ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাম উপসর্গে আরও ৫ জন সহ মোট মৃত্যু ১০৮১ মিষ্টি আপেল চিনে কিনবেন যেভাবে রাজনৈতিক সমালোচনায় শালীন ভাষা ব্যবহারের আহ্বান রিজভীর সম্পদ কমলেও ভারতের ধনী অভিনেতার শীর্ষে শাহরুখ বাইকের ক্লাচ প্লেট দীর্ঘদিন ভালো রাখার সহজ উপায় অস্ত্র মামলায় আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পেছাল লাকসামে ২,৫০০ ভোটারের সুবিধা উপেক্ষা করে কেন্দ্র পরিবর্তনের অভিযোগ: জুলকারনাইন মাদ্রাসায় ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবি ‎পিরোজপুরে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশে চীনের সঙ্গে আরও বিস্তৃত সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ : মইন খান দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের ভূমিকা রয়েছে: বাকৃবি উপাচার্য

মুন্সীগঞ্জে কৃষকরা বীজতলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন

 মুন্সীগঞ্জে চাষীরা আগাম শীতকালীন সবজি চারা উৎপাদনে বীজতলায় চারা যত্নে এবং বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ফলন ভালো হওয়ায় কৃষক ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে। লাভবান ব্যবসা হওয়ায় ২৫ থেকে ৩০ জন উদ্যেক্তা তৈরি হয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় চলতি মৌসুমে ১১৯১ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন  সবজি লাউ, ফুলকপি, বাধাকপি, টমেটো, সীম বেগুন চারা উৎপাদন হচ্ছে। এরমধ্যে সদরে ৩শ’ হেক্টর, টঙ্গিবাড়ীতে ৩৭ হেক্টর, শ্রীনগরে ১০৮ হেক্টর, সিরাজদিখানে ২৮২ হেক্টর, লৌহজংয়ে ২৬০ হেক্টর এবং গজারিয়ায় ২০৪ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চারা উৎপাদন করা হচ্ছে।

পঞ্চসার ইউনিয়নের ভট্টাচার্যভাগের কৃষক আহম্মদ শরীফ লিটন বাসস’কে জানান, তিনি এ বছর প্রায় ১ একর জমিতে সবজি চারা উৎপাদন করার জন্য বীজতলা তৈরি করেছেন।

তিনি জানান, চারা উৎপাদনে সময় লাগে ২০ থেকে ২৫ দিন। এতে প্রতি মৌসুমে এক জমিতে ২ বার চারা উৎপাদন করা যায়। এখানকার চারার দেশব্যাপী চাহিদা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক চারা কেনার জন্য এখানে আসেন। বিশেষ করে ঢাকার আশপাশ এলাকা সাভার, কেরানীগঞ্জ,শরীয়তপুর,মাদারীপুর,নারায়নগঞ্জ থেকে কৃষক এখান থেকে চারা কিনে নিয়ে যায়। এখানকার চারা মানের দিক থেকে অনেক ভালো। মাটি উর্বর এবং দেশীয় বীজ থেকে চারা উৎপাদন এবং অতিরিক্ত যত্ন নিয়ে চারা উৎপাদন করা হয় বলে এর চাহিদা বেশী।

বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের বীজতলা উৎপাদনকারী কৃষক মো. নওয়াব শিকদার বাসস’কে জানান, তিনি এবার প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। প্রতি মৌসুমে তিনি ২ মাসের জন্য প্রায় ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকার চারা উৎপাদন করে থাকেন। বংশ পরম্পরায় বীজতলা তৈরি করে আসছেন। আগে এখানকার চারার চাহিদা অনেক বেশী ছিল। তখন শুধু দেশীয় জাতের চারা উৎপাদন করা হতো। এখন দেশীয় চারার সাথে কিছু বিদেশী বীজও ব্যবহার করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান বাসস’কে জানান, মুন্সীগঞ্জে প্রতি বিঘায় চারা বিক্রি করে ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা আয় হয়। এখানকার জমি উচু হওয়ায় এবং উর্বর থাকায় কৃষক আগাম বীজতলা তৈরি করতে পারে। এখানকার শ্রমিকরা এ বিষয়ে প্রশিক্ষিত। কৃষক অতি যত্ন নিয়ে বীজ তলা তৈরি করেন।

