হাফসা আক্তারঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি ঢাকা-১৮ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কার্যক্রম বেড়েছে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলের তৃণমূলের মধ্যে ত্যাগ, জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক প্রভাবকে ঘিরে তীব্র আলোচনা চলছে। এখনো কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দিন যতই বাড়ছে পাড়া মহল্লায় বইছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়, সেই সাথে চায়ের দোকান গুলোতে কর্মী সমর্থকদের মাঝে বাড়ছে হতাশার ছাপ। প্রশ্ন একটাই ত্যাগীদের মুল্যায়ন করা হবে তো?
তৃণমূলের প্রশ্ন-দীর্ঘদিন ঝুঁকি নেওয়া, গ্রেপ্তার ও নির্যাতন সহ্য করা এবং দলীয় কাঠামো ধরে রাখায় যারা অবদান রেখেছেন, তারা কি অগ্রাধিকার পাবেন? তবে যারা সারাবছর মাঠে আছেন, তাদেরই সংগঠনের মূল শক্তি হিসেবে দেখা হয়। উপনির্বাচনকালীন খরচ ও এলাকায় দমন-পীড়নের বিষয়গুলোও এখন আলোচনায়।
দলের ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, রাজনীতি শুধু কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করে না,জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ ভোটাররা বলেন,জনপ্রিয়তা কাগজে নয় মাঠে ও দেখা যায়। দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, আসনের বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ে সক্রিয় নেতাদের প্রভাবও মনোনয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তৃণমূলের শক্তি উপেক্ষা করলে দলের কর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হতে পারে। গ্রেপ্তার ও নির্যাতন সহ্য করা, সংগঠন ধরে রাখা-এসব ত্যাগকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দিলে কর্মীদের মন ভেঙে যেতে পারে
পাশাপাশি তারা আরো বলেন,নেতা কর্মীদের ক্ষোভের কারণে বিএনপি হারাতে ও পারে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন সংগ্রামের অন্যতম হটস্পটের এ আসনটি।
এদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা এলাকায় নিজেদের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ সিনিয়রিটি ও কেন্দ্রের আস্থাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, আবার কেউ অতীত অবদানকে বড় প্রমাণ মনে করছেন, আবার কেউ উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রধান মানদণ্ড হিসেবে দেখছেন।
প্রশ্ন উঠছে, ত্যাগীদের কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে? বিগত আন্দোলন ও সংগ্রামে কার ঝুঁকি নেওয়ার রেকর্ড বেশি? মাঠের কর্মীরা কার পক্ষে সমর্থন জানাচ্ছেন? জনগণের মাঝে কার পরিচিতি সবচেয়ে দৃশ্যমান? সাংগঠনিক ক্ষমতা বা ইউনিটের বড় অংশের নেতাকর্মীর আস্থা কার দিকে? এই সব হিসাবই এখন মনোনয়ন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারীরা বলছেন,
ঢাকা-১৮ রাজধানী কেন্দ্রিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন।তাই দলীয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে যাচাই-বাছাই ও মাঠপর্যায়ের মূল্যায়নের ভিত্তিতে। দল বাঁচাতে হলে মাঠের লোককেও গুরুত্ব দিতে হবে।এই আসন কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল।ভুল সংকেত গেলে তৃণমূলের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে।তাই সিদ্ধান্ত হবে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে। এখন প্রশ্ন হলো-ত্যাগ, জনপ্রিয়তা নাকি সাংগঠনিক শক্তি-কোন মানদণ্ডের ভিত্তিতে কাকে দল চূড়ান্ত করবে মনোনয়ন? উত্তরাবাসী তাকিয়ে আছে দলীয় সঠিক সিদ্ধান্তের দিকে।