শিক্ষার্থীদের মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও শারীরিক বিকাশের লক্ষ্যে নেত্রকোণায় ‘ওয়ান ইন্সটিটিউশন ফোর ক্লাবস’ মডেলের আওতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাষা, বিজ্ঞান, বিতর্ক ও সুস্থ সংস্কৃতি ক্লাব চালু করা হচ্ছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘ভিশন’ বাস্তবায়নে দক্ষ জনশক্তি গঠন ও আগামীর নেতৃত্ব তৈরির সম্ভাবনাকে তুলে আনতেই জেলা প্রশাসনের এই বিশেষ উদ্যোগ।
ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসক জেলা শহরের সরকারি দু’টি উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব ক্লাব চালু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী এন.আকন্দ কামিল মাদ্রাসা মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠানটির ৪টি নতুন ক্লাবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
ক্লাবগুলোর উদ্বোধন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
এন. আকন্দ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা, নেত্রকোণা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিজা খাতুন এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর আহমেদ।
এরআগে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুল মতীন এবং কুরআন তেলাওয়াত করেন আলিম ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ বিন মাহফুজ।
প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘শিক্ষা কোনো এক পাক্ষিক উন্নয়ন নয়, এটি একটি বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া। শিক্ষার্থীদের কেবল পুঁথিগত বা টেক্সটবুক নির্ভর শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য সহশিক্ষা কার্যক্রম অপরিহার্য।’
শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ উন্নতির জন্যই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিকভাবে চারটি ক্লাবের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ইসলামী মূল্যবোধ বজায় রেখে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার তাগিদ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘অসহায় মানুষকে সহায়তা করা এবং সমাজকে সুসংগঠিত করতে ‘হিলফুল ফুজুল’-এর মতো সামাজিক উদ্যোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ উপমহাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ১৯৪৭ সালের পূর্ববর্তী সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষার ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বর্তমান গ্লোবালাইজেশনের যুগে তথ্য-প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী হয়ে ওঠার পরামর্শ দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুন মুন জাহান লিজা বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ হওয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিজের জীবন গঠন, সমাজ ও দেশকে দেয়ার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শীর্ষ বিদ্যাপীঠগুলোতে আজ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা মেধার স্বাক্ষর রাখছেন।’
ইসলামের প্রথম বাণী ‘ইকরা’ এবং ‘দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত’ জ্ঞানার্জনের তাগিদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের বিতর্ক ও সুন্দর বক্তৃতার বিভিন্ন কৌশল শিখিয়ে দেন। মডারেটরের সাথে সংযোগ রাখা, আই-কনট্যাক্ট বজায় রাখা এবং চিরকুটে পয়েন্ট লিখে যুক্তি তুলে ধরার দিকনির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ে শিক্ষার্থীদের আয়োজিত বিতর্কের প্রশংসা করেন তিনি।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা হামদ-নাত, নজরুল সংগীত, কবিতা আবৃত্তি, ত্রিভাষিক বক্তব্য,বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং বিজ্ঞান ক্লাবের উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করে।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্য ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 



















