হাফসা আক্তার :উইন্ডি গ্রুপের চুরি হওয়া ৫৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। চুরির ঘটনায় জড়িত দুই জনকে গ্রেফতার করেছেন তারা।
গ্রেফতার কৃতরা হলো
রাশেদ মিজান (৩৭) ডেপুটি ম্যানেজার (ফাইন্যান্স) উইন্ডি গ্রুপ,
সাইফুল ইসলাম (৪৩) কর্মকর্তা উইন্ডি গ্রুপ।
রাসেদ মিজানের কাছ থেকে ৩০ লাখ ও সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে ২৮ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
উইন্ডি গ্রুপের অফিস উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর রোডের ৯৫ নম্বর বাসায় অবস্থিত।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়,
ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান উইন্ডি গ্রুপ এর কর্মকর্তা হাসিম মিয়া (বাড়ি: কুমিল্লা) উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন যে, কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার (ফাইন্যান্স) রাশেদ মিজান অফিস থেকে এক কোটি টাকা চুরি করে পালিয়ে যান।
অভিযোগের ভিত্তিতে গত ০৮/১০/২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে উত্তরা পশ্চিম থানায় পেনাল কোডের ধারা ৩৮১/১০৯ অনুসারে মামলা রুজু করা হয়,মামলা নং: ৩৮১/২০২৫।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছেন উত্তরা বিভাগের উপ- পুলিশ কমিশনার মুহিদুল ইসলাম।
মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে উত্তরা বিভাগীয় পুলিশ একটি বিশেষ টিম গঠন করে। এ টিমের নেতৃত্বে ছিলেন এসি সাদ্দাম, এডিসি আইমান এবং ওসি উত্তরা পশ্চিম থানার নেতৃত্বাধীন একটি টিম।
তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মিরপুর পল্লবী এলাকা থেকে মূল আসামি রাশেদ মিজানকে গ্রেফতার করেন।
উত্তরা বিভাগের উপ- পুলিশ কমিশনার মুহিদুল ইসলাম আজ বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদ মিজান স্বীকার করেছে, সে ৬০ লক্ষ টাকা চুরি করেছে।
তার দেখানো তথ্যমতে অভিযান চালিয়ে তার বাসা থেকে ৩০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
তিনি আরো বলেন, রাশেদ মিজানের দেয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে কোম্পানির অপর এক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে ২৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। সাইফুল গাজীপুরে একটি ফ্যাক্টরিতে কর্মরত এবং সাভারের ব্যাংক কলোনিতে বসবাস করে।
ডিসি মহিদুল ইসলাম আরো বলেন, রাশেদ মিজান স্বীকার করেছে গত ০৩/১০/২০২৫ তারিখে সকাল ও সন্ধ্যায় দুটি ধাপে সে অফিস থেকে টাকা সরিয়ে নেয়। সকালে অফিস গেটের দারোয়ানের কাছে একটি ব্যাগে টাকা রেখে পরে রাতে সেটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, থানায় মামলা হওয়ার পর পর
উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই, এসআই (নিরস্ত্র), কনস্টেবল ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম রাতভর অভিযান চালায়। উত্তরা জোনের এডিসির তত্ত্বাবধানে এবং ডিবি পুলিশের সহায়তায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। কোটি টাকার অভিযোগের বাকী টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি মহিদুল ইসলাম বলেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে অনুমান করে টাকার পরিমান উল্লেখ করেছেন। তবে আমাদের জিজ্ঞাসাবাদে মনে হয়েছে রাশেদ মিজান ৬০ লাখ টাকা নিয়েই পালিয়েছে। এই ঘটনায় আরো জড়িত আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন এ সব বিষয়ে তদন্ত চলছে।