ঢাকা ০৪:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত পাকিস্তান জাতিসংঘের ভাষণে মামদানিকে আক্রমণ করতে পারেন নেতানিয়াহু ধামইরহাটে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা মেধাপাচারের প্রবণতাকে উল্টো দিকে ঘোরাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী ঝিনাইদহে সার মজুতের দায়ে ডিলারের জরিমানা বরগুনায় ভারতীয় শাড়ি ও পাঞ্জাবি জব্দ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের বৈঠক রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে উধাও ১৩ বছরের শাহীন, ৫ দিনেও মেলেনি সন্ধান ঢাকার চারপাশের নদী দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে : পানিসম্পদ মন্ত্রী

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযানে ৬২৪ জন আ/টক

জেলার কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়ে রাত দেড়টা পর্যন্ত চলা অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে ৬২৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও রয়েছে। তাদের পরিচয়, বয়স ও কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি-না এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বাসস’কে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সী কিশোরদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার মো.আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের তৎপরতা রয়েছে, এমন সব এলাকা চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের আগের কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি-না তা যাচাই করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাকি আটকদের অভিভাবকদের কাছে সতর্ক করে হস্তান্তরের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় ৭৫ জন, সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ৪৬, বুড়িচং থানায় ৫০, মনোহরগঞ্জ থানায় ৪১, দাউদকান্দি মডেল থানায় ৫৯ এবং লাকসাম থানায় ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। জেলার অন্যান্য থানায় আটক ব্যক্তিদের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বাসস’কে বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে শিক্ষার্থী কারা, তাদের বয়স কত এবং কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি-না এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যদের সতর্ক করে পরিবারের জিম্মায় দেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরদের অপরাধ প্রবণতা থেকে দূরে রাখতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সম্প্রতি কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধে বিভিন্ন মহল থেকে জোরালো দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার আসামিদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বাসস’কে বলেন, গত বছরের ৩০ নভেম্বর দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে কুমিল্লায় ২৫০ জনের বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের অনেকে দ্রুত মুক্তি পেয়ে পুনরায় একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে অনেক কিশোরের মা-বাবাকে ডেকে মুচলেকাও নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও সন্তানদের চলাফেরা ও সঙ্গ সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত পাকিস্তান

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযানে ৬২৪ জন আ/টক

আপডেট টাইম : ০২:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জেলার কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়ে রাত দেড়টা পর্যন্ত চলা অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে ৬২৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও রয়েছে। তাদের পরিচয়, বয়স ও কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি-না এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বাসস’কে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সী কিশোরদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার মো.আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের তৎপরতা রয়েছে, এমন সব এলাকা চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের আগের কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি-না তা যাচাই করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাকি আটকদের অভিভাবকদের কাছে সতর্ক করে হস্তান্তরের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় ৭৫ জন, সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ৪৬, বুড়িচং থানায় ৫০, মনোহরগঞ্জ থানায় ৪১, দাউদকান্দি মডেল থানায় ৫৯ এবং লাকসাম থানায় ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। জেলার অন্যান্য থানায় আটক ব্যক্তিদের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বাসস’কে বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে শিক্ষার্থী কারা, তাদের বয়স কত এবং কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি-না এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যদের সতর্ক করে পরিবারের জিম্মায় দেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরদের অপরাধ প্রবণতা থেকে দূরে রাখতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সম্প্রতি কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধে বিভিন্ন মহল থেকে জোরালো দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার আসামিদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বাসস’কে বলেন, গত বছরের ৩০ নভেম্বর দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে কুমিল্লায় ২৫০ জনের বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের অনেকে দ্রুত মুক্তি পেয়ে পুনরায় একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে অনেক কিশোরের মা-বাবাকে ডেকে মুচলেকাও নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও সন্তানদের চলাফেরা ও সঙ্গ সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।


প্রিন্ট