অধিকাংশ কৃষক জমিতে জৈব সার ব্যবহার করে থাকেন এবং জন্য চারার গুণগত মানও ভালো হয়। বীজতলা তৈরি লাভমান হওয়ায় মুন্সীগঞ্জে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন উদ্যেক্তা তৈরি হয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তাদের কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাতে বীজ তলার ক্ষতি না হয় এর জন্য পলিমেট হাউজ তৈরি করে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাম উপসর্গে আরও ৫ জন সহ মোট মৃত্যু ১০৮১

মুন্সীগঞ্জে কৃষকরা বীজতলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন

আপডেট টাইম : ১২:০৬:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 মুন্সীগঞ্জে চাষীরা আগাম শীতকালীন সবজি চারা উৎপাদনে বীজতলায় চারা যত্নে এবং বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ফলন ভালো হওয়ায় কৃষক ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে। লাভবান ব্যবসা হওয়ায় ২৫ থেকে ৩০ জন উদ্যেক্তা তৈরি হয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় চলতি মৌসুমে ১১৯১ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন  সবজি লাউ, ফুলকপি, বাধাকপি, টমেটো, সীম বেগুন চারা উৎপাদন হচ্ছে। এরমধ্যে সদরে ৩শ’ হেক্টর, টঙ্গিবাড়ীতে ৩৭ হেক্টর, শ্রীনগরে ১০৮ হেক্টর, সিরাজদিখানে ২৮২ হেক্টর, লৌহজংয়ে ২৬০ হেক্টর এবং গজারিয়ায় ২০৪ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চারা উৎপাদন করা হচ্ছে।

পঞ্চসার ইউনিয়নের ভট্টাচার্যভাগের কৃষক আহম্মদ শরীফ লিটন বাসস’কে জানান, তিনি এ বছর প্রায় ১ একর জমিতে সবজি চারা উৎপাদন করার জন্য বীজতলা তৈরি করেছেন।

তিনি জানান, চারা উৎপাদনে সময় লাগে ২০ থেকে ২৫ দিন। এতে প্রতি মৌসুমে এক জমিতে ২ বার চারা উৎপাদন করা যায়। এখানকার চারার দেশব্যাপী চাহিদা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক চারা কেনার জন্য এখানে আসেন। বিশেষ করে ঢাকার আশপাশ এলাকা সাভার, কেরানীগঞ্জ,শরীয়তপুর,মাদারীপুর,নারায়নগঞ্জ থেকে কৃষক এখান থেকে চারা কিনে নিয়ে যায়। এখানকার চারা মানের দিক থেকে অনেক ভালো। মাটি উর্বর এবং দেশীয় বীজ থেকে চারা উৎপাদন এবং অতিরিক্ত যত্ন নিয়ে চারা উৎপাদন করা হয় বলে এর চাহিদা বেশী।

বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের বীজতলা উৎপাদনকারী কৃষক মো. নওয়াব শিকদার বাসস’কে জানান, তিনি এবার প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। প্রতি মৌসুমে তিনি ২ মাসের জন্য প্রায় ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকার চারা উৎপাদন করে থাকেন। বংশ পরম্পরায় বীজতলা তৈরি করে আসছেন। আগে এখানকার চারার চাহিদা অনেক বেশী ছিল। তখন শুধু দেশীয় জাতের চারা উৎপাদন করা হতো। এখন দেশীয় চারার সাথে কিছু বিদেশী বীজও ব্যবহার করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান বাসস’কে জানান, মুন্সীগঞ্জে প্রতি বিঘায় চারা বিক্রি করে ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা আয় হয়। এখানকার জমি উচু হওয়ায় এবং উর্বর থাকায় কৃষক আগাম বীজতলা তৈরি করতে পারে। এখানকার শ্রমিকরা এ বিষয়ে প্রশিক্ষিত। কৃষক অতি যত্ন নিয়ে বীজ তলা তৈরি করেন।

অধিকাংশ কৃষক জমিতে জৈব সার ব্যবহার করে থাকেন এবং জন্য চারার গুণগত মানও ভালো হয়। বীজতলা তৈরি লাভমান হওয়ায় মুন্সীগঞ্জে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন উদ্যেক্তা তৈরি হয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তাদের কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাতে বীজ তলার ক্ষতি না হয় এর জন্য পলিমেট হাউজ তৈরি করে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।


প্রিন্ট