যান।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক বাণীতে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ আর সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দিনটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৮ সালের এই দিনে এক শুভ বিকেলে ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে (রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

তিনি বলেন, মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি অভিশপ্ত একদলীয় ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে প্রথমেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে, বাংলাদেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন করে পথচলা শুরু হয়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে স্বাধীনতার মহান ঘোষক, সফল রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠাই নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। দেশে যতবারই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকগণ অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।

দেশে গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত যাঁরা প্রাণোৎসর্গ করেছেন, আহত হয়েছেন, সেসব নেতাকর্মীর অবদানকেও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, দেশে যতবারই জনগণ নির্ভয়ে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিএনপি সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছে।

দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিএনপির উদ্যম ও উদ্যোগের ফলে দলটি দেশবাসীর কাছে এখন সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলছে।

তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভার্থী দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করে আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।

দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির অপর নাম একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম।

এদিকে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। গত বুধবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী দলটির বিভিন্ন কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আজ সকাল ৯টায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ‘গণতন্ত্রের মা’ মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ ।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন-বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দসহ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীগণ এতে অংশগ্রহণ করবেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পোস্টার প্রকাশ করা হবে।

এছাড়া বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

অনুরূপভাবে আজ সারা দেশে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং এর ইউনিটগুলো দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা এবং অন্যান্য কর্মসূচি পালন করছে।


প্রিন্ট